অন্যান্য

অমৃতকথা :-‘দুর্গা’ – মহাশক্তি ও মহামাধুর্যের প্রতীক :

নিউজ বেঙ্গল ৩৬৫ ডেস্ক:- বাংলা দিনপঞ্জী :সুপ্রভাত, আজ ৫ই আশ্বিন ১৪২৭ বঙ্গাব্দ (১৮৫ রামকৃষ্ণাব্দ) মঙ্গলবার (ইং : ২২শে সেপ্টেম্বর ২০২০)।তিথি : আজ মল-আশ্বিন শুক্লা ষষ্ঠী রাত্রি ৩।৮পর্যন্ত।
অমৃতকথা :-‘দুর্গা’ – মহাশক্তি ও মহামাধুর্যের প্রতীক :-পর্ব – ৩ মহাপরাক্রমশালী মহিষাসুরনিধনে ব্রহ্মাদি সকল দেবতার সম্মিলিত শক্তিই মহাশক্তি দুর্গারূপে প্রকটিতা । ‘চণ্ডী’তে বর্ণিত দুর্গা প্রধানত শক্তির মাতৃরূপ । সৃষ্টি-স্থিতি-প্রলয় বা বিনাশ তত্ত্বেও এই মাতৃরূপ খুবই তাৎপর্যপূর্ণ । তিনি যেমন সৃজন, পালন ও রক্ষা করেন, নিধনকারিণী শক্তিও তাঁরই । বাংলার পদাবলীগুলিতে এই সৃষ্টি-স্থিতি-বিনাশকারিণী দেবী সম্পর্কিত অনেক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়; যেখানে মা কালীর পদতলে শায়িত শিবকে ‘শিব’রূপে নয়, অনেক ক্ষেত্রে ‘শব’ রূপেই ব্যাখ্যা করা হয়েছে । দুর্গা অসুরকে পদতলে পিষ্ট করছেন, নিহত অসুর দেবীর পাদস্পর্শে শিবত্ব প্রাপ্ত হয়েছেন অর্থাৎ তাঁর দেবত্বের বিকাশ হয়েছে – শুভবুদ্ধি জ্ঞান এ চৈতন্যের উদয় হয়েছে ।এই সাত্ত্বিক দৃষ্টিটি বড় সুন্দর ও তাৎপর্যময় । অর্থাৎ শক্তিরূপিণী মায়ের কৃপায় অতি দুর্জন বা আসুরিক প্রকৃতির লোকও শিবত্বপ্রাপ্ত হতে পারেন । আবার দেবাসুরের যুদ্ধ তো কেবল বাইরে নয়, মানুষের অন্তঃপ্রকৃতিতেও চলছে অবিরাম এই সুরাসুরের সংগ্রাম । মানুষ বা দৈত্য বা দানব সকলের মধ্যই দেবত্ব বা শিবত্ব সবসময়ই বিরাজ করছে এবং স্বরূপত সে শিবই । কিন্তু তার ভিতরের আসুরিক ভাব এই শিবত্বকে ঢেকে রেখেছ । শক্তিরূপিণী এই মায়ের কৃপা হলে ভিতরের আসুরিক ভাব চলে গিয়ে আবার তার ‘শিবত্ব’ প্রাপ্তি হবে । তখন মানুষ বা অসুর – যে নামেই আখ্যাত হোক না কেন, সে তার স্বরূপ দেবত্ব লাভ করবে । জীবের অন্তঃকরণে সুরাসুরের এই সংগ্রাম ইংরেজী সাহিত্যের বিখ্যাত লেখক  লুই স্টিভেনসন সৃষ্ট দুটি চরিত্র ডঃ জেকিল ও মিঃ হাইড -এর কথা মনে করিয়ে দেয় । এই দুটি দ্বান্দ্বিক চরিত্রের অন্তরালে মানুষের অন্তঃকরণে সুরাসুর বা দেবত্ব ও পশুত্বের দ্বন্দ্ব সুন্দরভাবে ফুটে উঠেছে ।স্বামী দেবেন্দ্রানন্দের ‘বেলুড় মঠে স্বামীজীর দুর্গা পূজা’ গ্রন্থ থেকে সঙ্কলিত ।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button