প্রযুক্তি

সরকারি দপ্তরে বিএসএনএল ও এমটিএনএল ছাড়া আর কোন কোম্পানি নয়।

নিউজ বেঙ্গল ৩৬৫ ডেস্ক :- টেলিকম কোম্পানিগুলির মধ্যে ভারত সঞ্চার নিগম লিমিটেড এবং মহানগর টেলিফোন নিগম লিমিটেড এর অবস্থা যে খুব শোচনীয় তা আমরা কমবেশি সবাই জানি। নিত্য নতুন অফার দিয়ে বিএসএনএল বাজার ধরার চেষ্টা করলেও তা এখনও পর্যন্ত সফল হয়নি। কিন্তু এবার সরকারের পক্ষ থেকে এই দুটি সংস্থাকে পুনরুদ্ধার করার জন্য একটি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। কেন্দ্র সরকার এখন থেকে সমস্ত পাবলিক সেক্টর ইউনিট ও বিভাগে বিএসএনএল ও এমটিএনএল-এর পরিষেবা নেওয়া বাধ্যতামূলক করে দিয়েছে। এই নতুন নীতি টেলিকম সংস্থার পক্ষেই লাভজনক হবে বলে আশা করা যাচ্ছে। একইসঙ্গে সরকারি দপ্তরেও বিএসএনএল ও এমটিএনএল ছাড়া আর কোন কোম্পানির পরিষেবা গ্রহণ করা যাবে না।
দূরসঞ্চার বিভাগের নির্দেশে বলা হয়েছে, ভারত সরকারের সমস্ত মন্ত্রক, বিভাগ, CPSE, কেন্দ্রীয় স্বয়ংক্রিয় পরিষদগুলিতেবিএসএনএল ও এমটিএনএল-এর বাধ্যতামূলক ব্যবহারে ভারত সরকার স্বীকৃতি জানিয়েছে। এই নির্দেশনামার সঙ্গে একটি চিরকুট দেওয়া হয়েছিল, তাঁতে লেখা রয়েছে বিএসএনএল ও এমটিএনএল-এর বাধ্যতামূলক ব্যবহারের এই নির্দেশ ক্যাবিনেট থেকে এসেছে। সমস্ত সরকারি দপ্তরকে এবার থেকে বিএসএনএল ও এমটিএনএল-এর পরিষেবাই ব্যবহার করতে হবে। ল্যান্ডলাইন, ব্রডব্যান্ড, ইন্টারনেট বা লিজ লাইন সার্ভিস সমস্ত পরিষেবা বিএসএনএল, এমটিএনএল থেকে নিতে হবে।
দূরসঞ্চার বিভাগের সিদ্ধান্ত নিঃসন্দেহে বিএসএনএল ও এমটিএনএল উভয়ের পক্ষে লাভজনক হবে। ২০১৯-২০ আর্থিক বছরে বিএসএনএল-এর ক্ষতির পরিমাণ ছিল ১৫,৫০০ কোটি টাকা, যেখানে এমটিএনএল-এর ক্ষতির পরিমাণ ছিল ৩,৬৯৪ কোটি টাকা। ভারতীয় ব্রডব্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিতে কঠিন প্রতিযোগিতার ফলে বিএসএনএল বেশ চাপের মধ্যে পড়ে গিয়েছিল। ২০০৮ সালের নভেম্বর মাসে বিএসএনএল-এর ব্রডব্যান্ড গ্রাহক ছিল ২.৯ কোটি। এই বছর জুলাইয়ে তা নেমে হয়েছে মাত্র ৮০ লাখ। এমটিএনএল-এর গ্রাহক সংখ্যা ২০০৮-এ ছিল ৩৫.৪ লাখ যা এই বছর নেমে হয়েছে ৩০.৭ লাখ। বিএসএনএল গত মাসে তাদের সভরেন গ্যারেন্টি বন্ড থেকে ৮,৫০০ কোটি টাকা তুলেছে, যাতে তারা দেশ জুড়ে তাদের নেটওয়ার্ক বাড়ানোর কাজ চালিয়ে যেতে পারে। নতুন করে সরকারের এই সিদ্ধান্ত বিএসএনএল ও এমটিএনএল এর পালে যে হাওয়া দেবে সে বিষয়ে কোন সন্দেহ নেই বললেই চলে।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button