অন্যান্য

জৈব চাষে নজির গড়েছেন বাঁকুড়া জেলার পাঁচাল গ্রামের একজন কৃষক।

সৌরেন দাস, নিউজ বেঙ্গল 365, আসানসোল: নাম ভৈরব সাইনি, 2004 সালে বিশিষ্ট সাইনটিস্ট ডাক্তার দেবল দেবের পাঁচালের পাশের গ্রাম অর্জুনপুরে একটি ধান্য রিসার্চ স্টেশন ছিল, সেখান থেকে উদ্বুদ্ধ হয়েই তখন থেকেই ভৈরববাবু এই জৈব চাষের সাথে যুক্ত আছেন। পরে 2010 সালে ডাক্তার দেবল দেব যখন উনার এই রিসার্চ স্টেশন ওড়িষায় স্থানান্তরিত করেন তখন উনার কাছ থেকে 120 প্রকার ধান নিয়ে বীজ সংরক্ষণের কাজ শুরু করেন ভৈরব সাইনি। বর্তমানে ধান ছাড়াও অনান্য ফসল গুলির বীজ সংরক্ষণে ভারত বর্ষের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সংগ্রহ করতে সাহায্য করছেন মধ্যপ্রদেশের সৌমিক ব্যানার্জি মহাশয়।এই সংরক্ষণের কাজ সৌমিক বাবু ও ভৈরব বাবু যৌথ উদ্যোগে চালিয়ে যাচ্ছেন। ভৈরববাবুর দাবি ভারতবর্ষের অনেক চাষী বা সংগঠন শুধু ধান সংরক্ষণের কাজ করে আসছে। কিন্তু তার সাথে অনান্য ফসল নিয়ে কাজ খুব কম চাষী বা সংগঠন করছেন। উনার কাছে কম বেশী প্রায় সমস্ত প্রকার দেশী বিজই সংরক্ষিত আছে। উনি চাইছেন এই কাজে যদি আরো চাষী ও সংগঠন এগিয়ে আসেন তাহলে উনার পক্ষেও এই কাজ করা আরো সহজ হবে। উনার কাছে যে যে বীজ সংরক্ষিত আছে তার মধ্যে ধান-240 প্রকার(variety) ভুট্টা-42 প্রকার তুলা-33 প্রকার মিলেট-28 প্রকার গম-36 প্রকার বার্লি-7 প্রকার ওটস-4 প্রকার মাস্টারড-42 প্রকার ফ্লেকসিড- 13 প্রকার এছাড়াও ডাল শস্য 10/12 প্রকারের ও সবজি বীজ সংরক্ষণ আছে। এই সমস্ত ফসল গুলো প্রতি বছরই চাষ করে সংরক্ষণ করে আসছেন। বীজ সংরক্ষণের উদ্দেশ্য-উনি বলছেন যে সমস্ত মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিরা যুদ্ধাস্ত্র বিক্রি করে তারাই রাসায়নিক এবং কীটনাশক সার বিক্রি করে,তারাই আবার ডাইবেটিস ক্যান্সার এর মতো মারন রোগের চিকিত্সা বিক্রি করে। সারা বিশ্ববাসী এই করপোরেটের ফাঁদে পড়ে পড়ে আছে। এই ফাঁদ থেকে মুক্তি পেতে হলে প্রাকৃতিক বা জৈব কৃষিই একমাত্র ভরসা বলে উনি মনে করেন। সুস্বাস্থ্যের জন্য চাই বীষ মুক্ত পরিবেশ ও বীষ মুক্ত খাদ্য। কার্যকলাপ-উনি নিজের জমিতে একটি দু কুঠুরি মাটির বাড়ি ও খড়ের চালের একটি প্রকৃতি বান্ধব গড়ে তুলেছেন। তার এই কার্যক্রম পরিদর্শনে গত 11 ই জুলাই বাঁকুড়ার জেলা শাসক তার কাছে এসেছিলেন। এই প্রকৃতি বান্ধব শালায় প্রায় সময়ই ভারতবর্ষের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সুস্থায়ী কৃষির আন্দোলন কর্মি এবং কৃষিবিজ্ঞানীরা প্রায় ই আসেন। এলাকার বর্তমানে এলাকার কিছু চাষীদের নিয়ে একটি পাঁচাল সুস্থায়ী কৃষি উদ্যোগ সমিতি গড়ে তুলেছেন। এই সমস্ত চাষীরা বিভিন্ন সময়ে তার প্রকৃতি বান্ধব শালায় জৈব চাষ সম্পর্কিত আলোচনায় যোগ দিতে আসেন। তাদের উতপাদিত বীষ মুক্ত ফসল ভারতবর্ষের বিভিন্ন রাজ্যের অরগানিক কাউন্টার গুলিতে নিয়মিত সাপ্লাই করেন।ভারতবর্ষের বিভিন্ন সংগঠনের ডাকে বিভিন্ন রাজ্যে উনার কৃষকদের সাথে নিয়ে উনি কখনো কৃষক প্রশিক্ষণ কর্মশালা কখনো অরগানিক মেলা কখনো বা আন্তর্জাতিক দেশী বীজ মেলাতে যোগ দিতে দৌড়ান। দেশী বীজের উতপাদন যেমন SRI,SMI,Clonal propagation etc এইসব গবেষণা তেও তিনি রত আছেন।আজকের দিনে দেশী বীজ নিয়েই গড়ে উঠুক সবথেকে বড় বানিজ্য। তাই উনি মনে করেন এই দেশী বিজ বিনিময় দেশে বিদেশে ছড়িয়ে পড়ুক।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button