রাজ্য

ফের অভিযোগের তীর পিকের টিমের বিরুদ্ধে, সন্মান না পেলে দল ছাড়বেন নন্দকুমারের তৃনূমুল বিধায়ক।

নিউজ বেঙ্গল ৩৬৫ ডেস্ক: দিন দিন ক্ষোভ বাড়ছে টিম পিকের বিরুদ্ধে।  মিহির গোস্বামী, শীলভদ্র দত্তের পর এবার সুকুমার দে। সন্মান না পেলে দল ছাড়ার কথা স্পষ্ট করে দিলেন পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দকুমারের তৃণমূল বিধায়ক সুকুমার দে। আর এবারও কাঠগড়ায় সেই টিম পিকে। এর আগে কমিটি গঠন নিয়ে দলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন কোচবিহার( দক্ষিন)এর তৃণমূল বিধায়ক মিহির গোস্বামী। তারও ও অভিযোগের তীর ছিল টিম পিকের বিরুদ্ধে। একইভাবে বিজয়া সন্মেলনে দাড়িয়ে  দলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে  ২১ এর ভোটে আর প্রার্থী হবেন না বলে জানিয়ে দেন ব্যারাকপুরের তৃণমূল বিধায়ক শীলভদ্র দত্ত। আর এবার সুকুমার দে। পরিচয়ে তিনি নন্দকুমারের তৃণমূল বিধায়ক। ৮০ সাল থেকে সক্রিয় কংগ্রেস নেতা। আর প্রথমদিন থেকে মমতা বন্দ্পাধ্যাযের সঙ্গে  রয়েছেন তিনি। এমনকি পরপর দু’‌বার নন্দকুমারের বিধায়কও হয়েছেন । সেই তিনি কী না কাদতে কাদতে দল ছাড়ার কথা  বলছেন! বুধবার পূর্ব মেদিনীপুর জেলা ও ব্লক কমিটির ঘোষনা করেন জেলা সভাপতি শিশির অধিকারী। জেলা কমিটির ব্লকস্তরের নেতাদের নাম ঘোষণা করা হয়। আর তাতে দেখা যায় নন্দকুমার ব্লকে সভাপতির পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে স্থানীয়  বিধায়ক সুকুমার দে’কে। তার  বদলে ব্লক সভাপতি করা হয়েছে সুকুমার বেড়াকে। পূর্ব মেদিনীপুর জেলার রাজনীতিতে যাদের সম্পর্ক সাপে-নেউলে। আর সেই সুকুমার বেড়াকেই ব্লক সভাপতি হিসাবে মানতে নারাজ বিধায়ক সুকুমার দে। অভিযোগ, এই রদবদলের গোটাটাই হয়েছে টিম পিকে’র নির্দেশে। গোটা বিষয়ে প্রচন্ড ক্ষুব্ধ সুকুমার দে। আর  এভাবেই ফের পূর্ব মেদিনীপুরে তৃণমূলের অন্দরে কোন্দল প্রকাশ্যে উঠে এল। আর এই ঘটনায় অপমানে প্রয়োজনে দল ছাড়ার কথাও জানিয়ে দিলেন তিনি। আর তাও  রীতিমতো চোখে জল ফেলে।  ক্ষোভ জানালেন সুকুমার দে। জেলা রাজনীতিতে শুভেন্দু অধিকারীর অনুগামী হিসাবে পরিচিত নন্দকুমারের বিধায়ক। সংবাদমাধ্যমের সামনে ক্ষোভ উগরে তিনি বলেন,” দল যা মনে করেছে  তা–ই করেছে। এখানে আমার কিছু বলার নেই। তবে আমার সিদ্ধান্ত আমি এক সপ্তাহের মধ্যে জানাবো। ইতিমধ্যে আমার যে মূল নেতৃত্ব, তার সঙ্গে যা কথা বলার দুপুরে বলে নিয়েছি। তিনি যা বলবেন সেই সিদ্ধান্তই নেব।” এমনকী প্রযোজনে যে তিনি দলও ছাড়তে দ্বিধা করবেন না, তাই স্পষ্ট করে তিনি বলেন, ” পরিস্থিতি সেইরকম হলে বাধ্য হয়ে দল ছাড়ার ভাবনা করতে হবে।”  আর এই দল ছাড়ার কথা বলতে গিয়েই কেঁদে ফেলেন নন্দকুমারের বিধায়ক। কাঁদতে কাঁদতে বলেন, ‘‌তো কি করব? সন্মান না পেলে দল ছেড়ে দেওয়া ছাড়া আর কি করবো। ” দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এই সন্মান না পাওয়ার বিষয় টি হল আসল। অভিযোগ, বহুদিন ধরেই টিম পিকে’র ছেলেদের কথায় বিভিন্ন কারণে যথেষ্ট অপমানিত সুকুমার দে। একাধিক বিষয় এই বিধায়কের সঙ্গে মতবিরোধ টিম পিকের। যা মেনে নিতে পারছেন না তিনি। ইতিমধ্যে গোটা বিষয়টি   তিনি সুব্রত বক্সিকে জানিয়েছেন । এবং পাশাপাশি ‘‌আর এক নেতা’‌কে তিনি এ ব্যাপারে অবগত করেন। আর এখানেই প্রশ্ন কে এই ‘‌নেতা’‌ ? তিনি কি শুভেন্দু অধিকারী?‌ জেলায় এই বিধায়ক শুভেন্দু ঘনিষ্ঠ। যদিও এই নেতার নাম খোলসা না করলেও এই “নেতা”র নির্দেশই যে তার কাছে শেষ কথা তাও বুঝিয়ে দিয়েছেন সুকুমারবাবু। রাজনৈতিক মহলের মতে, আগামী একসপ্তাহের মধ্যেই  সেই ” অদৃশ্য নেতা” সিধান্ত জানাবেন সুকুমার দে’কে। এমনকী সেই “নেতার” কাছ থেকে তৃণমূল ছাড়ার নির্দেশও আসতে পারে বলে নিজের বক্তব্যে ইঙ্গিত দিয়েছেন এই বিধায়ক। যদিও ব্যাপারে সদ্যনিযুক্ত ব্লক সভাপতি সুকুমার বেরার দাবি, ‘নতুন প্রজন্ম হিসেবে আমি সুকুমার দে–র হাত ধরে তাঁকে দলে নিয়ে এসেছিলাম। আমি খুশি তিনি বিধায়ক হয়েছেন। কিন্তু তিনি যে এভাবে আমার বিরোধীতা করছেন, তাতে আমি ভগবানের কাছে প্রার্থনা করি ওঁর সুমতি হোক।’‌

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

five × five =

Back to top button