রাজ্য

বাড়ছে সমর্থন। মুক্তমঞ্চ ফিরে পাওয়ার দাবীতে এবার কল্যানীতে একজোট শিল্পীরা।

বিশ্বজিত ইন্দ্র, নিউজ বেঙ্গল ৩৬৫ ডেস্ক, নদীয়া : কেউ গাইছেন গান, কেউ বা বাজাচ্ছেন মাউথ অর্গান, গীটার বা কাহোন। কারো গলায় আবৃত্তি। তবে কোন মঞ্চে নয়। সবাই হাজির রাস্তায়। করোনার অতিমারীতে প্রায় ৮ মাস বন্ধ সাংস্ক্রিতিক অনুষ্ঠান। সারাবছর ধরে যারা মঞ্চেঅনুষ্ঠান করেন জীবিকার নির্বাহের পাশাপাশি মনোর্ঞ্জ্নের কাজও করেন, সেই শিল্পীরাই এই করোনার কারণে সরকারি বিধিনিষেধের গেরোয় ” মঞ্চহীন”, তারই প্রতিবাদে আজ পথে নামল কল্যানী মহকুমা শিল্পী সংসদ। “শিল্পীর পাশে শিল্পীরাই”- এই স্লোগানকে সামনে রেখে কল্যাণী এসডিও অফিসের সামনে গানে- কবিতায়-বাজনায় নিজেদের দাবী তুলে ধরলেন মন্দিরা, প্রান্তিকা, জয়, বিশ্বরূপের মতো মঞ্চ শিল্পীরা। প্রায় ৮ মাস কার্যত কর্মহীন রাজ্যের কয়েকহাজার মঞ্চ শিল্পী। অভাবে কেউ বেছেছেন অন্য পেশা, তা সে সব্জি বা মাছ বিক্রি হোক অথবা ফাস্টফুডের দোকানের কর্মচারী। সার্বিকভাবে কোভিডের “অজুহাতে” এ বিপন্ন মঞ্চশিল্পীরা। বুধবার সেই মঞ্চ ফিরে পেতেই একজোট তারাই। কেন এই প্রতিবাদ? কল্যানী মহকুমা শিল্পী সংসদের আহ্বায়ক জয়িতা পাল দাশগুপ্ত বলেন,” হ্যা আমরা বিপন্ন। আসলে আমাদের কোন রঙ নেই তাই হয়ত সব বিধিনিষেধ আমাদের উপর। আস্তে আসতে সব কিছুই স্বাভাবিক হচ্ছে, মদের দোকানে ভীড় বাড়ছে, রাজনৈতিক সভা-সমিতিও হচ্ছে। সমস্যা শুধু মুক্তমঞ্চেই। তাই আমরা একজোট।” ইতিমধ্যে ১ নভেম্বর রাজ্যের তরফে বেশকিছু গাইডলাইন মেনে অনুষ্ঠান করার অনুমতি দিয়েছে নবান্ন, কিন্ত জেলাস্তরে এখনও অনুষ্ঠানের অনুমতি নিয়ে টালবাহানা করছে প্রশাসন, এমনকী সরকারি নির্দেশেও বেশকিছু স্বচ্ছতা আছে বলেও অভিযোগ সংগঠনের আরও এক আহ্ববায়ক প্রণয় ঘোষ। তিনি বলেন,” এখন আর আমি আমি বলে থাকার সময় নেই। সবাইকে এক হতে হবে। আমরা শুনেছি সরকার থেকে নাকি নির্দেশিকা দেওয়া হয়েছে। অথচ স্থানীয় প্রশাসন সেই নির্দেশকে না,মেনেই অনুষ্ঠানের অনুমতি দেওয়া নিয়ে টালবাহানা করছে। অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না। আমাদের প্রশ্ন যেখানে সরকার বলছে, সেখানে কেন স্থানীয়ভাবে এই অনুমতি দেওয়া নিয়ে বাহানা করা হচ্ছে।” যেখানে গোটা দেশজুড়ে আনলক চলছে, সেখানে কেন শিল্পীদের সঙ্গে এই বৈষম্য? প্রশ্ন তোলেন কল্যানী মহকুমা শিল্পী সংসদের অন্যতম আহ্বয়াক সুমন গাঙ্গুলী। তার মতে,” আসলে এমন একটা বিষয় বোঝানো হচ্ছে যে শিল্পীরাই করোনা ছড়াচ্ছে। আসলে আমরা কর দিনা, মনোরঞ্জন দি। তাই হয়ত আমাদের উপরই বিধিনিষেধ নেমে এসেছে। সব কিছ্ব সচল। মদের দোকান, রেস্তরাঁ, রাজনৈতিক মিটিং-মিছিল। সমস্যা শুধু মুক্তমঞ্চে। দেখুন আমাদের বাচার পথ আমাদেরই খুজে নিতে হবে। আর তাই আমরা আজ পথে।” কল্যানী মহকুমা এলাকার প্রবীন মাউথ অর্গান শিল্পী অনুপম পাল বলেন,” আমি বহুদিন ধরে এই জগতে আছি। তবে এই ৮ মাসে বুঝেছি আমাদের কেন সংগঠিত হওয়া দরকার। আসলে ক্রাইসিস অনেককিছু শিখিয়ে দেয়। দু:খ শুধু একটাই আমাদের বিভিন্নভাবে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ব্যবহার করলেও অসময়ে কেউ পাশে দাড়ায়নি, তাই আমরাই নিজেরা নিজেদের পাশে।” এদিন সংগঠনের তরফে ৭ দফা দাবীপত্র তুলে দেওয়া হয মহকুমা শাসকের হাতে।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button