রাজ্য

তৃণমূল আর দিদির দল নয় : মিহির গোস্বামী

নিউজ বেঙ্গল ৩৬৫ ডেস্ক: ফের বিস্ফোরক মিহির গোস্বামী। এবং তা প্রকাশ্যেই। মঙ্গলবার সকালে নিজের  দলের প্রতি ক্ষোভ উগড়ে দিলেন কোচবিহার (দক্ষিণ) এর তৃণমূল বিধায়ক মিহির গোস্বামী। বহুদিন ধরেই রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মন্তব্য ছিল, দলের রাশ আলগা হয়েছে মমতা বন্দোপাধ্যায়। আর এবার তা খোলাখুলি তাতেই সিলমোহর দিলেন “বিদ্রোহী” তৃণমূল বিধায়ক মিহির গোস্বামী। মঙ্গলবার নিজের ফেসবুকে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন , ” আমার দল আর আমার নেত্রীর হাতে নেই, অর্থাৎ এই দল আর আমার নয়, হতে পারে না। তাই এই দলের সঙ্গে সমস্ত রকমের সম্পর্ক ছিন্ন করাটাই কি স্বাভাবিক নয়?”- আর তারপর থেকেই তা সোশ্যাল মিডিয়ায়  ভাইরাল হতে শুরু করেছে।  কোচবিহার ( দক্ষিন) এর বিধায়ক  মিহির গোস্বামী আরও বলেন, “সংগঠন থেকে আমার অব্যাহতি নেওয়ার ঘোষণা করার পর ৬ সপ্তাহ কেটে গিয়েছে। এই ৪৩ দিনে আমি সব দলের কাছ থেকে এক বা একাধিক ফোন কল পেয়েছি, কথা বলেছি। কিন্তু গত ৬ সপ্তাহে খোদ নেত্রীর কাছ থেকে কোনও ফোন আসেনি। কোনও বরখাস্তনামা কিংবা বহিষ্কারের নির্দেশও আসেনি তাঁর কাছ থেকে। এর থেকেই স্পষ্ট, দলের ক্ষমতা দলনেত্রীর হাতে নেই।” যদি  এর আগেও বহুবার তৃণমূল নেতৃত্বকে অস্বস্তিতে ফেলেছেন মিহির গোস্বামী। একাধিকবার  মন্তব্য করে উস্কে দিয়েছেন দল ছাড়ার জল্পনাও। তবে এখানেই থেমে থাকা নয়, শুধু এইটুকুতেই থেমে যাওয়া নয়,  ক্ষুব্ধ তৃণমূল নেতা ফেসবুকে আরও লেখেন, ‘‌বহুকাল পরে এবার এক নিস্প্রভ দীপাবলী দেখে মন বিষণ্ণ হয়েছিল। তেমনই ভেবে বিস্মিত হয়ে যাই, যে দলের অভিধানে ‘সম্মান’ বলে শব্দটিই অনুপস্থিত সেই দলে ২২টা বছর কাটিয়ে দিলাম! কী করে সম্ভব হল, কেন তা সম্ভব হল এসব প্রশ্ন উঠে আসে নিজের মনেই! উত্তর একটাই খুঁজে পাই, দিদি! দলের ভেতর অজস্র অপমান, অবমাননা ক্রমাগত সহ্য করে গিয়েছি অকারণে, চুপ করে থাকার জন্য শুভানুধ্যায়ীরাও বিরক্ত হয়েছেন বারবার। কিন্তু আমার উত্তর একটাই ছিল, দিদি! যার উপর বিশ্বাস–আস্থাতেই এতদিন টিকেছিলাম।’‌ মিহির গোস্বামীর কথায়, ‘‌মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্ব মেনে দীর্ঘ ৩০ বছর অতিক্রম করার পর হঠাৎ বোধগম্য হয়েছে, এ দল এখন আর আমার দিদির দল নয়, দিদি এখানে নিস্পৃহ। তাই ‘‌দিদির লোক’‌ এখানে অপ্রয়োজনীয় ও গুরুত্বহীন। অন্যায্য সবকিছু মেনে নিয়ে ‘‌যো হুজুর’‌ করে টিকে থাকতে পারলে থাকো, নয়ত তফাৎ যাও।”

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button