রাজ্য

স্বাধীনতার 74 বছর পরেও, স্বাধীন ভারতের একটি গ্রাম প্রাথমিক সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত।

নিজস্ব সংবাদদাতা উঃ দিনাজপুর : স্বাধীনতার 74 বছর পরেও, স্বাধীন ভারতের তৎকালীন একটি গ্রাম প্রাথমিক সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত। এই দৃশ্যটি পশ্চিমবঙ্গের উত্তর দিনাজপুর জেলার গোয়ালপোখার বিধানসভা কেন্দ্রের ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের ফুলবাড়ী গ্রামের। গ্রামটি ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত সংলগ্ন এবং কাঁটাতারের বেড়ার ভিতরে অবস্থিত। এই গ্রামে বিশুদ্ধ পানীয় জলের ব্যবস্থা নেই বা থাকার পাক্কা ঘরের ব্যবস্থা নেই। এখানকার লোকেরা কোনো মতোন ঝুপড়িতে দিন কাটাতে বাধ্য হয়। গ্রামের মহিলা ও পুরুষরা বলছেন যে তারা ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতার বেড়া পার করে বিভিন্ন লোকের কাছে গিয়ে কোনো রকমভাবে মজুরি ইত্যাদি দিয়ে নিজের এবং তাদের পরিবারকে পোষণ করছেন। স্থানীয় লোকেরা বলছেন যে পঞ্চায়েত নির্বাচন থেকে শুরু করে বিধানসভা ও লোকসভা নির্বাচন পর্যন্ত নেতারা এবং জনপ্রতিনিধিরা এসে তাদের সমস্যার সমাধানের আশ্বাস দেন কিন্তু নির্বাচন শেষ হওয়ার সাথে সাথে পরিস্থিতি বদলায় না। রাজ সরকার এবং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের স্বপ্নের প্রকল্প স্বাস্থ্য সাথী, প্রধানমন্ত্রীর ইন্দিরা আবাস যোজনা এবং অন্যান্য প্রাথমিক সুবিধা এখনও এই লোকেরা পায়নি। স্থানীয় বাসিন্দা মোজমুদ্দিন, মনজুর আলম, নাদিম, মোহাম্মদ আলী, বুচি মাই প্রমুখ বলেছেন যে প্রতিটি নির্বাচনে নেতাদের প্রতিনিধি থাকে তবে তাদের কথা শোনার মতো কেউ নেই, কোনও রকমের সাহায্য এমনকি বিপর্যয় ইত্যাদিও হলেও তিরপাল ইত্যাদির মতো মৌলিক সহায়তা তাদের জন্য উপলব্ধ নয়। এখানকার গ্রামবাসীদের দাবি তাদের গ্রাম অন্যান্য গ্রামবাসীর মতো কাঁটাতারের বাহিরে করে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হোক। এই লোকেরা আরও বলেছে যে কাঁটাতারের বাইরে জমি কেনার টাকা না থাকায় তারা কাঁটাতারের ভিতর বসবাস করতে বাধ্য আছেন কেননা বাইরের একটি জমি কিনতে এবং সেখানে বাড়ি তৈরি করতে সক্ষম নয় , এ কারণে তারা তাদের পুরানো জায়গায় কাঁটাতারের ভিতরে জীবন কাটাচ্ছেন। এই লোকেরা আরও বলেছিল যে ছেলে কাঁটাতারের ভিতরে গ্রাম থাকায় লোকেরা এখানে বিয়ে করতে চায় না বলে ছেলে মেয়েদের বিয়ে করতে সমস্যা হচ্ছে। বিভিন্ন ধরণের মান সম্মান আজি করে এবং বিভিন্ন সমস্যা সম্মুখীন এর মধ্যে গ্রামের বাইরে থেকে কোনওভাবে বিয়ে করা হয়।তবে বিএসএফ গ্রামবাসীদের সব ধরণের সহায়তা করে তারা জানিয়েছেন। এই লোকগুলিকে বিভিন্ন কাজের জন্য বেড়ার গেট থেকে বিএসএফের নজরদারিাধীন মধ্য দিয়ে হাসপাতাল, স্কুল পঞ্চায়েত অফিস এবং ভিডিও অফিসের মতো বিভিন্ন জায়গায় যাতাযাত করেন। এমনকি প্রতিদিনের কৃষিকাজ ও মজুরি করার জন্য এই সমস্ত লোককে বিএসএফের তত্ত্বাবধানে যেতে হয়, তাই এই সমস্ত লোকেরা কাঁটাতারের বাইরে তাদের গ্রামগুলিকে বসতি স্থাপনের দাবি করছে। এই লোকেরা বলে যে সীমান্তে থাকা কাঁটাতারের ভিতর থেকে গ্রামের বাইরে রোপণ করা উচিত। এই গ্রামের বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়ার জন্য এলাকার প্রশাসন ও সরকার কর্তৃক একাধিকবার চেষ্টা করা হয়েছে, কিন্তু এই লোকেরা এখনও বাড়ি তৈরির অর্থনৈতিক সমস্যার বিষয়টি সামনে রেখে ওখান থেকে সরছেন না।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

15 + eleven =

Back to top button