রাজ্য

পঞ্চাযেতে জোড় করে ভোট করানোর জন্য লোকসভায় হার: পার্থপ্রতীম।

নিউজ বেঙ্গল ৩৬৫ ডেস্ক : পঞ্চায়েত নির্বাচনে ভোট লুঠ নিয়ে বিরোধীরা সরব হলেও, তা মানতে নারাজ তৃণমূল। পাল্টা পাশের রাজ্য ত্রিপুরার পঞ্চায়েত নির্বাচনের তথ্য তুলে ধরে সেই অভিযোগ খারিজ করেছে রাজ্যের শাসকদল। তবে এবার দলেরই উল্টো রাস্তায় হেটে কার্যত বিরোধীদের অভিযোগে সিলমোহর দিলেন তৃনূমুল কোচবিহার জেলা সভাপতি পার্থপ্রতীম রায়। জেলা সভাপতি দায়ী করলেন দলের ভুমিকাকেই। জেলার গোপালপুরে একটি জনসভায় তিনি বলেন,” আমরা পঞ্চায়েতে জোড় করে ভোট করিয়েছি। তাই লোকসভায় হারতে হয়েছে।” আর এই মন্তব্যের ফলে অস্ব্স্তিতে রাজ্যের শাসক দল।
 লোকসভায় নিজে সাংসদ পদে না লড়লেও প্রাক্তন সাংসদ দলের হারে ব্যথিত। জেলা তৃণমূলের সভাপতি পার্থপ্রতিম রায় হারের জন্য দায়ী করলেন নিজেদের ভূমিকাকেই। ২০১৩ সালের পর ২০১৮ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনেও তৃণমূল জোর করে ভোট করে বলে অভিযোগ ওঠে। লাগাতার হিংসা, সন্ত্রাস ও ভয় প্রদর্শন করে পঞ্চায়েত দখল করা হয় বলে বিরোধীরা কাঠগড়ায় তুলে এসেছে তৃণমূলকে। এবার সেই অভিযোগই সত্য বলে মান্যতা দিলেন জেলা তৃণমূলের সভাপতি। জেলা তৃণমূলের সভাপতি তথা প্রাক্তন সাংসদ বলেন, “আমরা উত্তরবঙ্গে সমস্ত আসনে হেরেছি লোকসভায়। তার কারণ ২০১৯-এর লোকসভায় মানুষ আমাদের ভোট দেয়নি। কিন্তু কেন মানুষ আমাদের ভোট দিল না। আমরা তো মানুষের জন্য কাজ করেছি। তবু কেন নাকচ করল আমাদের আবেদন?” প্রাক্তন সাংসদের কথায়, ‘আমরা মানুষের উপর আস্থা না রেখে জোর করে ভোট করিয়েছি। অনেক জায়গায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হয়েছে আমাদের পার্টি। ফলে মানুষ ভোট দিতে পারেনি। আর লোকসভায় ভোট দেওয়ার অধিকার পেয়ে তৃণমূলকে জবাব দিয়েছে মানুষ। মানুষ আমাদের শিক্ষা দিয়েছে। আমরা তা থেকে শিক্ষা নিয়েছি। উত্তরবঙ্গে তৃণমূলের হারের আরও একটা বড় কারণ হল অন্তর্দ্বন্দ্ব। তৃণমূল লাগাতার নিজেদের মধ্যে লড়াই চালিয়ে গিয়েছে। আর সেই ফাঁকে তৃণমূল ভাঙিয়েই জিতে বেরিয়ে গিয়েছে বিজেপির প্রার্থী।’ উত্তরবঙ্গে রবীন্দ্রনাথ ঘোষ, পার্থপ্রতিম রায়, উদয়ন গুহের মধ্যে দ্বন্দ্ব জারি থাকায় সুবিধা পেয়েছে বিজেপি। কোচবিহারের বর্তমান জেলা সভাপতি পার্থপ্রতিম রায় ২০১৯-এ লোকসভা নির্বাচনে লড়েননি। তাঁকে টিকিট না দিয়ে পরেশ অধিকারীকে দাঁড় করানো হয়। তিনি বিজেপি প্রার্থী তৃণমূল-ছুট নিশীথ প্রামাণিকের কাছে গোহারা হারেন। এতদিন পর প্রাক্তন সাংসদ দলের ভুল চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিলেন, যা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক তুঙ্গে উঠেছে।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button