রাজ্য

বেচারাম মান্নার সঙ্গে কোনভাবেই সমঝোতা সম্ভব নয়, জানিয়ে দিলেন সিঙ্গুরের মাস্টারমশাই।

নিউজ বেঙ্গল ৩৬৫ ডেস্ক : ফের বিস্ফোরক তৃণমূলের মাস্টারমশাই। এর আগে সিঙ্গুরের সাংগঠনিক রদবদলে অপছন্দ হওয়ায় সরাসরি দলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দল ছাড়ার হুশিযারী দিয়েছিলেন সিঙ্গুরের বিধায়ক রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য। প্রাথমিকভাবে বুঝিয়ে সুজিয়ে মাস্টারমশাইয়ের মানভঞ্জন করে তৃণমূল রাজ্য নেতৃত্ব। এরপর আবার বিদ্রোহ ঘোষনা করেন দলে মাস্টারমশাইয়ের বিরোধী বলে পরিচিত হরিপালের বিধায়ক বেচারাম মান্না। বিধায়ক পদ থেকে ইস্তফার কথা জানান। হস্তক্ষেপ  করতে হয় স্বয়ং সুব্রত বক্সীকে। দুই তরফকেই একসঙ্গে কাজ করার বার্তা দেওয়া হয় দলের তরফে। তবে সেই টোটকা কাজে এল না তৃণমূলের। দলের নির্দেশ থাকলেও কোনভাবেই বেচারাম মান্নার সঙ্গে সঙ্গে কাঁধে কাঁধ রেখে  তার পক্ষে বিধানসভা নির্বাচনে লড়াই করা কার্যত অসম্ভব, বলে পরিষ্কার করে দিলেন সিঙ্গুরের বিধায়ক রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য। শুক্রবার দলের নির্দেশে বেচারাম মান্না রীতিমতো সাংবাদিক সম্মেলন করে জানিয়ে দিয়েছিলেন, আগামী দিনে রবীন্দ্রনাথবাবুকে সঙ্গে নিয়েই একজোট হয়ে লড়াই করবেন। তবে তা যে কার্যত অসার তা মনে করিয়ে দিয়ে শনিবার ‘মাস্টারমশাই’  পাল্টা জবাব দিলেন। বললেন, “বেচারাম মান্নার এই কথা বিশ্বাস করতে পারছি না।”  নিজের ঘনিষ্ঠ মহাদেব দাসকে ব্লক সভাপতির পদ থেকে সরিয়ে দিতেই দলের বিরুদ্ধে ফোস করে উঠেন সিঙ্গুরের বিধায়ক। এদিনও বেচারামের  “সবরকমভাবে সহযোগিতার” প্রসঙ্গ তুলে পালটা প্রশ্ন ছুঁড়ে তিনি বলেন, “তাহলে ওর  মহাদেব দাসকে ব্লক সভাপতি মেনে নিতে সমস্যা কোথায়?” এমনকী তার বিধানসভা এলাকায় বেচারাম মান্না এক্তিয়ারের বাইরে গিয়ে “নাক গলাচ্ছেন” বলে দাবী করে  রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য  বলেন, “বেচারাম মান্না হরিপালের  বিধায়ক হিসাবে হরিপালের সভাপতি ঠিক করতে পারেন, আর  সেখানে আমি সিঙ্গুরের বিধায়ক হিসেবে স্থানীয় সভাপতি নির্ধারণ করতে পারব না? বেচারাম মান্না কোন অধিকারে নাক গলিয়ে তাঁর পছন্দমতো সভাপতি নির্বাচন করেন? যাঁকে সভাপতি হিসেবে বেচারাম মান্না বেছে নিয়েছেন তাঁকে কোনওমতেই মেনে নেওয়া সম্ভব নয়।” একসঙ্গে কাধে কাধ মিলিয়ে চলার  প্রশ্নে বেচারাম মান্নার বিরুদ্ধে রীতিমতো তোপ দেগে রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য জানান,” আমি  যখন সভাপতি ছিলাম  তখন সিঙ্গুরের কার্যালয় ব্যবহার করার জন্য অনুরোধ করা সত্ত্বেও আমাকে তার চাবি দেওয়া হয়নি। একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটেছে প্রাক্তন ব্লক সভাপতি মহাদেব দাসের ক্ষেত্রেও। তাই বারবার অপমান সহ্য করার পর আর নতুন করে সিদ্ধান্ত বদল করা আমার পক্ষে সম্ভব নয়।”  নিজের এলাকা ছেড়ে অন্য বিধানসভার সব কাজে হরিপালের বিধায়কের নাক গলানো কিছুতেই মেনে নেবেন না বলে জানিয়েছেন মাস্টার মশাই ঘনিষ্ঠ তৃণমূল নেতা-কর্মীরা। এমনকী  মাস্টারমশাইয়ের দেখানো পথেই তারা হাঁটবেন বলে জানিয়েও দিয়েছেন।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

5 × one =

Back to top button