অন্যান্য

কালের ক্রমে হারিয়ে যেতে বসেছে গ্রাম বাংলার প্রাচীন ঐতিহ্য “ঢেঁকি”।

নিউজ বেঙ্গল ৩৬৫ ডেস্ক, বাঁকুড়া : পিঠেপুলি উৎসব। কবি লিখেছেন, “আলু, তিল, গুড়, খীর, নারিকেল আর গড়িতেছে পিঠেপুলি অশেষ প্রবার”। কিন্তু পিঠে গড়ার প্রধান উপকরন চালের গুড়োর কথা কবি বলেননি , কারন বলা বাহুল্য মাত্র। বর্তমানে যন্ত্র চালিত যুগে কালের ক্রমে হারিয়ে যেতে বসেছে এক সময়ের প্রাচীন ঐতিহ্য ঢেঁকি । ধান কোটা থকে চাল গুড়ো করা সবই হত ঢেঁকি দিয়ে। পরাবারে আসা নব বধুকেও ঢেঁকি দিয়েই চাল গুড়ো করতে হত। কিন্তু বর্তমানে নব বধূরা সেভাবে কেউই ঢেঁকি স্বাদ কি তা জানে না। বাঙালীর সেরা উৎসব গুলোর মধ্যে পৌষপার্বণ বা মকর সংক্রান্তি অন্যতম। পৌষ পার্বণে পিঠের স্বাদের শ্রেষ্ঠত্ব নিয়ে কারোর দ্বিমত নেই। চালের গুড়ো কি ভাবে আসে আজকের বৈদ্যুতিক কলে ভাঙানো চালের যুগে সবাই ভূলে গেছে। শতাব্দী পেরিয়ে সহস্রাব্দীর প্রাচীন ধান কোটা, চাল গুড়ো করার অতি সরল ঢেঁকির কথা। কৃষি নির্ভর ভারতীয় জীবনে ঘরে  ঘরে থাকত ঢেঁকি। আর পৌষ পার্বণের সপ্তাহ খানেক আগে থেকেই শুরু হয়ে যেত চাল গুড়ো করার কাজ। ঢেঁকি পার দিতেন, চালের গুড়ো চালতে মুলত মহিলারা। মস্ত এক কাঠের গুড়ির ওজনকে কাজে লাগিয়ে ধান ভাঙা ও চাল গুড়ো করার কাজ হত। গ্রামীন অর্থনীতির অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ এই অতি সরল হাস্কিং” মেসিনটি ” আজ আর দেখা যায় না। গ্রাম বাংলার আনাচে কানাচে অনেক খুঁজলে   কোথাও কোথাও আচমকা দেখা মিলে যায় ঢেঁকি । বড়জোড়া  ব্লকের চুনপোড়া  গ্রাম, সেখানেই দেখা মিলল প্রচীন ঐতিহ্য ঢেঁকির। দুচোখের তৃষার্ত তৃষ্ণা মিটিয়ে নিতে সকলের সামনে সেই ছবি তুলে ধরলাম আমারা। শোনা যায় অষ্টাদশ শতাব্দীর এক বাঙালী পথিক কোন এক গৃহস্থের বাড়ির ঢেঁকি শালে রাত্রি যাপন করার সময় ঐ গৃহস্থের বাড়িতে ডাকাত পড়ে । আশানন্দ বন্ধ্যোপাধ্যায় নামে ঐ ব্যাক্তি ঢেঁকিটা দুই হাতে তুলে নিয়ে ডাকাত দলকে মেরে তাড়িয়ে ছিলেন । বীরত্বের চিহ্ন হিসাবে সেই বাঙালনীর পদবী হয়ে যায় ” ঢেঁকি “। চুনপোড়া  গ্রামের সন্ধ্যা মাজি  সরস্বতী ভুঁই মনিকা ভুঁই পাশাপাশি সোনামুখীর পাঁচাল এখনও প্রত্যন্ত গ্রামের মা বোনেরা সেই প্রাচীন ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রেখেছেন। এখনও তারা ঢেঁকি  দিয়েই ধান কোটা থেকে চাল গুড়ো  করা সবই করেন।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

1 × 3 =

Back to top button