রাজ্য

পনের টাকা দিতে না পারায় ছয়মাসের অন্তঃস্বত্যা মহিলা আত্মঘাতি।

নিউজ বেঙ্গল ৩৬৫,ইসলামপুর : পনের টাকা দিতে না পারায় ছয়মাসের অন্তঃস্বত্যা মহিলা আত্মঘাতি। পুলিশের কাছে মৃত্যার পরিবারের পক্ষ থেকে ছেলে সহ ছয়জনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে। ঘটনাটি ইসলামপুর আগডিমটি গ্রাম পঞ্চায়েতের কালুবস্তি গ্রামে। পুলিশ দেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ইসলামপুর হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেছেন মৃতার পরিবার। জানা গেছে,মাস আটেক আগে ইসলামপুর থানার আগডিমটি গ্রাম পঞ্চায়েতের কালুবস্তি গ্রামের বাসিন্দা আজমিরা বেগমের সঙ্গে মুসলমান শাস্ত্র মতে মোহর হয় বাঁশবাড়ির গ্রামের বাসিন্দা পারভেজ আলমের। মোহরে পণ হিসেবে তিন লক্ষ কুড়ি হাজার টাকা ঠিক হয়েছিল। পণ বাবদ অগ্রীম এক লক্ষ সত্তর হাজার টাকা দেওয়া হয়েছিল। মোহর হয়ে যাওয়ার পর আজমিরা এবং পারভেজের মধ্যে মেলামেশা এবং সহবাস হয় বলে অভিযোগ। সহবাসে আজমিরা ছয়মাসের অন্তঃস্বত্যা হয়ে পড়েছিল। আজমিরা অন্তঃস্বত্যা হয়ে পরার পর আগামী ৩ মার্চ বিয়ের দিন ঠিক করেন আজমিরার পরিবার। পারভেজ আলমের পরিবার পণের টাকা পরিশোধ না করা পর্যন্ত বিয়ে দিতে রাজী নন। পারভেজের পরিবার এই দাবি জানার পর আজমিরার পরিবার বসতবাড়ি বিক্রি করে দেবার সিদ্ধান্ত নেন। বসতবাড়ি বিক্রি করতে গিয়ে দেখেন সেই জমি সরকারি ভেষ্ট জমি। সেই জমি বিক্রয় যোগ্য নয়। সেটা জানার পর চরম সমস্যায় পড়েন আজমিরার পরিবার। অন্যদিকে আজমিরার গর্ভস্থ সন্তান অস্বীকার করেন পারভেজ আলম। পারভেজের এই সিদ্ধান্ত জানার পর আজমিরার পরিবার ভেঙ্গে পড়েন। এদিকে অন্তঃস্বত্যা অন্যদিকে বিয়ে হবে কি না এই অনিশ্চিয়তা তৈরী হওয়ায় গতকাল রাতে বাড়িতেই গলায় ফাঁস লাগিয়ে আজমিরা আত্মহত্যা করেন। আজ সকালে তার ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। এই ঘটনা জানাজানি হতে এলাকায় ব্যপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।খবর ইসলামপুর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে মৃতদেহ উদ্ধার করে। মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ইসলামপুর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। মৃতার দাদা নূর আলম ইসলামপুর থানায় পারভেজ আলম সহ পরিবারের ছয়জনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।মৃতার আত্মীয় মৈলানা সাজ্জাদ আলম জানান, আট মাস আগে দুজনের মোহর হয়েছিল। তিন লক্ষ কুড়ি হাজার টাকা পণ দেবার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। অগ্রীম হিসেবে এক লক্ষ সত্তর হাজার টাকা দেবার পরও বাকি টাকা দিতে পারে নি। এই আট মাস সময়ে আজমিরা অন্তঃস্বত্যা হয়ে পড়েছিল।আগামী ৩ মার্চ বিয়ের দিন ঠিক হওয়া সত্বেও আজমিরার পরিবার পণের বাকি টাকা যোগার করতে পারে নি। মোহরের পর আটমাসের মধ্যে আজমিরা অন্তঃস্বত্যা হয়ে পড়ে। পণের টাকা না পেয়ে পারভেজের পরিবার বিয়ে করতে অস্বীকার করায় হতাশায় ভেঙে পড়েন। সেই হতাশা থেকেই আজমিরা আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে বাধ্য হন।সাজ্জাদের দাবি যারা আজমিরা মৃত্যুর জন্য দায়ী তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। এছাড়াও বিয়ের জন্য পণপ্রথার বিলুপ্তের দাবি করেছেন।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

two × 2 =

Back to top button