রাজ্য

আমফানের হিসেব চাইলে দিদি রেগে যান : মোদী

নিউজ বেঙ্গল 365, নিউজডেস্ক: খড়গপুর সদরের বিজেপি প্রার্থী অভিনেতা হিরণের সমর্থনে খড়গপুর বিএনআর ময়দানে জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে একের পর এক তোপ দাগলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। শনিবার দিল্লি থেকে বিমানে সরাসরি কলাইকুণ্ডায় পৌঁছন প্রধানমন্ত্রী। সেখান থেকে কপ্টারে চড়ে নামেন খড়গপুরের কল্যাণ মণ্ডপ মাঠের অস্থায়ী হেলিপ্যাডে। তারপর সড়কপথে পৌঁছে যান সোজা বিএনআর ময়দানের সভাস্থলে। নির্বাচনী জনসভায় জনজোয়ার দেখে মোদী তাঁর উচ্ছাস চেপে রাখতে পারেননি। তিনি বলেন, ‘মানুষের এই উৎসাহ বলছে, বাংলায় এবার বিজেপি সরকার। এই মাটি ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের, রানি রাসমণির। সাঁওতাল আন্দোলন, স্বাধীনতা আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিল।’এদিন তাঁর বক্তব্যে প্রথম থেকেই তিনি মমতা ব্যানার্জীর বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক ছিলেন। তিনি বলেন, ‘দিদি ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতির জন্য তোষণ করে চলেছেন। দিদি বেকার যুবক-যুবতীদের 10 বছর কেড়ে নিয়েছেন। দিদির পাঠশালা হল নির্মমতা, কাটমানি, সিন্ডিকেটের। এখানে কেন্দুপাতা বিক্রি করতেও কাটমানি দিতে হয়।’ রাজ্যের শিক্ষা ব্যাবস্থা প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দিদির পাঠশালায় অরাজকতার শিক্ষা দেওয়া হয়। দেশে প্রায় ৩৫ বছর পর নতুন শিক্ষানীতি প্রণয়ন হয়েছে। গোটা দেশে এই নতুন শিক্ষানীতির প্রশংসা করা হচ্ছে। স্থানীয় ভাষায় লেখাপড়ায় জোর দেওয়া হয়েছে। আমরা চাই গরিবের সন্তানও ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার হোক। কিন্তু ভাষার জন্য তাঁদের স্বপ্ন ভেঙে যায়। কিন্তু দিদি তারও বিরোধিতা করছেন। দিদির সরকার নতুন শিক্ষানীতি প্রণয়নে বাধা দিচ্ছেন।’এদিন তিনি অভিষেক ব্যানার্জীর নাম না করে কটাক্ষ করে বলেন, ‘একদিকে দেশ সিঙ্গল উইনডো সিস্টেমের দিকে এগিয়ে চলেছে। কিন্তু বাংলায় অন্যরকমের সিঙ্গল উইনডো চলছে। বাংলায় সিঙ্গল উইনডো হল ভাইপো উইনডো। এই উইনডো না পেরোলে বাংলায় কিছু হয় না।’প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, ‘বাংলায় দিদি ভোটারদের অধিকার কেড়ে নিয়েছেন। 2018 সালে পঞ্চায়েত ভোটে মানুষের অধিকার ভূলুণ্ঠিত হয়েছে। কিন্তু এবার দিদিকে গণতন্ত্র হত্যা করতে দেব না। পুলিশ প্রশাসনকে বুঝতে হবে গণতন্ত্রের থেকে কিছু বড় নয়। আপনারা এবার নির্ভয়ে ভোট দিন।’নরেন্দ্র মোদী মুখ্যমন্ত্রীর নাম না করে বলেন, ‘দিদি বলছেন খেলা হবে, কিন্তু বাংলা বলছে খেলা শেষ হবে। এবার উন্নয়ন শুরু হবে। দিদির কাছে হিসেব চাইলে, শুনতে পান না। আমফানের হিসেব চাইলে দিদি রেগে যান। প্রতিবাদ করলেই জেলে ভরে দেন। কেন্দ্রের প্রকল্প রাজ্যে প্রণয়ন করতে দিচ্ছেন না দিদি।’মোদী আরো বলেন, ‘বাংলায় 50-55 বছর ধরে উন্নয়নই বন্ধ হয়ে আছে। কংগ্রেস, বাম, তৃণমূল উন্নয়ন বন্ধ করে রেখেছে। বাংলায় এখন মাফিয়া উদ্যোগ চলছে। কংসাবতী নদীর অবৈধ বালি খননে কে কার সঙ্গে যুক্ত আছে সবাই জানে। বিজেপি ক্ষমতায় এলে এই দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’নরেন্দ্র মোদী বাংলার জনগণের সমর্থন চেয়ে বলেন, ‘আপনারা কংগ্রেস, বাম, তৃণমূলকে দেখেছেন। এবার একবার আমাদের আশীর্বাদ দিন, আসল পরিবর্তন আনবে বিজেপি। আপনাদের অসুবিধা দূর করতে দিনরাত পরিশ্রম করব।’এদিনের সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে নরেন্দ্র মোদী  মঞ্চে উপস্থিত রাজ্য বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষকে প্রসংশায় ভরিয়ে দেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের সৌভাগ্য দিলীপ ঘোষের মতো সভাপতি  পেয়েছি। দিদির হুমকিতে ভয় পাননি দিলীপ ঘোষ। ভয়, হামলা সত্ত্বেও মাটি কামড়ে পড়ে আছেন।’ প্রসঙ্গত, এদিন সভা শুরুর আগেই খড়গপুরে প্রধানমন্ত্রীর ছবি দেওয়া পোস্টার-ব্যানার ছেঁড়াকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। গেরুয়া শিবিরের অভিযোগের তীর তৃণমূলের দিকে। রাজ্য বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ অভিযোগ করে বলেন, ‘তৃণমূল কংগ্রেস এখন পোস্টার ছেঁড়ার দলে পরিণত হয়েছে। হারের ভয়ে দিশাহারা তৃণমূল।’সভা শেষে শনিবারই দিল্লিতে ফিরে যান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। 

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

two × four =

Back to top button