ক্রিকেট

প্রথম সারির ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতায় ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় চেন্নাই সুপার কিংস।

নিউজ বেঙ্গল ৩৬৫ ডেস্ক:- সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ ৭ রানে ম্যাচ ছিনিয়ে নিল চেন্নাই সুপার কিংসের হাত থেকে। প্রথমে ব্যাটিং করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ১৬৪ রান করে। প্রথম দিকে ক্রমাগত উইকেট হারালেও নবাগত প্রিয়ম গর্গ ২৬ বলে ৫১ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলে, দলকে ১৬৪ রানের সম্মানজনক স্থানে পৌঁছে দেয়। শেষের দিকে খেলা জমিয়ে দিয়েছিলেন ধোনি আর জাদেজা। কিন্তু রানের পাহাড় তখন চেপে গেছে ঘাড়ে। এতো রান পার করা চেন্নাইয়ের পক্ষে সম্ভব ছিল না। মনে হচ্ছিল হায়দরাবাদ সহজে ম্যাচ পকেটে পুরে নেবে। তিনি প্রায় লড়াই করে তুলে এনেছিলেন ম্যাচ। কিন্তু শেষ পর্যন্ত হার মানতে হল ক্লান্তির কাছে। বয়স হচ্ছে ক্যাপ্টেনের, তার ছাপ আজ আরও স্পষ্ট হলো। হায়দরাবাদ জিতল ৭ রানে।
শুরু থেকেই নিয়ন্ত্রিত বোলিং করেন সানরাইজার্স হায়দরাবাদের বোলাররা। ইনিংসের তৃতীয় ওভারে ভুবনেশ্বর কুমারের বল ওপেনার শেন ওয়াটসনের ব্যাটের কানায় লেগে স্টাম্পে আঘাত করলে প্রথম উইকেটের পতন ঘটে। তখন দলীয় সংগ্রহ মাত্র ৪। দলে ফেরা আম্বাতি রাইডুকে বোল্ড করেন পেসার থাঙ্গারাসু নাটারাজান। বলের লাইনেই যেতে পারেননি রাইডু। ঐ ওভারেই রান আউট হন সাবলীল ব্যাটিং করতে থাকা ফাফ ডু প্লেসিস। ১৯ বলে ২২ রান করেন তিনি।ধৈর্য্য নিয়ে খেলছিলেন কেদার যাদব। কিন্তু ইনিংস লম্বা করতে পারেননি তিনি। স্পিনার আব্দুল সামাদের বলে ড্রাইভ করতে গিয়ে এক্সট্রা কাভারে থাকা ওয়ার্নারের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরেন তিনি। ১০ বল খেলে ৯ রান করেন কেদার।
প্রথম সারির ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতায় ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় চেন্নাই সুপার কিংস। এরপর মহেন্দ্র সিং ধোনি আর রবীন্দ্র জাদেজা মিলে যোগ করেন ৭২ রান। তবে রানের গতি ছিল বেশ মন্থর। দ্রুত গতিতে বাড়তে থাকে আস্কিং রান রেট। ৫ চার আর ২ ছক্কায় ৩৫ বলে ৫০ রান করে জাদেজা ফিরেন নাটারাজানের দ্বিতীয় শিকার হয়ে। আগের বলেই ছক্কা মেরে ক্যারিয়ারের প্রথম টি-২০ অর্ধশতক তুলেন জাদেজা।
ব্যাটিংয়ে নেমে প্রথম বলেই ছক্কা হাঁকান স্যাম কারান। শেষ দুই ওভারে ৪৪ রান প্রয়োজন ছিল চেন্নাই সুপার কিংসের। ভুবনেশ্বর কুমার বোলিংয়ে আসলেও দ্বিতীয় বল করতে গিয়ে চোট পান তিনি। পরের পাঁচ বল করেন খলিল আহমেদ। সেখানে এক চার ও এক ছক্কা মারেন ধোনি।
শেষ ওভারে বোলিংয়ে আসেন সামাদ। প্রথম বলেই ওয়াইডে চার হয়ে গেলে ম্যাচে উত্তেজনা বাড়ে। দ্বিতীয় বলে চার মেরে আশা বাঁচিয়ে রেখেছিলেন ধোনি। কিন্তু পরের তিন বলে তিন রান হলে ছিটকে যায় চেন্নাই সুপার কিংস। শেষ বলে কারানের ছয় ম্যাচের ফলাফলে কোনো প্রভাব রাখেনি।
এর আগে টস জিতে প্রথমে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নেন ডেভিড ওয়ার্নার। ব্যাটিংয়ে নেমে ইনিংসের প্রথম ওভারেই সঙ্গী জনি বেয়ারস্টোকে হারান ডেভিড ওয়ার্নার। ০ রান করে দীপক চাহারের বলে বোল্ড হন বেয়ারস্টো। এরপর ওয়ার্নার আর মনিশ পান্ডে মিলে গড়েন ৪৭ রানের জুটি। এ জুটি ভাঙেন শার্দুল ঠাকুর। ৫ চারে ২১ বলে ২৯ রান করা মনিশ ক্যাচ তুলে দেন স্যাম কারানের হাতে।
এরপর চেন্নাই সুপার কিংসের লেগ স্পিনার পিযুষ চাওলার করা ইনিংসের একাদশতম ওভারেই এলোমেলো হয়ে যায় সানরাইজার্স হায়দরাবাদ। ওভারের পঞ্চম বলে অসাধারণ এক ক্যাচ নিয়ে ওয়ার্নারকে ফেরাতে অবদান রাখেন ডু প্লেসিস। ২৯ বলে ২৮ রান করেন তিনি। পরের বলেই প্রিয়ম গার্গের সাথে ভুল বোঝাবুঝি হয় কেন উইলিয়ামসনের। রান আউট হয়ে ফেরত যান উইলিয়ামসন। ১৩ বলে মাত্র ৯ রান করেন তিনি। রান আউটের পর খানিকটা ক্ষোভের প্রকাশও ঘটান উইলিয়ামসন।
অভিষেক শর্মাকে সাথে নিয়ে ইনিংস মেরামতের কাজে হাত দেন প্রিয়ম গার্গ। তাদের ৭৭ রানের জুটিতে ম্যাচে ফিরে সানরাইজার্স হায়দরাবাদ। ঝড়ো ব্যাটিং করেন গার্গ। এ তরুণের শটের ফুলঝুড়ি ছিল ভারতের ক্রিকেট ভক্তদেরকে ভবিষ্যত নিয়ে আশাবাদী করার মতো। ২৪ বলে ৩১ রান করে বিদায় নেন অভিষেক।
শেষ ওভার পর্যন্ত টিকে ছিলেন গার্গ। শেষ ওভারে ক্যাচ দিয়ে আউট হলেও পরে তা নো বল হলে বেঁচে যান তিনি। ২০ ওভারে ৫ উইকেটে ১৬৪ রান করে থামে সানরাইজার্স হায়দরাবাদ। আগামী ম্যাচগুলোতে ধোনিকে চেনা ছন্দে দেখার অপেক্ষায় ভক্তকুল। প্রিয়ম গর্গ ২৬ বলে ৫১ রানের সুবাদে ম্যান অফ দা ম্যাচ নির্বাচিত হন।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button