অন্যান্য

আজ গণেশ জননী মাতার পুজো! জেনে নিন সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য।

নিউজ বেঙ্গল ৩৬৫, নদিয়া : প্রতি বছরের ন্যায় এ বছরও শুরু হলো শান্তিপুর কাঁসারি পাড়ায় গণেশ জননী মাতৃ মূর্তির আরাধনা। দুর্গা পুজো যেমন বাঙালির শ্রেষ্ট উৎসব, মেতে ওঠেন প্রত্যেকেই । ঠিক তেমনই শান্তিপুর শহর অন্তর্গত এই কাঁসা রী পাড়া অঞ্চলের প্রধান উৎসব গণেশ জননী পুজোকে কেন্দ্র করে এলাকাবাসীদের উন্মাদনা প্রতিভাত হয়। শান্তিপুরের ইতিহাসের সূত্র ধরে জানা যায়, অন্নপূর্ণা পুজো থেকেই গণেশ জননী পুজোর সৃষ্টি। এক সময় শান্তিপুরে সুবর্ণ বণিক ও কংস বণিক সম্প্রদায়ের মানুষেরা তাদের যৌথ উদ্যোগে মাতা অন্নপূর্ণা পুজোয় নেতৃত্ব দিতেন এবং পুজো পরিচালনা করতেন। কিন্তু আনুমানিক দেড়শো বছর আগে অন্নপূর্ণা পুজো উপলক্ষ্যে অনুষ্ঠিত একটি যাত্রা পালাকে কেন্দ্র করে সুবর্ণ বণিক অর্থাৎ স্বর্ণ শিল্পী এবং কংস বণিক অর্থাৎ কাঁসার পিতল শিল্পীদের মধ্যে বিবাদ চরমে ওঠে। অন্নপূর্ণা পুজোর তিনদিনের মাথায় কংস বণিক সম্প্রদায়ের মানুষেরা ওই পুজো কমিটি থেকে বেরিয়ে এসে এই গণেশ জননী মাতা পুজোর প্রচলন করেন। আনুমানিক ১৩১৬ বঙ্গাব্দ থেকে নিমু দত্ত, ইন্দু দত্ত , মুরারী দত্ত, গণেশ নাথ প্রমুখের নেতৃত্বে এই পুজোর শুভ সূচনা ঘটে। তবে জনশ্রুতি আছে, কংসবণিক সম্প্রদায়ের দুই ভাই গোকুল নাথ এবং যদু নাথ একবার কৃষ্ণ নগর মহারাজের দরবারে দুই শক্তিমান পুরুষ হিসাবে আমন্ত্রিত হয়ে রাজার দুই বীর পালোয়ানের সাথে শারীরিক শক্তি পরীক্ষার লড়াই এ অংশ গ্রহণ করেন এবং কৃষ্ণ নগরের রাজার দুই পালোয়ানকে পরাজিত করেন। এর ফলশ্রুতি হিসাবে মহারাজ খুশি হয়ে কাঁসারি পুকুর, বিলের মাঠ, পুকুরপাড় লেন এবং বড়ো বাজারের মুখ পর্যন্ত রাস্তা তাদের দান করেন। পরবর্তী কালে কিছু জায়গা হস্তান্তরিত হয় বলেই সূত্রের খবর। আবার যদু নাথ এবং গোকুল নাথ, দুই ভাই ছিলেন নিঃসন্তান। সেই কারণেই তাদের ইচ্ছা অনুযায়ী তাদের সম্পত্তির অধিকার চলে আসে কংস বণিক সম্প্রদায়ের হাতে। পরবর্তীকালে যেটা মাতা গণেশ জননীর সম্পত্তি হিসাবে বিবেচিত হয়। মাতা অন্নপূর্ণার সাথে গণেশ জননীর বহু অংশে সাদৃশ্য পরিলক্ষিত হয়। এখানে দেবীর ডান পার্শ্বে মহাদেব এবং বাম পার্শ্বে নারদের অবস্থান। অন্যদিকে মায়ের কোলে ভগবান গণেশের অবস্থান। পাঁচ দিন ধরে চলে মায়ের আরাধনা। যথেষ্ট আরম্বরের সাথেই পূজিত হন মাতা গণেশ জননী। থাকে পূজা প্রাঙ্গণে যথেষ্ট ভোগের আয়োজন এবং প্রায় পুজোর প্রত্যেক দিনেই কিছু সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মহড়া। শান্তিপুরের বাইরে থেকে শিল্পীরা এসে উক্ত অনুষ্ঠানে অংশ গ্রহণ করেন। তবে পুজোর শেষে লগ্নে অর্থাৎ মায়ের পুজোর শেষে গণেশ জননী মাতার কোলে বিরাজমান গণেশকে কোলে নেবার রীতি রয়েছে উক্ত এলাকায়। অনেক নিঃসন্তান দম্পতিরা সন্তান লাভের বাসনায় পুজোর শেষে গণেশকে সস্নেহে নিজের কোলে তুলে নেবার রেওয়াজ রয়েছে। প্রতিমা বিসর্জনের দিন শান্তিপুরের সমগ্র রাজপথ আলোক সজ্জা ও বাজনা সহ মা কে পরিক্রমণ করিয়ে তারপর বিসর্জন দেবার রীতি রয়েছে।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

eighteen − 12 =

Back to top button