ত্রিপুরা

বন্দিহাতির নিঃশব্দ কান্না।

নিউজ বেঙ্গল ৩৬৫ ডেস্ক, তেলিয়ামুড়া, পার্থ রায়:- একদিকে রাজ্যের খোয়াই জেলার বিভিন্ন জঙ্গল লোগোয়া গ্রামগুলিতে বন্যহাতির তাণ্ডবে যখন মানুষ নাজেহাল তখন অপর দিক দিয়ে মালিকানাধীন বন্দি হাতির মাধ্যমে বনদপ্তর এর ব্যবসায়ীরা বিশাল বড় বড় গাছ কেটে হাতিকে দিয়ে লগ বহন করাচ্ছে নিজেদের অর্থের ভান্ডার স্পিত করার জন্য। এমনই এক নিদারুণ দুঃখজনক ঘটনা ক্যামেরাবন্দি হয়ে আসলো তেলিয়ামুড়া মহকুমার আঠার মুড়া পাহাড় থেকে। বলা যেতে পারে প্রতিবছরই খোয়াই জেলার বিভিন্ন প্রত্যন্ত অঞ্চলে বেশ কিছু বন্য হাতি খাদ্যের সন্ধানে জনবহুল এলাকাগুলিতে তান্ডব চালায়। এ থেকে বাড়িঘর ভাঙচুর ক্ষেতের সব্জি ফসল নষ্ট এমনকি বেশকিছু প্রাণহানির মতো ঘটনাও ঘটে গেছে। আর এক্ষেত্রে যখন বন্য হাতির দল তাণ্ডব চালায় জঙ্গল লাগোয়া গ্রামগুলিতে তখন তাদের হিংস্র তান্ডব লীলায় যে যেদিকে পারে পালিয়ে প্রাণ বাঁচায়। কারণ সে যে মুক্ত বন্য হাতি। তার হিংস্রতার সামনে বনদপ্তর এর কর্মীরাও হার মানে। শেষমেষ জনজীবনকে রক্ষা করতে তাদের যাতায়াতে দিক পরিবর্তন করতে বাধ্য হয় বনকর্মীরা। অন্যদিকে কিছু মালিকানাধীন বন্দি হাতির করুণ দশা লক্ষ্য করা যায় যখন বিশালআকার দৈত্যের মতো গাছগুলি কেটে টুকরো টুকরো করে এই বন্দি হাতিগুলোকে দিয়ে বহন করানো হয়। কারণ সে তো মালিকানাধীন বন্দি নিরুপায় শেকল বাঁধা তার পায়ে। তাকে যা আদেশ করা হয় তাই মানতে হয়। আর তা না হলে যে খাবার জুটবে না পেটে। নাইবা মালিকের ঘরে যাবে লক্ষ লক্ষ টাকা। বন্দী হাতিটির দ্বারা সম্ভব হোক বা নাই হোক তাকে বিশাল আকার গাছের লগ গুলিকে যে বহন করতেই হবে। এমনই এক হৃদয়বিদারক ঘটনার সাক্ষী হলাম আমরা। আঠার মুড়া পাহাড় এর আসাম আগরতলা জাতীয় সড়ক কে দু দিক দিয়ে বাড়ানোর ক্ষেত্রে রাস্তার দু’পাশের বিশাল আকার গাছগুলি বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। তেলিয়ামুড়া মহুকুমা বন দফতরের উদ্যোগে বর্তমানে চলছে মূল্যবান গাছ গুলির নিধন যজ্ঞ। সেই কাজেই ব্যবহৃত হচ্ছে একটি মালিকানাধীন বন্দী হাতি। সেখানে হাতিটির মহাউট যেভাবে হাতিটিকে আদেশ করছেন সেই ভাবেই যেন হাতিটি লগ গুলি টানতে বাধ্য হচ্ছে। একসময় হাতিটির চোখ দিয়ে জল পড়তে শুরু হয়। মনে হচ্ছিল হাতিটির বিশ্রাম দরকার, আর গাছের লগ গুলি টানতে পারবে না। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস সে যে মালিকানাধীন বন্দি তাকে পয়সা রোজগারের জন্য এই লগ গুলি টানতে হবে। এরকম বন্দী হাতির দৈন্য দশা দেখে অনেকেই দুঃখ প্রকাশ করেন। আর যাই হোক স্বাধীন আর পরাধীনতার শৃংখল কতদূর মজবুত সেটাই মনে প্রশ্ন জাগে শুভবুদ্ধি সম্পন্ন লোকের মধ্যে। হয়তোবা পয়সা রোজগারই শেষ কথা নয় সীমিতভাবে যদি এই বন্দি হাতিগুলোকে দিয়ে কাজ করানো হয় তাহলে হয়তো বা এই হাতিটির এত যন্ত্রণায় কাতর হতো না। এটাই আমাদের মানব সভ্যতা। সভ্যতার অন্তরালে একটি বন্যহাতির নিঃশব্দ কান্না আমরা দেখতে পাই না।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button