অন্যান্য

টুসু বিসর্জন, নদীয়ার বিভিন্ন আদিবাসী এলাকায় চলছে তারই আয়োজন।

নিউজ বেঙ্গল ৩৬৫ ডেস্ক, নদীয়া প্রতিনিধি : টুসু একটি আদিবাসী সম্প্রদায়ের উৎসব। এটি অঘ্রয়ান মাসের শেষ দিন থেকে শুরু হয়ে পৌষ সংক্রান্তি বা মকর সংক্রান্তির দিন শেষ হয়। টুসু লৌকিক দেবী , আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষেরা টুসু কে কুমারী হিসাবে কল্পনা করে থাকেন। আর সেই কারণে মূলত কুমারীরাই এই পুজোর ব্রত পালনে সক্রিয় ভাবে অংশ গ্রহণ করে থাকেন। এই উৎসব পালনের শেষ চারদিন চাউরী, বাউড়ি, মকর ও আঘান নামে পরিচিত। চাউউড়ির দিন গৃহস্থ বাড়ির মেয়েরা উঠানে গোবর মাটি নিকিয়ে বাড়ি পরিষ্কার করে চালের গুরো তৈরী করে। বাউড়ির দিন বিভিন্ন আকৃতির পিঠা তৈরি করে তাতে বিভিন্ন মিষ্টির পুর দেওয়া হয় । স্থানীয় ভাষায় একে বাঁকা পথে বা উঠি পিঠা নামে পরিচিত। বাউরির রাত 10 টা থেকে টুসু র জাগরণ অনুষ্ঠিত হয়। কুমারী মেয়ে রা পুষ্প মাল্য দ্বারা সমস্ত বাড়ি সাজিয়ে ফেলে। এই রাতে ভোগ রান্না হয়, ছোলা, মিষ্ঠান্ন, জিলিপি, মটর ভাজা প্রভৃতি। আবার পৌষ সংক্রান্তি বা মকর সংক্রান্তির দিন আদিবাসী মেয়েরা গান গাইতে গাইতে টুসু দেবীকে বাঁশ বা কাঠের তৈরি রঙিন কাগজে সজ্জিত চতুর দোলায় বসিয়ে পুকুরে বা নদীতে। সেখানে প্রত্যেক টুসু দল একে অপরের টুসুর প্রতি বক্রক্তি করে গান গাইতে গাইতে টুসু দেবী বিসর্জনের রীতি বিদ্যমান। টুসু বিসর্জনের পরে মেয়ে রা নদী বা পুকুরে স্নান করে নতুন বস্ত্র পরিধান করেন। ছেলেরা কাঠ, খর, পাটকাঠি দিয়ে ঘর বানিয়ে তাতে অগ্নি সংযোগ করেন। এইসমস্ত রীতি পালনের মধ্যে দিয়ে সাধারণ ভাবেই বলা যায়, মকর সংক্রান্তির দিনই এই টুসু উৎসবের সমাপন ঘোষিত হয়।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

13 + 6 =

Back to top button