রাজ্য

অবশেষে দুর্গাপুর ব্যারেজের ভাঙা লকগেট মেরামতির কাজ শুরু হল।

নিউজ বেঙ্গল ৩৬৫ ডেস্ক, বাঁকুড়া :- বুধবার দুপুর থেকে দুর্গাপুর ব্যারেজের ভাঙা লকগেট মেরামতির কাজ শুরু হল। জানা গেছে এখন থেকে প্রায় ২৪ ঘন্টা পর সংস্কারের কাজ সম্পূর্ণ হলে ডিভিসি তাদের মাইথন জলাধার থেকে জল ছাড়া শুরু করবে। জল ছাড়া শুরু হলে ব্যারেজে জল আসা এবং ৮ ফুট উচ্চতায় জল আসতে সময় লাগবে আরও ৬ ঘণ্টার মত। সবকিছু ঠিকঠাক চললে বৃহস্পতিবার মাঝরাতের আগে স্বাভাবিক হবেনা শিল্পশহর দুর্গাপুর এবং বাঁকুড়ার বড়জোড়া মেজিয়া শিল্পাঞ্চল সহ ডিভিসির মেজিয়া তাপবিদ্যুৎ প্রকল্প। মেজিয়া বিদ্যুৎ প্রকল্পের খবর, তাদের রিজার্ভারে বৃহস্পতিবারের মধ্যে জল এলেও আরো একটি আড়াইশো মেগাওয়াটের ইউনিট বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এখানে রিজার্ভারে জলের পরিমাণ সমুদ্রতলের বেশ কিছুটা নিচে নেমে গেছে। ফলে নির্দিষ্ট সীমারেখা পার হতে আর বেশী সময় নেই বলে মনে করছেন বিদ্যুৎ প্রকল্পের কর্তারা। প্রকল্পের ডিজিএম প্রবীর চাঁদ বলেন, এদিনও তারা ৮১০ মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারেননি জলের অভাবে। সারা ভ্যালিতে গতকালের চেয়ে ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন কম হয়েছে ডিভিসির। বুধবার ডিভিসির ৭ টি তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে মোট উৎপাদন হয়েছে ৩৬৫৪ মেগাওয়াট! মঙ্গলবার ছিল ৩৭৫০ মেগাওয়াট। তাদের রঘুনাথপুরে ১২৪০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন দুটি ইউনিটের একটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সেখান থেকে উৎপাদন হয়েছে ৪৫৭ মেগাওয়াট । তবে অন্ডাল ও কোডারমা ৫০০ মেগাওয়াটের ৪ টি ইউনিট থেকে যথাক্রমে ৯৬১ ও ৯৬২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হওয়ায় দেশের চাহিদার ঘাটতির কিছুটা মেটানো সম্ভব হয়েছে ডিভিসির। এদিকে বাঁকুড়া জেলায় পানীয় জলের সমস্যা চরমে উঠলেও তার মোকাবিলা জেলা জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তর ৩ টি জল শোধনকারী ভ্রাম্যমাণ গাড়ি থেকে জলের পাউচ তৈরি করে বিলি করেছে। পাশাপাশি ৪৫ টি ট্যাংকার বিভিন্ন গ্রামে গিয়ে জল সরবরাহ করেছে। ফলে সমস্যার মোকাবিলা সম্ভব হয়েছে। কিন্তু গত ৫ দিন ব্যারেজ জল শূন্য থাকায় বড়জোড়া মেজিয়া শিল্পাঞ্চলের বেশ কয়েকটি কারখানা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। যে ঠিকা সংস্থা লকগেট মেরামতির কাজ করছেন তার এক ক ম্যানেজার শ্যামলেন্দু পাল বলেন, বুধবার দুপুরের পর আমরা লকগেট ঝালাইয়ের কাজ শুরু করতে পেরেছি। কমপক্ষে ২৪ ঘন্টা সময় লাগবে। যদি সব কিছু ঠিক থাকে তাহলে বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত আমরা কাজ শেষ করতে পারবো। এদিকে বর্তমান পরিস্থিতিতে যা অবস্থা তাতে মনে হচ্ছে ব্যারেজে জল আসতে বৃহস্পতিবার রাতও গড়িয়ে যেতে পারে। ততক্ষণে অনেক কিছু বদলে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন দুই জেলার মানুষ।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

4 × 3 =

Back to top button