অন্যান্য

-: অমৃতকথা :-

বাংলা দিনপঞ্জী :সুপ্রভাত, আজ ১৭ই অগ্রহায়ণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ (১৮৫ রামকৃষ্ণাব্দ) শুক্রবার (ইং: ৪ঠা ডিসেম্বর ২০২০) ।তিথি : আজ চান্দ্র কার্ত্তিক কৃষ্ণা চতুর্থী সন্ধ্যা ৫।৪৫ পর্যন্ত ।* আজ প্রখ্যাত ঐতিহাসিক ডঃ রমেশচন্দ্র মজুমদারের ১৩৩ তম জন্মদিন (জন্ম : ৪ঠা ডিসেম্বর ১৮৮৮) ।* আজ নৌসেনা দিবস ।                 

-: অমৃতকথা :-  সংসার ও সাধনা   “সংসারে থাকব অথচ তাকে বিষবৎ মনে ক’রব, এ তো বড় সর্বনেশে কথা । কিন্তু যতক্ষণ সংসার মধুর ব’লে মনে হয় ততক্ষণ আর অন্য মধুরের প্রয়োজন কোথায় ? সুতরাং ভগবানের আর প্রয়োজন নেই সেখানে । যদি বা প্রয়োজন হয় তো ব’লব, হে প্রভু ছেলেটার অসুখ হয়েছে, যেন সেরে যায় বা এবারের ফসল যেন ভালো হয়’ – তাঁর প্রয়োজন এই পর্যন্ত । আমরা এই সংসারকে চাই, আর এই সংসারের সুখ পাবার বা দুঃখ এড়াবার উপায়রূপে চায় ভগবানকে । আসলে আমরা তাঁকে আন্তরিক ভাবে চাই না । তাঁকে সত্যি সত্যিই চায় এ-রকম বীর হৃদয় খুব কম, যে হৃদয় তাঁর জন্য সর্বস্ব ত্যাগ করতে প্রস্তুত । মনে হবে এ তো সন্ন্যাসের কথা, কিন্তু এ সন্ন্যাসের কথা নয়, এ হ’ল প্রকৃত ভক্তের হৃদয়ের কথা । আমরা যখন বলি ‘হে নাথ তুমিই আমার সর্বস্ব’ তখন তোতা পাখির মতো কথাটি আবৃত্তি করি মাত্র । এর প্রকৃত-অর্থ হৃদয়ঙ্গম করার মতো দৃঢ়তা আমাদের থাকে না । ঠাকুর বলেছেন ‘তোমরা এ-ও কর, ও-ও কর । এক হাত দিয়ে সংসার কর, অন্যহাতে ভগবানকে ধর’। কিন্তু তার পরেই ঠাকুর বলেছেন – যখন পরিবেশ অনুকুল হবে তখন ‘দু-হাত দিয়ই তাঁকে ধর’ । এই যে ‘দু-হাত দিয়ে তাঁকে ধরা’ এইটিই কিন্তু আসল লক্ষ্য ; এই লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্যই অবস্থা বিশেষে প্রাথমিক ভাবে তাঁকে এক হাতে ধরার কথা বলা হয়েছে । তা না হ’লে সংসারে এক হাত আর ভগবানে এক হাত – এটা কোনো কাজের কথা নয় । মূল উদ্দেশ্যই হ’ল দু-হাত দিয়েই তাঁকে ধরা । কিন্তু দেখা যায় হয় সংসার আমাকে ছাড়ছে না, নতুবা আমি সংসারকে ছাড়ছি না । ঠাকুরের সন্তানেরা বলেছেন মনটার ষোলআনার মধ্যে যদি দু-আনা দিয়ে সংসার করা যায় তো ভেসে যাবে । আমরা অনেক সময় বলি যে ‘সংসারে এতো কাজ যে, ভগবানের চিন্তা করার অবকাশ পাই না’ – এই কথাই যদি আন্তরিক ভাবে সবসময় মনে থাকে তবে প্রকারান্তরে তাঁরই চিন্তা হ’য়ে যায়। কিন্তু তা তো হয় না ; এগুলো কেবল আত্মপ্রবঞ্চনা, নিজেকে ভুলিয়ে রাখা যে, কাজের চাপে আমি তাঁকে ডাকার সময় পাই না । তখন কি এই কথা মনে থাকে যে, তিনি ছাড়া আর কিছু নেই, তখন কি মনে থাকে ‘ঈশা বাস্যমিদং সর্বম’ – এই বিশ্বব্রহ্মাণ্ড সেই আত্মবস্তু দিয়ে ভ’রে ফেলতে হবে, তাঁকে দিয়েই ভরিয়ে ফেলতে হবে সমস্ত জীবনটা ?”    – স্বামী ভূতেশানন্দজী মহারাজের ‘কথামৃত প্রসঙ্গ গ্রন্থের প্রথম খণ্ড থেকে সঙ্কলিত ।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

17 − eleven =

Back to top button