রাজ্য

৬ষ্ঠ পে-কমিশন চালুর দাবিতে বড়জোড়া কংসাবতী কো-অপারেটিভ স্পিনিং মিলে অনশন কর্মীদের ।

নিউজ বেঙ্গল ৩৬৫ ডেস্ক, বাঁকুড়া:- গত একমাস ধরে ধরনা অবস্থান করার পর আন্দোলনের শেষ ধাপ আমরণ অনশনে বসলেন বড়জোড়া কংসাবতী কো-অপারেটিভ স্পিনিং মিলের ১৬ জন কর্মী। এদের মধ্যে ৪ জন মহিলা কর্মীও রয়েছেন। তারা অবশ্য দাবি না মেটা পর্যন্ত দৈনিক সকাল ৬ টা থেকে সন্ধ্যা ৬ টা পর্যন্ত ১২ জন পুরুষ কর্মীর সঙ্গে অনশনে থাকবেন। এই কংসাবতী স্পিনিং মিলে ২৬৭ জন স্থায়ী ও ৫০ জন অস্থায়ী কর্মী রয়েছেন। অস্থায়ী কর্মীদের স্থায়ীকরণের দাবিও জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। এই কারখানায় কর্মী সংগঠন গুলির মধ্যে নির্বাচন হলে তৃণমূল একাই প্রায় সব সদস্যের ভোট পায়। তৃণমূল শ্রমিক সংগঠনের নির্বাচিত প্রতিনিধি হন প্রদীপ নন্দী। তিনি বলেন, আমরা দাবি আদায় করতে চাই কারখানা সচল রেখেই। তাই গত ১ মাস আমরা কারখানার গেটের সামনে রোটেশন করে ধরনা অবস্থান করছিলাম। আমাদের উদ্দেশ্য রাজ্য সমবায় মন্ত্রকের দৃষ্টি আকর্ষণ করে ষষ্ঠ পে-কমিশন চালু করানো। কিন্তু আমাদের দুর্ভাগ্য গত ১ মাস ধরে আন্দোলন করেও আমরা তাতে সফল হয়নি। তাই বাধ্য হয়ে আমরণ অনশনের দিকে এগিয়ে গেলাম। আমরা কিন্তু এরপরও উৎপাদনে কোনো ব্যাঘাত ঘটতে দিচ্ছি না। ৩ শিফটে উৎপাদন যেভাবে হয় সেভাবেই চলবে। তিনি আরো বলেন, রাজ্য সরকারের অধীনে ৬ টি স্পিনিং মিল রয়েছে। তার মধ্যে কল্যাণী ও রায়গঞ্জের কারখানা দুটি সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে রয়েছে বেশ কিছুদিন ধরে। অথচ গত ২৮ জুলাই এই বন্ধ কারখানা দুটিসহ তাম্রলিপ্ত কো-অপারেটিভ স্পিনিং মিলের কর্মীদের জন্য ষষ্ঠ বেতন কমিশন লাগু হয়ে গেল। বন্ধ কারখানার কর্মীরা কাজ না করেও ৩০- ৩৫ হাজার টাকা মাসিক মাইনে পাচ্ছেন। অথচ বড়জোড়া, বীরভূমের ময়ূরাক্ষী ও হুগলির শ্রীরামপুর কো-অপারেটিভ স্পিনিং মিলের কর্মীরা কাজ করেও ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা মাইনে পাচ্ছেন। তাই আমাদের কর্মীরা এই বৈষম্য এবং ষষ্ঠ বেতন কমিশন চালুর দাবিতে আমরণ অনশনে বসতে বাধ্য হয়েছেন। অনশনকারী নবচরণ মন্ডল বলেন, একজন জন মজুর আমাদের থেকে বেশি মাইনে পান! অথচ আমরা এতটাই অধম যে আমাদের জন্য কেউ ফিরেও তাকান না! বড়জোড়ার বাম বিধায়ক সুজিত চক্রবর্তী বলেন, রাজ্য সরকার স্পিনিং মিল গুলি বন্ধ করার চক্রান্ত করেছেন! তিনি বলেন, তৃণমূলের শ্রমিক সংগঠনের সদস্যরাই তাদের সরকারের উপর আস্থা হারিয়ে আন্দোলনের চরম পথ বেছে নিয়েছেন। এটাও বড়জোড়া কংসাবতী কো-অপারেটিভ স্পিনিং মিল বন্ধ করার প্রথম ধাপ। তৃণমূলের জেলা শ্রমিক সংগঠনের সভানেত্রী অলকা সেন মজুমদার বলেন, আমি শুনেছি ওখানে কর্মীরা অনশনে বসেছেন। এ ব্যাপারে আমি সমবায়মন্ত্রী সঙ্গে আগেই কথা বলেছি। ফের কথা বলবো যাতে দ্রুত সমস্যার সমাধান হয়ে যায়। আগামীকালই আমি অনশনকারীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করব। অন্যদিকে বাঁকুড়া জেলা শ্রম কমিশনার তাপস দত্ত বলেন, কর্মীরা ধরনা অবস্থান করছিলেন তা আমাকে জানিয়েছিলেন। আমি রাজ্য সমবায় মন্ত্রকে জানিয়েছি। তার উত্তর এখনো আসেনি। কারখানা গেটে যে অনশন চলছে তা আমাকে জানানো হয়নি। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখছি।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button