রাজ্য

সারা রাজ্যে আমি একমাত্র অবজারভার তৃণমূল দলের : মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

নিউজ বেঙ্গল ৩৬৫ ডেস্ক,বাঁকুড়া : বুধবার দুপুরে বাঁকুড়া ১ নম্বর ব্লকের সুনুকপাহাড়ি ময়দানে রাজ্যের উৎসুক মানুষদের হাজারো প্রশ্নের জবাব শুরুতেই দিয়ে দিলেন। অবজারভার প্রসঙ্গে বলেন, ‘সারা রাজ্যে আমি একমাত্র অবজারভার তৃণমূল দলের। আমি কোন নেতা নই। সারা রাজ্যে কোথায় কি হচ্ছে এ টু জেড সব সময় পর্যবেক্ষণ করছি। এতদিন আমার একটু চাপ ছিল তাই কিছুটা রাশ ঢিলে করেছিলাম। বাঁকুড়া থেকে ফের শুরু করলাম। কারণ গ্রাম ছাড়া ওই রাঙামাটির পথ আমার খুব প্রিয়, মন ভুলিয়ে দেয়’। বুধবার দুপুর ১টা ৭মিনিটে মঞ্চে এসে ১টা ১৫ মিনিটে বক্তব্য শুরু করেন বাঁকুড়ার সুনুকপাহাড়ি ময়দানে দলীয় কর্মীসভায়। শুরুতেই এই বার্তা দিলেন তৃনমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নিজেকে অবজারভার ঘোষণা করে বললেন, ‘কে কোথায় রাতে গাড়ি নিয়ে যাচ্ছে, কে কোথায় কোন ধান্দায় যাচ্ছে সব নজরে আছে। দলে ১০০ জনেই খারাপ নয়, একজন দুজন খারাপ হলে শুধরে নেব। যারা দলে থেকে ধান্দাবাজি করছে তারা হল ছাগলের তৃতীয় সন্তান’। বিজেপির নাম করে বলেন, ‘বাংলা টাকার কাছে আত্মসমর্পণ করে না। আপনারা জিতেছেন আমরা শান্তিতে আছি, আগামী দিনে বিজেপিকে বলতে হবে বাংলায় পারলাম না। দিল্লিতে দাঙ্গা, আসামে বাঙালি খেদাও চলছে। আমরা এই রাজ্যে আদিবাসীদের অধিকার সুরক্ষিত করেছি। বিরসা মুন্ডার জন্ম দিনকে ছুটি ঘোষণা করেছি। বিজেপি আমাদের মুলো বলেন আমরা মুলো নই আমরা ঘাসের উপরে মনোরম জোড়া ফুল। একই বৃন্তে হিন্দু এবং মুসলমান’। তৃণমূল সুপ্রিমো দলীয় কর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘সিপিএম, বিজেপি জোট বেঁধেছে। রাজ্যের বিপর্যয়ের সময় ওদের দেখা নেই। ওরা রাজ্যের শান্তি কেড়ে নিতে দিল্লি থেকে লোক পাঠাচ্ছে। ওরা বাংলার লোক নয়। আমি ভিন রাজ্যে আটকে পড়া পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য রাজ্যের কোষাগার থেকে ৩০০ ট্রেনের ব্যবস্থা করেছিলাম। আর বিজেপি লুকিয়ে লুকিয়ে কখনো পুলিশ কখনও বা প্রেস মিডিয়ার মারফত টাকা দিচ্ছে ভোট কেনার জন্য, রাজ্যে অশান্তি করার জন্য। তৃণমূল করতে হলে ত্যাগী হতে হবে, ভোগী হলে চলবে না’। তিনি সিপিএম বিজেপিকে কটাক্ষ করে বলেন, ‘সিপিএম হল লোভি, বিজেপি হল ভোগী, তৃণমূল হল ত্যাগী’। তিনি বলেন, ‘সিপিএম নির্লজ্জ ওরা বিজেপির পায়ে লুটোপুটি খাচ্ছে। কারণ সারদা, নারদা জন্ম দিয়েছিল সিপিএম। জেলের ভয় আছে’। তিনি বলেন, ‘ক্ষমতা থাকলে আমাকে গ্রেপ্তার করুক, জেলে থেকেই লড়াই করব। লালুকে কি ওরা আটকাতে পেরেছে। এখন বিজেপি নেতারা অস্তমিত। গোমূত্র খেলেন তাতেও করোনা আটকাতে পারলেন না। আবার সোনা বের করতে পারলেন না। এখন ছল ধরেছে গোবরধন। আমি বলি আগে ঘুটে দিতে শিখুন, একটা অপদার্থ রাজনৈতিক দল। কয়লার খনি বিক্রি করে দিচ্ছে, এমপি লেডের টাকা দিচ্ছেনা, উন্নয়নের টাকা বন্ধ। আমাদের রাজ্য থেকে টাকা তুলে নিয়ে গিয়ে একটা অংশ দেয়। সেটা ফলাও করে প্রচার করছে কেন্দ্র দিচ্ছে , কেন্দ্র দিল, কিন্তু কোথা থেকে টাকাটা এলো সেটা বলছে না, জমি লুটের ব্যবস্থা করেছে। ধান-চাল আলুর দাম কেন বাড়ছে আর আপনারা আমার কাছে অভিযোগ জানাতে পারবেন না। সেই অধিকারটা কেন্দ্রীয় সরকার কেড়ে নিয়ে কালোবাজারিদের হাতে তুলে দিয়েছে। বলছে কৃষকদের টাকা দিতে চাই। ভালো কথা আমি চিঠি লিখে বলেছি টাকাটা রাজ্য সরকারকে দেন, প্রত্যেকটি চাষির একাউন্টে দায়িত্ব নিয়ে পাঠিয়ে দিব। অথচ আমরা কৃষক বন্ধুদের বছরে ৫ হাজার টাকা দিচ্ছি, শস্য বীমার টাকা দিচ্ছি, জমির মিউটেশন তুলে দিয়েছি। তবুও ওরা আমাদের গালাগালি দিচ্ছে কাজ করছি বলে, আমরা ওদের চক্ষুশূল, তাই ওরা হবে নির্মূল। ভোটে যদি ওরা টাকা দিতে আসে নিবেন টাকা, আর ভোট বাক্স করবেন ফাঁকা’। মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নাম না করে বলেন, ‘ফাইভ স্টার হোটেল থেকে বাসমতি চালের ভাত, পোস্ত বড়া আনিয়ে সাঙ্গোপাঙ্গকে পাশে বসিয়ে মানুষকে প্রতারণা করেছেন।আদিবাসীদের বাড়িতে একটি অসুস্থ মেয়ে ছিল তার চিকিৎসার প্রলোভন দেখিয়ে তার বাড়িতে খাওয়ার ব্যবস্থা করেছিল ওরা। সাঙ্গোপাঙ্গ নিয়ে ছবি তোলার জন্য পাত পেড়ে খাওয়া-দাওয়া করেছে মিথ্যাবাদীরা। কিন্তু আমি আদিবাসী দের ঘরে গিয়ে চাদর সরিয়ে সেই খাটে বসে মেয়েদের কাছে খোঁজখবর নিয়েছি। বিজেপি বলছে মমতা দুর্গা পুজো করতে দেয় না। ক্লাবগুলোর প্রয়োজন ছিল তাই পুজোর জন্য ৫০ হাজার টাকা করে দিয়েছি। ওদের কাছে আমাদের ধর্ম শিখতে হবে না’। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলার মনীষীদের নাম বলে বলেন, ‘এত মিথ্যা কথা বলতে পারে এই মাটিতে ভাবতেই অবাক হই। বিনা পয়সায় চাল চিকিৎসা শিক্ষা জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত মানুষের পাশে আছে আমাদের সরকার’। তিনি বলেন, ‘মাটি সৃষ্টি প্রকল্পে রাজ্যে ২৫ হাজার বিঘা জমিতে সুফলা করে তোলা হচ্ছে। ডানকুনি থেকে রেল লাইনের ধারে ফেড করিডর করছি। এগুলোতে ২৫ লক্ষ মানুষের কর্মসংস্থান হবে। তিনটি স্তরে ৭২ লক্ষ্য স্কলার্শিপ দিয়েছি পড়ুয়াদের। বিদেশে পড়তে গেলে কুড়ি লক্ষ টাকা ঋণের ব্যবস্থা করেছি। সাঁওতালি একাডেমি করেছি।জয় জোহার জয়বাংলা প্রকল্পে সকল তপশিলি জাতি এবং উপজাতির মানুষরা ৬০ বছর বয়স হলে এক হাজার টাকা করে ভাতা পাচ্ছেন। আগামী ১ ডিসেম্বর থেকে ক্যাম্প করে ফের পরিষেবা দেওয়ার ব্যবস্থা করেছি। পুরোহিত ভাতা বেকার যুবকদের জন্য কপাটি ব্যাংক থেকে দু লক্ষ বাইক ছাড়াও আশা কর্মী এবং আইসিডিএস কর্মীদের জন্য সুখবর এর ইঙ্গিত দিলেন’। তিনি বলেন, ‘এক কোটি মানুষ সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। বিনা পয়সায় হার্ট অপারেশন থেকে শুরু করে পলিটেকনিক আইটিআই নতুন কলেজ হটিকালচার প্রকল্পে উন্নয়নের জোয়ার এসেছে বাঁকুড়ায়। কৃষক বন্ধু মারা গেলে দু লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হচ্ছে’। মুখ্যমন্ত্রী বিজেপিকে তীব্র কটাক্ষ করে বলেন, ‘দিল্লি সরকারের কাছে তিনশ পয়ষট্টি দিনেই এপ্রিল ফুল। আমাদের সরকার সামাজিক ও মানবিক সরকার, দানবিক নয়। আমরা দেশকে টুকরো টুকরো করতে দেব না। আমাদের মধ্যে কেউ খারাপ হলে দূর করে সরিয়ে দিই’। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘২০১১ আগে একটা ছোট্ট ধাক্কাধাক্কি কে কেন্দ্র করে অমিয় পাত্ররা ৫৩৭ জনের নামে কেস দিয়েছিল। কোতুলপুর এর শিহড়ের ঘটনায় শিহরিত হতে হয়। সিপিএমের ভয় পুকুরের জলে গলা পর্যন্ত ডুবিয়ে শীতের রাতে মানুষকে আত্মরক্ষা করতে দেখেছি। আহত ছেলের জন্য জল আনতে গিয়ে মা এসে দেখেন ছেলের কাটা মুন্ডু গড়াগড়ি খাচ্ছে। ওরা সুড়ঙ্গ দিয়ে ডেড বডি পাচার করত। সেই জগাই মাধাই গদাইরা একজোট হয়ে ভোটের ময়দানে নেমেছে’। তৃণমূল সুপ্রিমো দলের ছাত্র-যুব মহিলাদের নির্দেশ দেন আগামী ছয় মাস  অতন্দ্র প্রহরী হয়ে কাজ করার। কয়েকশো ঢাকের বাদ্য সাথে সাথে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য সভাস্থল অন্য মাত্রায় পৌঁছে যায়। সেই সাথে বলেন, ‘এবার যারা টাকা দিয়ে ভোট কিনতে আসবে তাদের খপাখপ ধরব।২০২১এ বাংলার জয় দেশকে বিজেপি মুক্ত করার সূচনা হবে’। তিনি আত্মপ্রত্যয় এর সাথে বলেন, ‘আমরা জিতছি জিতবো’। দুপুর দুটো চার মিনিটে তিনি তাঁর বক্তব্য শেষ করেন।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

eighteen + 7 =

Back to top button