রাজ্য

নন্দীগ্রামের মঞ্চ থেকে ‘ভারতমাতা জিন্দাবাদ’ শ্লোগান তুলে জল্পনা বাড়িয়ে দিলেন শুভেন্দু।

নিউজ বেঙ্গল ৩৬৫ ডেস্ক : তিনি মানেই জনস্রোত। যা থেকে বাদ গেল না মঙ্গলবারের নন্দীগ্রাম। আর সেই জনসমুদ্রের মাঝে দাঁড়িয়ে মঙ্গলবার নন্দীগ্রামে তেখালির সভামঞ্চ থেকে নাম না করেই নিজের দলের বিরুদ্ধেই একের পর হুঙ্কার দিলেন রাজ্যের মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এদিন ছিল নন্দীগ্রাম দিবস। এই প্র্থম নয়, ভূমি উচ্ছেদ প্রতিরোধ কমিটির ডাকে ১৩ বছর ধরে অরাজনৈতিক ব্যানারে চললেও এই প্রথম দলেরই হেভিওযেট মন্ত্রীর সভার পাল্টা সভা করল তৃণমূল। ইতিমধ্যে শুভেন্দু অধিকারীর এই সভাকে কার্যত কটাক্ষ করতে পিছ পা হচ্ছে না তৃণমূল। রাজনৈতিক মহলের মতে, শুভেন্দুর সভাকে চ্যালেঞ্জ জানাতেই ১২ বছরে প্রথম নন্দীগ্রামে সভা করল তৃণমূল। এতদিন “ভূমি উচ্ছেদ প্রতিরোধ কমিটির” নামে তৃনমূলের হয়েই এই কর্মসূচি করে এসেছেন শুভেন্দু। ছেদ এবারেই। আর তাও সকাল ১০ টার পাল্টা বিকেল ৩ টে। তবে তার সঙ্গে যে তৃণমূলের “মধুচন্দ্রিমা ” প্রায় শেষের মুখে তা খানিকটা বুঝিয়ে দিয়ে দিয়ে শুভেন্দুর কটাক্ষ, ‘‌নন্দীগ্রামের কথা ওরা মনে রেখেছে বলে ভাল লেগেছে। খুব ভাল লেগেছে। তবে ১৩ বছর পর নন্দীগ্রামের কথা মনে পড়েছে?‌’‌ আর এভাবেই একপ্রকার নাম না করে তৃণমূলকে আক্রমণ শানিয়ে রাখলেন তিনি। আক্রমণ করেই শুভেন্দু অধিকারী কারও নাম না নিয়ে বলেন, ‘‌ভোটের আগে আসবেন, ভোটের পরেও তো আসতে হবে।’‌ সোমবারই শুভেন্দু অধিকারীর তেখালির এই সভাকে গুরুত্ব না দিয়ে গোটা নন্দীগ্রাম আন্দোলনকে মমতা বন্দোপাধ্যায়ের ” ক্রেডিট” বলে সংবাদমাধ্যমের কাছে তুলে ধরেন ফিরহাদ। রাজনৈতিক মহলের মতে, আসলে যা ছিল শুভেন্দুর প্রতি চুড়ান্ত অবজ্ঞার বহি:প্রকাশ। তবে এদিনের ভীড়ে ঠাসা সভা থেকে নাম না করে পাল্টা শুভেন্দু বলেন, “নন্দীগ্রাম আন্দোলনে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে লড়াই করেছি। আমি নতুন লোক নই। চেনা বামুনের পৈতে লাগে না। নন্দীগ্রাম আন্দোলন শুভেন্দু অধিকারী বা অন্য কোনও ব্যক্তির নয়। এই আন্দোলন স্বতঃস্ফূর্ত মানুষের আন্দোলন।’‌ যার ইঙ্গিত আসলে খোদ দলনেত্রীর দিকে ছিল বলেই মত রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের। এদিনের নিজের বক্তৃতায় একবারের জন্য উচ্চারণ করেন নি মমতা বন্দোপাধ্যায়ের নাম, শুভেন্দু অধিকারীর মুখে আনেননি তৃণমূলের নামও। যদিও এই জনপ্লাবনের আসল চমক সভার শেষ দিকে। একদিকে নাম না করে তৃণমূলকে কটাক্ষ, অপরদিকে শুভেন্দুর মুখে ‘‌ভারতমাতা জিন্দাবাদ’‌ স্লোগান, আরও জল্পনা বাড়িয়ে দিল। এদিনের সভা শেষে উপস্থিত সকলকে নিয়ে সমস্বরে উচ্চরিত হয় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘‌চিত্ত যেথা ভয়শূন্য’। আর তার পরই ‘‌জয় বাংলা’‌র সঙ্গে সঙ্গে শোনা গেল ‘‌ভারতমাতা জিন্দাবাদ’‌— স্লোগানও। যা আসলে বিজেপি–র ট্রেডমার্ক স্লোগান। খুব স্বাভাবিকভাবেই এদিনের এই ‘‌অরাজনৈতিক’‌ সভামঞ্চ থেকে মমতা বন্দোপাধ্যায়কে শুভেন্দু সরাসরি বার্তা দিলেন বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। প্রতি বছরই এই স্মরণ অনুষ্ঠান ঘিরে জনসমাগম হয় ভালই, কিন্তু এবার যেন সব রেকর্ড ভেঙে দেয়। আর ভীড় দেখে আত্মবিশ্বাসী শুভেন্দু এও বললেন,” কথা হবে রাজনৈতিক মঞ্চে।”

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button