ত্রিপুরা

বাঙ্গালির বারো মাসে তেরো পার্বণের মধ্যে একটি অন্যতম পার্বণ মকর সংক্রান্তি উৎসব।

নিউজ বেঙ্গল ৩৬৫ ডেস্ক,তেলিয়ামুড়া প্রতিনিধি: বাঙ্গালির সংস্কৃতিতে পৌষ পার্বণ এক অন্যতম আকর্ষণ। পৌষ সংক্রান্তি বা মকর সংক্রান্তি মানেই হিন্দু বাঙ্গালীদের চিরাচরিত বিশেষ উৎসব। বলা চলে, বাঙ্গালির বারো মাসে তেরো পার্বণের মধ্যে একটি অন্যতম পার্বণ এই মকর সংক্রান্তি উৎসব। পৌষ মাসের অন্তিম দিনে এই উৎসব অনুষ্ঠিত হয় বলে গ্রামবাংলায় চলতি ভাষায় অনেকেই উৎসবটিকে পৌষ পার্বণ নামেও অভিহিত করে থাকে। যান্ত্রিক ব্যবস্থার যুগে আমরা সভ্যতাকে যতই এগিয়ে নিয়ে যাই না কেন,বিজ্ঞানের অগ্রগতিতে আমরা যতই উপরে উঠি না কেন তার পরেও চিরাচরিত সংস্কৃতি আমাদের পিছু টানছে। আর চিরাচরিত সংস্কৃতি আমাদের পিছুটানলেও হারিয়ে যাচ্ছে পুরনো দিনের সেই রীতি-রেওয়াজ গুলো। সেই আগের মত পৌষ পার্বণের আনন্দ আজ আর যেন নেই। তারপরেও গ্রামাঞ্চলে এখনো কিছু তার আভাস পাওয়া যায়। কিন্তু তাতেও আধুনিকতার ছোঁয়া লেগেছে। তেলিয়ামুড়া শহর থেকে অমরপুর যাওয়ার রাস্তা ধরে খানিকটা পথ এগিয়ে গিয়েই গামাই বাড়ি এলাকা। গ্রামের অধিকাংশই শ্রমজীবী এবং কৃষক অংশের মানুষজন। পৌষ সংক্রান্তির এক-দুই(১-২)দিন আগে থেকেই গ্রামের গৃহিণী থেকে শুরু করে গ্রামের প্রবীণ বৃদ্ধারাও ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন আলপনা দেওয়ার কাজে। বড়ো উঠোনে নানা রঙ্গের আলপনা দিয়ে সাজিয়ে তোলা হচ্ছে উঠোন। তেলিয়ামুড়া মহাকুমার গামাইবাড়ি এলাকার ৮০ ঊর্ধ্বো বৃদ্ধা তথা প্রেমলতা ভৌমিকের বাড়িতে গিয়ে এমন দৃশ্য প্রত্যক্ষ করা গেল। বাড়ির উঠোনে চালের গুড়ি, সাদামাটি, ও বিভিন্ন রকম রঙ্গের ব্যবহার করে সুন্দর আলপনা দিতে ব্যস্ত ৮০ ঊর্ধ্বো বৃদ্ধা প্রেমলতা ভৌমিক। তিনি জানান, আগের দিনের চালের গুড়ি, সাদামাটি ইত্যাদি দিয়ে আলপনা দেওয়া হতো, এবং সেই জিনিস গুলির কদর ও ছিল। কিন্তু বর্তমানে বিভিন্ন রকমের রং ব্যবহার করে আলপনা আঁকা হয়, ফলে চালের গুড়ি, সাদামাটি প্রভৃতি সামগ্রীর কদর নেই। প্রেমলতা দেবীর কথায় স্পষ্ট,পূর্বপুরুষদের স্মৃতি আঁকড়ে ধরে রাখতে আলপনা তারা উঠোনে দিয়ে থাকেন।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

8 + 12 =

Back to top button