রাজ্য

করোনার কারণে এবার কৃষ্ণনগর ডায়সেসের অধীন নদিয়া জেলার কোনও গির্জায় রাত ৯টার পর কোনও অনুষ্ঠান হবে না।

নিউজ বেঙ্গল ৩৬৫ ডেস্ক, নদীয়া : করোনা অতিমারির কারণে এ বার কৃষ্ণনগর ডায়সেসের অধীন নদিয়া জেলার কোনও গির্জায় রাত ৯টার পর কোনও অনুষ্ঠান হবে না। অতিমারির আবহে আমূল বদলে যাচ্ছে এবারের বড়দিনের উদ্‌যাপন। সারা পৃথিবীতে খ্রিস্টভক্তেরা ২৫ ডিসেম্বর মধ্যরাতে ঐতিহ্যগত ভাবে জিশুর জন্মদিন পালন শুরু করেন। উদ্‌যাপন চলে পঁচিশের সারা দিন জুড়ে। কিন্তু মধ্যরাতে গির্জাঘরের ওই বিশেষ প্রার্থনা বা খ্রিস্টযাগ যার মাধ্যমে খ্রিস্ট জন্মোৎসবের সূচনা হয় এ বার প্রথাগত ভাবে তা হচ্ছে না। মধ্যরাতের পরিবর্তে জিশুর জন্মদিন উপলক্ষে খ্রিস্টযাগ ২৫ ডিসেম্বর সকাল থেকে দফায় দফায় অনুষ্ঠিত হবে, যাতে একটি প্রার্থনায় বেশি সংখ্যক মানুষের ভিড় না হয়। বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত ভাবে জানাচ্ছেন কৃষ্ণনগর ক্যাথিড্রাল চার্চের প্রধান। তিনি বলেন, “কলকাতার আর্চ বিশপের নির্দেশমতো এ বার ২৫ ডিসেম্বর রাজ্যের অন্য জায়গার সঙ্গে কৃষ্ণনগর ডায়াসেসের কোথাও রাত্রি ৯টার পর কোনও অনুষ্ঠান হবে না। যা হবে ২৪ সন্ধ্যায় এবং ২৫ সকালে। সেখানেও গির্জাঘরের আয়তন অনুযায়ী যত লোক ধরে, তার অর্ধেক নিয়ে খ্রিস্টযাগের অনুষ্ঠান হবে।” নদিয়ায় ছোট-বড়  ক্যাথলিক চার্চ আছে, যেগুলি কৃষ্ণনগর ডায়সেসের অধীন। ওই চার্চগুলি সাতটি প্যারিশে বিভক্ত। কোনও চার্চেই এ বার পঁচিশের মধ্যরাতে উদ্‌যাপন হচ্ছে না।ডায়সেসে প্রধান কেন্দ্র হিসাবে শুধুমাত্র কৃষ্ণনগর ক্যাথিড্রালে মধ্যরাতের প্রাথনা হবে। তাতে কেবল মাত্র পুরোহিতেরা ছাড়া কেউ অংশ নিতে পারবেন না। তবে ওই অনুষ্ঠান ভার্চুয়াল মাধ্যমে দেখে খ্রিস্টভক্তরা মনে মনে অংশ নিতে পারেন। ২৫ ডিসেম্বর সকাল থেকে সব গির্জায় খ্রিস্টযাগে অংশ নেবেন ভক্তেরা। সেখানে সকলেই যাতে অংশ নিতে পারেন সেই জন্য কৃষ্ণনগর চার্চে ২৫ ডিসেম্বর এ বার পাঁচ বার প্রার্থনা হবে। বড়দিনের উদ্‌যাপন ২৫ ডিসেম্বর থেকে ১ জানুয়ারি পর্যন্ত চলে। এ বার চেনা ছকের বাইরে সম্পূর্ণ অন্য উদ্‌যাপন। মধ্যরাতের প্রার্থনায় এ বার ভার্চুয়ালি অংশ নেবেন ভক্তরা। ২৪ ডিসেম্বর রাত ১১.৪৫ থেকে অনলাইন খ্রিস্টযাগে সকলেই যোগ দিতে পারবেন। পঁচিশের সকালে বিভিন্ন সময়ে পাঁচটি, ৩১ ডিসেম্বর দু’টি এবং ১ জানুয়ারি চারটি করে খ্রিস্টযাগ অনুষ্ঠিত হবে। আমরা বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানিয়ে দিয়েছি কোন প্রার্থনায় কোন এলাকার মানুষের জন্য নির্দিষ্ট করা হয়েছে।” বড়দিনের সপ্তাহের কৃষ্ণনগর চার্চ ঘিরে যে মেলা বসত, এবার তা-ও হচ্ছে না। প্রশাসনের তরফে স্থায়ী দোকান করে মেলার অনুমতি দেওয়া হয়নি।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

17 − thirteen =

Back to top button