অন্যান্য

-: অমৃতকথা :-

নিউজ বেঙ্গল ৩৬৫ ডেস্ক। বাংলা দিনপঞ্জী : সুপ্রভাত, আজ ১৩ই কার্ত্তিক ১৪২৭ বঙ্গাব্দ (১৮৫ রামকৃষ্ণাব্দ) শুক্রবার (ইং : ৩০শে অক্টোবর ২০২০) ।তিথি : আজ শুদ্ধ আশ্বিন শুক্লা চতুর্দশী সন্ধ্যা ৫।২১ পর্যন্ত ।* আজ সন্ধ্যা ৫।২১ গতে শ্রীশ্রীকোজাগরী লক্ষ্মীপূজা ।* আজ শ্রীকৃষ্ণের শারদ রাসযাত্রা ।* আজ ‘ফতেয়া দোয়াজ দাহম (মুসলিম পর্ব)’ ।* আজ শিশু সাহিত্যিক সুকুমার রায়ের জন্মদিন (৩০শে অক্টোবর ১৮৮৭) ।           

-: অমৃতকথা :-       শক্তি আরাধনা পর্ব – ৪  “পরিমানের হ্রাস-বৃদ্ধি না থাকলেও শক্তির প্রকাশের তারতম্য আছে । বিদ্যাসাগর মহাশয় শ্রীরামকৃষ্ণকে বলেছিলেন : ‘তিনি কি কারুকে কম কারুকে বেশী শক্তি দিয়েছেন ?’ উত্তরে শ্রীরামকৃষ্ণ বলেন : ‘তিনি বিভুরূপে সর্বত্র আছেন, পিঁপরেতে পর্যন্ত । কিন্তু শক্তির বিশেষ প্রকাশের ফলে একজন লোক দশজনকে হারিয়ে দেয়, আবার কেউ একজনের কাছ থেকেই পালায় । আর তা না হলে তোমাকেই বা সবাই মানে কেন ? তোমার কি শিং বেরিয়েছে দুটো ? তোমার দয়া আছে, বিদ্যা আছে – অন্যের চেয়ে বেশী, তাই তোমাকে লোকে মানে, দেখতে আসে ।”                      ……… ক্রমশঃ     – স্বামী প্রমেয়ানন্দ (গ্রন্থসূত্র : পূজাবিজ্ঞান) ।
বিঃদ্রঃ আজ কোজাগরী লক্ষ্মীপূজা, তাই কোজাগরী পূর্ণিমা সম্বন্ধে কিছু কথা নিবেদন করছি ।
         – কোজাগরী পূর্ণিমা -প্রবাদ আছে :-“নিশীথে বরদা লক্ষ্মীঃ কো জাগর্ত্তীতিভাষিণী ।তস্মৈ বিত্তং প্রযচ্ছামি অক্ষৈঃ ক্রীড়াং করোতি যঃ ।।” এই পূর্ণিমার রাত্রে দেবী লক্ষ্মী ডেকে ডেকে জিজ্ঞাসা করেন ‘কো জাগর্ত্তি’ অর্থাৎ কে জেগে আছ, তাই পূর্ণিমা রাত্রিটিকে কোজাগরী-পূর্ণিমা বলা হয় ।    উপরের শ্লোকে আর একটি কথা আছে ‘অক্ষ-ক্রীড়া’ যার সাধারণ অর্থ – পাশাখেলা । যদিও অক্ষ কথাটির আরও অর্থ আছে । তমগুণপ্রধান ব্যক্তিরা ধরে নিয়েছেন লক্ষ্মীপূজার রাত্রে পাশাখেলা ধনদা লক্ষ্মীর অভিপ্রেত । তাই তারা এই রাত্রে মেতে ওঠে বাজি রেখে পাশা খেলায় (বর্তমান যুগে তাসখেলায়) । কোথাও কোথাও আবার রাত্রি জাগরণটাকে বেশীগুরুত্ব দিয়ে পাশাখেলার পরিবর্তে পরের বাগানের ফল-মূলাদি চুরি এবং অপরের বাগানের গাছপালাদির ক্ষতিসাধনাদির ন্যায় অর্থহীন এবং অন্যায় লৌকিক প্রথাও দেখা যায় । অক্ষ শব্দটির আর-একটি অর্থ – ক্রয়বিক্রয় চিন্তা । যাঁরা বৈশ্য অর্থাৎ ব্যবসায়ী তাঁরা সাধারণত রজস্তমঃগুণপ্রধান, তাঁরা লক্ষ্মীপূজার রাত্রে দেবীকে স্মরণ, মনন, আরাধনাপূর্ব্বক ক্রয়বিক্রয় বা বানিজ্যবৃদ্ধির অনুচিন্তন করেন । অক্ষ কথাটির  আরও অর্থ হল – রুদ্রাক্ষ, জপমালা প্রভৃতি । যাঁরা শুদ্ধসত্ত্বগুণপ্রধান, আত্মরতিপরায়ণ, তাঁরা অক্ষক্রীড়া মানেই বুঝবেন জপমালায় জপের মাধ্যমে রাত্রি জাগরণ পূর্ব্বক বিমুক্তিফলদায়িনী লক্ষ্মীর ধ্যান, ধারণা ও উপাসনা করা । ‘কো জাগর্ত্তি’ বাক্যটি তাঁদের নিকট আত্মচৈতন্যের বাণী । আত্মার দিক থেকে যিনি জেগে থাকেন, মোক্ষরূপ শ্রেষ্ঠ বর তিনিই পান । লক্ষ্মীপূজার রাত্রে দেবী আসেন, মর্ত্ত্যজীবের দ্বারে দ্বারে পরম আশীর্বাদ নিয়ে যেচে যান, রুদ্ধদ্বার গৃহে যে ঘুমিয়ে থাকে, হতভাগ্য সে, দেবী ব্যর্থ হয়ে ফিরে চলে যান তার গৃহদ্বার থেকে । কিন্তু যিনি রাত্রি জেগে দেবীর আরাধনা করতে থাকেন, পরম ধনে ধনী হয়ে তাঁরই জীবন হয় সার্থক ।” স্বামী নির্ম্মলানন্দ ( ভারত সেবাশ্রম সঙ্ঘ) – এর ‘দেবদেবী ও তাঁদের বাহন’ গ্রন্থটি থেকে সঙ্কলিত ।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

fifteen − 12 =

Back to top button