রাজ্য

আইন শৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন যারা তোলে তারাই গুন্ডা। টাকা দিয়ে মিথ্যে রটাচ্ছে: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

নিউজ বেঙ্গল ৩৬৫ ডেস্ক: উন্নয়নের বদলে শুধুই  রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে লাগাতার কুৎসা করা হয়। বুধবার নাম না করে এভাবেই বিজেপিকে আক্রমণ করলেন মূখ্যমন্ত্রী মমতা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন  জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার, দার্জিলিং ও কালিম্পং জেলাকে নিযে দ্বিতীয় পর্যায়ের প্রশাসনিক পর্যালোচনা বৈঠকে বসেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানেই বিজেপিকে খোচা দেন তিনি। গেরুয়া শিবিরের বিরুদ্ধে ধর্মীয় ভেদাভেদের অভিযোগ তোলেন তিনি। রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পর থেকে উত্তরবঙ্গকে পাখির চোখ করেন মুখ্যমন্ত্রী। ইতিমধ্যেই একাধিক উন্নয়নমূলক প্রকল্পও নেওয়া হয়েছে। তবে তাতেও চিড়ে ভেজেনি। গত লোকসভা নির্বাচনে পাহাড় থেকে শুরু করে মালদা পর্যন্ত কার্যত সাফ হয়ে যায় জোড়া ফুল শিবির। মালদা বাদ দিয়ে উত্তরবঙ্গের ৮ টি আসনের সব কটিতেই পদ্ম ফোটে। আর তাই ২০২১ এর বিধানসভায় উত্তরে ভাঙন আটকাতে এই কোভিডের মধ্যেও উত্তরের জেলাগুলির আধিকারিকদের নিয়ে প্রশাসনিক বৈঠক করছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় । এদিন  জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার, দার্জিলিং এবং কালিম্পং জেলার দ্বিতীয় পর্যায়ের প্রশাসনিক  বৈঠকেও থেকেই রাজনীতি টেনে আনেন তিনি।  বিরোধীদের খোঁচা দিয়ে  মুখ্যমন্ত্রী  বলেন, “উত্তরবঙ্গজুড়ে যা কাজ হয়েছে তা কখনও হয়নি। তবু দুঃখ কেউ কেউ বলে কোনও কাজ হয়নি। যারা একথা বলে তারা শুধু নিজেদের স্বার্থ বোঝে। যারা আইনশৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন তোলে তারা সবচেয়ে বড় গুন্ডা। হাজারটার মধ্যে একটা ভুল হয়ে গেলেই নৃত্য করবে। টাকা থাকলে মিথ্যে খবর করানো যায়। সোশ্যাল মিডিয়ায় মিথ্যে রটাচ্ছে। রাজনীতি মানে মিথ্যে কথা বলা নয়। রাজনীতি মানে দায়বদ্ধতা।”  আর  তাই এবার কুৎসা আটকাতে বিডিও-আই সি-এসপি-ডিএমদের বাড়তি “টাস্ক” দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। তার বক্তব্য,” বিডিও, আইসি, এসপিরা সোশ্যাল মিডিয়ায় নজর রাখুন। ৫০ হাজার হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ টাকা দিয়ে তৈরি করেছে। আর দাঙ্গা বাধাচ্ছে। দিদি একা দেখবে আর কেউ দেখবে না তা হবে না। মানসিক সন্ত্রাস হচ্ছে। এটা শারীরিক সন্ত্রাসের থেকেও ভয়ংকর। রুখতে হবে।”    এদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিশানায় উঠে আসে ধর্মীয় ভেদাভেদ প্রসঙ্গও। তিনি বলেন, “ধর্ম আমরাও মানি। সব ধর্মকে আমরাও ভালবাসি।” রাজ্যের বিভিন্ন প্রকল্প নিয়ে কেন্দ্র মিথ্যে প্রচার করছে বলেও কটাক্ষ মুখ্যমন্ত্রীর। তাঁর দাবি, “আমরা সাইকেল দিচ্ছি। আর দিল্লি থেকে এসে বলছে ওগুলো দিল্লি থেকে দেওয়া। দিল্লি কা লাড্ডু জানেন তো খেলেই পস্তাবেন।”  এছাড়াও এদিনের বৈঠকে উত্তরবঙ্গের উন্নয়নের খতিয়ানও তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে মূলত পর্যটনের মাধ্যমেই যে উত্তরের জেলাগুলির অর্থনৈতিক পরিকাঠামোর উন্নয়নের লক্ষ্য স্থির করা হয়েছে তা জানান মুখ্যমন্ত্রী।  তবে উন্নয়নকে হাতিয়ার করেই যে উত্তরবঙ্গের হারানো জমি ফেরত পেতে চাইছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, মঙ্গলের পর বুধবারও তা বুঝিয়ে দিলেন তিনি। এদিন বেশকিছু ঘোষনা করেন মুখ্যমন্ত্রী। উত্তরবঙ্গে ১০০ দিনের কাজে জোর দিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি, উত্তরবঙ্গে তৈরি হওয়া একধিক বোর্ডের প্রত্যেককে ১০ কোটি টাকা করে দেওয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এছাড়াও জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ারে বাড়ি  তৈরির দিকে বেশী নজর দেওয়ার নির্দেশও দেন। 

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button