অন্যান্য

-: অমৃতকথা :-

নিউজ বেঙ্গল ৩৬৫ ডেস্ক : বাংলা দিনপঞ্জী :সুপ্রভাত, আজ ৯ই পৌষ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ (১৮৫ রামকৃষ্ণাব্দ) শুক্রবার (ইং : ২৫শে ডিসেম্বর ২০২০) ।তিথি : আজ চান্দ্র অগ্রহায়ণ (মার্গশীর্ষ) শুক্লা একাদশী (মোক্ষদা একাদশী) রাত্রি ২।৭ পর্যন্ত ।* আজ ৫১২১ তম গীতা জয়ন্তী ।* আজ প্রভু যীশুখ্রীষ্টের জন্মদিন (খ্রীষ্টমাস ডে, বড়দিন) ।* আজ মহামোহপাধ্যায় আচার্য্য শ্রীমন্ মহানামব্রত ব্রহ্মচারীর ১১৭ তম আবির্ভাব দিবস (জন্ম : ২৫শে ডিসেম্বর ১৯০৪) ।             

 -: অমৃতকথা :-  আজ প্রভু যীশুখ্রীষ্টের জন্ম কথা : আঙ্কারায় প্রাপ্ত রোমান শিলালিপি অনুযায়ী যীশুখ্রীষ্টের জন্ম খ্রীষ্টপূর্ব ১ থেকে ৪ অব্দের মধ্যে ।       যীশুখ্রীষ্টের মাতা মরিয়ম-এর সহিত পিতা যোষেফের  বিবাহের পরে পরেই জানাগেল যে তাহাদের সহবাসের পূর্বেই মরিয়মের গর্ভসঞ্চার হইয়াছে । এমত অবস্থায় তাঁহার ধার্মিক স্বামী তাঁহাকে নিন্দার পাত্র করিতে ইচ্ছা না করাতে, গোপনে তাঁহাকে ত্যাগ করিবার মানস করিলেন । যোষেফ এইসকল ভাবিতেছেন, এমন সময় দেখেন প্রভুর এক দূত তাঁহাকে স্বপ্নে দর্শন দিয়া কহিলেন – হে দায়ুদ সন্তান যোষেফ, তোমার স্ত্রী মরিয়ম-কে গ্রহণ করিতে ভয় করিও না, কেননা তাঁহার গর্ভে যাহা জন্মিয়াছে, তাহা পবিত্র আত্মা হইতে হইয়াছে, আর তিনি পুত্র সন্তান প্রসব করিবেন, এবং তুমি সেই সন্তানের নাম রাখিবে যীশু (ত্রাণকর্তা) । পরে যোষেফ নিদ্রা হইতে উঠিয়া প্রভুর দূত যেরূপ আদেশ করিয়াছিলেন, সেইরূপ করিলেন, স্ত্রীকে গ্রহণ করিলেন এবং তাঁহার (মরিয়মের) পূর্ব পরিচয় জানিবার কোনরূপ ইচ্ছা তাহার রহিল না ; আর পুত্রের জন্মের পর তাহার নাম রাখিলেন যীশু ।    হেরোদ রাজার সময়ে য়িহুদিয়ার বৈৎলেহমে যীশুর জন্মের পর দেখা গেল পূর্ব্বদেশ হইতে কিছু পণ্ডিত যিরুশালেমে আসিয়া কহিলেন, ইহুদীদের যে রাজা জন্মিয়াছেন তিনি কোথায় ? কারণ আমরা পূর্বদেশে তাঁহার তারা দেখিয়াছি এবং তাহাকে প্রণাম করিতে আসিয়াছি । এ-কথা রাজা হেরোদের কাছে পৌঁছিলে তিনি উদ্বিগ্ন হইলেন, এবং রাজার উদ্বিগ্নে ভয়ে সমস্ত যেরুশালেমও উদ্বিগ্ন হইল । হেরোদ সমস্ত যাজক ও অধ্যাপকগণকে একত্র করিয়া জিজ্ঞাসা করিলেন খ্রীষ্ট কোথায় জন্মিয়াছেন ? তাঁহারা বলিলেন বিধির লিখন অনুযায়ী য়িহুদিয়ার বৈৎলেহমে তাঁহার (যীশুর) জন্মিবার কথা । পরে হেরোদ গোপনে পূর্ব্বদেশীয় পণ্ডিতগণকে ডাকিলেন এবং তাহাদের কাছে সেই তারার বিবরণ জানিলেন । এরপর হেরোদ পণ্ডিতদের বলিলেন তোমরা বৈৎলেহমে যাও আর সেই শিশুর অন্বেষন কর ; দেখা পাইলে আমাকে সংবাদ দিও যাতে আমিও গিয়া তাহাকে প্রণাম করিতে পারি । রাজার নিকট হইতে বিদায় লইয়া পণ্ডিতগণ আকাশে সেই তারাকে আবার দেখিতে পাইলেন এবং তাঁহারা আরও দেখিলেন যে তারাটি তাদের অগ্রে অগ্রে চলিল । যেখানে শিশুটি ছিল তারাটি সেখানে আসিয়া স্থির হইয়াগেল, তারাটি স্থির দেখিয়া পণ্ডিতেরা অতিশয় আনন্দিত হইলেন এবং তারাটির নিচে অবস্থিত গৃহে প্রবেশ করিলেন । সেখানে মাতা মরিয়ামের সহিত শিশুটিকে দর্শন করিয়া ভূমিষ্ট হইয়া প্রণাম করিলেন  এবং নিজেদের আনা ধনরাশি উপহার দিলেন । পরে হেরোদের নিকটে তাঁহারা যেন ফিরিয়া না যান, স্বপ্নে এই আদেশ পাইয়া অন্যপথে নিজেদের দেশে ফিরিয়া গেলেন। পণ্ডিতেরা নিজ দেশে চলিয়া গেলে পর প্রভুর এক দূত স্বপ্নে যোষেফকে বলিলেন, উঠ, শিশুটিকে ও তাঁহার মাতাকে লইয়া মিশরে পলায়ন কর ; আর আমি যতদিন না বলি, ততদিন সেখানে থাক ; কেননা হেরোদ শিশুটিকে বধ করিবার জন্য তাঁহার অনুসন্ধান করিবে । তখন যোষেফ রাত্রিকালে শিশুটিকে ও তাঁহার মাতাকে লইয়া মিসরে চলিয়া গেলেন এবং পরবর্তী আদেশের জন্য অপেক্ষায় থাকলেন ।  (যিশুর জন্মকথার প্রথম পর্ব এখানে সমাপ্ত হলো, শেষ পর্ব আগামী কাল ।)    – ‘বাইবেল-নূতন নিয়ম’ গ্রন্থ থেকে সঙ্কলিত ।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

14 + thirteen =

Back to top button