অন্যান্য

-: অমৃতকথা :-

নিউজ বেঙ্গল ৩৬৫ ডেস্ক :বাংলা দিনপঞ্জী :সুপ্রভাত, আজ ৮ই কার্ত্তিক ১৪২৭ বঙ্গাব্দ (১৮৫ রামকৃষ্ণাব্দ) রবিবার (ইং : ২৫শে অক্টোবর) ।তিথি : আজ শুদ্ধ আশ্বিন শুক্লা নবমী দিবা ১১।১২ পর্যন্ত ।* আজ পূর্বাহ্ণ ৯।২৯ মধ্যে শ্রীশ্রীশারদীয়া দুর্গাদেবীর কেবল মহানবমী কল্পারম্ভ ও মহানবমীবিহিত পূজা প্রশস্তা এবং দেবীর নবরাত্রিক ব্রত সমাপন ।* আজ দেশনেতা, সমাজ সংস্কারক, শিক্ষাবিদ পণ্ডিত মদনমোহন মালব্যের জন্মদিন (জন্ম : ২৫শে অক্টোবর ১৮৬১) ।
-: অমৃতকথা :-কুমারীপূজা : দুর্গাপূজার সঙ্গে কুমারীপূজার বিধান সম্ভবত তান্ত্রিক মতে । দেবী দুর্গা স্বয়ংসম্পূর্ণা, পরমানন্দ-স্বরূপিণী । তিনি কারও গর্ভজাত নন, মহিষাসুর নিধনের জন্য দেবগণের পূঞ্জীভূত তেজ থেকেই তাঁর জন্ম এবং কাত্যায়ন ঋষির কন্যারূপে প্রতিভাত। বৃহদ্ধর্ম পুরাণের মতে, দেবতাদের স্তবে তুষ্ট হয়ে রাবণবধের নিমিত্ত দেবী চণ্ডিকা বিল্ববৃক্ষের শাখায় এক কুমারী কন্যারূপেই দেবতাদের সামনে আবির্ভূতা হয়েছিলেন ।  দেবীপুরাণে এই পূজার সুস্পষ্ট নির্দেশ রয়েছে । ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণদেব বলেছেন, “কুমারীপূজা করে কেন? সব স্ত্রীলোক ভগবতীর এক-একটি রূপ । শুদ্ধাত্মা-কুমারীতে ভগবতীর বেশী প্রকাশ ।” মহাষ্টমীতে কুমারী পূজা অনুষ্ঠিত হলেও মহানবমীতেও কুমারীপূজার বিধান তন্ত্রসারে আছে । তন্ত্রসারে আরও আছে, যাগযজ্ঞহোম সকলই কুমারীপূজা ছাড়া সম্পূর্ণ ফলদায়ী নয় । কুমারীপূজায় দৈবী-ফল কোটি গুণ লাভ হয় । ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণদেব বলতেন ‘মাতৃভাব বড় শুদ্ধভাব । ‘ কুমারীর মধ্যে দৈবীভাবের প্রকাশ দেখা বা তাকে জননীরূপে পূজা করা সেই শুদ্ধসত্ত্বভাবেরই এক সার্থক প্রকাশ । বেলুড়মঠের দুর্গাপূজায় কুমারীপূজার অনুষ্ঠান তারই শাস্ত্রীয় ও বাস্তবিক রূপ এবং স্বামীজী এই ভাবই সঞ্চারিত করতে চেয়েছেন সকলের মধ্যে । বেলুড়মঠের প্রথম দুর্গাপূজায় (১৯০১) নয়জন কুমারীকে পূজা করা হয় এবং তাদের মধ্যে একজনকে স্বামীজী নিজেই পূজা করেন ।এক থেকে ষোল বৎসর পর্যন্ত বালিকারা ঋতুমতী না হওয়া পর্যন্ত কুমারীরূপে পূজিতা হওয়ার যোগ্য । এক এক বয়সের কুমারীকে এক এক নামে দেবীজ্ঞানে পূজা করা হয় । যেমন – একবর্ষীয়া কন্যাকে সন্ধ্যা নামে, দ্বিবর্ষীয়কে সরস্বতী, ত্রিবর্ষীয়াকে ত্রিধা, চতুর্থবর্ষীয়াকে কালিকা, পঞ্চবর্ষীয়াকে সুভগা, ষড়বর্ষীয়াকে উমা, সপ্তমবর্ষীকে মালিনী, অষ্টমবর্ষীয়াকে কুব্জিকা, নবমবর্ষীয়াকে কালসন্দর্ভা, দশমবর্ষীয়াকে অপরাজিতা, একাদশবর্ষীয়াকে রুদ্রাণী, দ্বাদশবর্ষীয়াকে ভৈরবী, ত্রয়োদশবর্ষীয়াকে মহালক্ষ্মী, চতুর্দশবর্ষীয়াকে পীঠনায়িকা, পঞ্চদশবর্ষীয়াকে ক্ষেত্রজ্ঞা এবং ষোড়শবর্ষীয়াকে অম্বিকা নামে পূজা করা হয় । সাধারণতঃ ব্রাহ্মণ-কন্যাকে কুমারীপূজার জন্য নির্বাচিত করা হয় তবে অন্যান্য বর্ণের শুদ্ধসত্ত্বা-কন্যাকেও পূজাকরার বিধি শাস্ত্রে আছে । স্বামীজী জীবনে চারবার কুমারীপূজা করেছিলেন, তারমধ্যে একবার কাশ্মীরে এক মুসলমান কন্যাকে তিনি কুমারীরূপে পূজা করেন । দুর্গাপূজা ছাড়াও অন্যান্য শক্তিপূজায় এবং বিভিন্ন শক্তি পীঠে দেবীকে কুমারীরূপে পূজা করা হয় । স্বামী প্রমেয়ানন্দ মহারাজের ‘পূজা-বিজ্ঞান’ এবং স্বামী দেবেন্দ্রানন্দ মহারাজের ‘বেলুড়মঠে কুমারীপূজা’ গ্রন্থ থেকে সঙ্কলিত ।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button