অন্যান্য

-: অমৃতকথা :-

নিউজ বেঙ্গল ৩৬৫ ডেস্ক :বাংলা দিনপঞ্জী : আজ ২৩শে আশ্বিন ১৪২৭ বঙ্গাব্দ (১৮৫ রামকৃষ্ণাব্দ) শনিবার (ইং : ১০ই অক্টোবর ২০২০) ।তিথি : আজ মল-আশ্বিন কৃষ্ণা অষ্টমী দিবা ১২।১৫ পর্যন্ত ।* আজ জাতীয় ডাকদিবস ।           

 -: অমৃতকথা :- “আবার একথাও সত্য, সৎ লোকের সততার প্রতি যতটা আস্থা, তার চেয়েও বেশী আস্থা থাকে অসৎলোকের অসততার উপর । এজন্য প্রকৃত সৎ ব্যক্তিরই শক্তির অভাব হয়ে যায় । দুষ্টলোকেরা অসততায় পরম আস্থা রেখে জয়ী হয়ে যায় অনেক সময় । অথচ সৎলোকের বুদ্ধিবল মোহগ্রস্ত হয়ে ক্ষীণ হয়ে পড়ে । এই মোহ যুক্তিবিচারে চলে না । শ্রীশ্রীচণ্ডিতে রয়েছে, দেবতারা নিজ নিজ শক্তিতে আস্থাহীণ হওয়ার ফলে অসুরদের দ্বারা স্বর্গরাজ্য থেকে বিতারিত হয়েছিল । এঁরা আবার মহামায়ার সান্নিধ্যে শক্তিতে শক্তিমান হয়ে অসুরদের পরাজিত করতে সক্ষম হন । আমাদের মনে সর্বদা দেব ও অসুরের সংগ্রাম চলছে অর্থাৎ শুভের সঙ্গে অশুভ শক্তির । জগৎ যাতে ঠিকমত চলে, সেজন্য মহামায়া সকলকেই মোহগ্রস্ত করে রেখেছেন । আবার সচেষ্ট হলে এই মহামায়াই মোহবন্ধন ছিন্ন করে শুভবুদ্ধি দেন – ‘সৈষা প্রসন্না বরদা নৃণাং ভবতি মুক্তয়ে’ । তিনি প্রসন্ন হয়ে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন । এই আস্থা সম্পর্কে স্বামী বিবেকানন্দ আর-এক ধাপ এগিয়ে অসাধারণ সাংগঠনিক শক্তির উন্মেষের বাণী শুনিয়েছেন । সততার প্রতি আস্থা অর্থাৎ ‘conviction on the Powers of goodness’ ছাড়াও প্রয়োজন ‘নেগেটিভ কোয়ালিটি – ঈর্ষা ও সন্দেহ’ দূরীকরণ । শ্রীশ্রীচণ্ডিতে মহামায়ার সান্নিধ্যে দেবতাদের শক্তি  প্রকট হতে শুরু করল, অথচ সে-শক্তি তাঁদের ভিতরেই ছিল । এই প্রকট শক্তি অঙ্কের ভাষায় শুধু যোগফল নয়, এটা অনুরণন। বিজ্ঞানে বিচারের প্রধানত দুই পথ – যুক্তিবিচার ও সান্নিধ্য। শেষেরটির জন্য প্রয়োজন উপযুক্ত আধার তৈরি করা, আস্থাবান একটি উপায় । তাহলেই উপলব্ধি বা অনুভূতি উৎপন্ন হয় ।” গোপাল চন্দ্র ভরের প্রবন্ধ ‘আধুনিক বিজ্ঞান ও রামকৃষ্ণের বিজ্ঞান’ (উদ্বোধন পত্রিকার ভাদ্র ১৪২৭ সংখ্যায় প্রকাশিত) থেকে সঙ্কলিত ।
বিঃদ্রঃ গোপাল চন্দ্র ভর হলেন ‘ভূতপূর্ব অধ্যাপক ও গবেষক, পদার্থবিদ্যা বিভাগ, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় ।’

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button