কলকাতা

উত্তরবঙ্গে তৃণমূলের ভোটব্যাঙ্কে ধস আটকাতে বিমল গুরুঙ্গের বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহারের প্রস্তুতি।

নিউজ বেঙ্গল 365, নিজস্ব প্রতিনিধি: ২০১৭ সালের ৮ জুন, দার্জিলিঙে বসতে চলেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠক। অন্যদিকে সেইদিনই গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা পৃথক গোর্খাল্যান্ডের দাবিতে বিমল গুরুংয়ের নেতৃত্বে কার্যত জঙ্গি আন্দোলন শুরু করলো। যার জেরে আবার অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠলো পাহাড় থেকে সমতল। কোটি কোটি টাকার সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করা হলো। মাসের পর মাস বনধের জেরে  পাহাড়ের যাবতীয় কাজকর্ম শিকেয় উঠলো। তারই   মধ্যে পাহাড় থেকে নিখোঁজ হয়ে গেলেন মোর্চা প্রধান বিমল গুরুং। পাহাড়ে অশান্তির ঘটনায় বিমলের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলা রুজু হয়। সিংমারিতে সংঘর্ষে তিনজনের মৃত্যু হয় 2017 সালের 17 জুন।  বিমল গুরুং ও তাঁর স্ত্রী আশা গুরুঙ্গের বিরুদ্ধে খুনের মামলা রুজু হয় সেই ঘটনাতে। সরকারি দফতরে আগুন জ্বালানো, পুলিশের ওপর হামলা,  পাহাড়ের পরিস্থিতি ছিল অগ্নিগর্ভ। ওই বছরই ১৩ অক্টোবর গুরুংকে ধরতে গিয়ে খুন হন পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের সাব-ইন্সপেক্টর অমিতাভ মালিক। সেই মামলাতেও অভিযুক্ত বিমল গুরুং। তাঁর বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা জমতে থাকলেও তাঁকে নাগালের মধ্যে পায়নি রাজ্য পুলিশ।বিমল গুরুঙ্গের নিখোঁজ পর্বে তৃণমূল কংগ্রেস বারবার অভিযোগ করেছিল, দিল্লিতে কেন্দ্রীয় শাসকদলের ছত্রছায়ায় দিন কাটাচ্ছে গুরুং। মোর্চা সুপ্রিমো অবশ্য সেই অভিযোগ অস্বীকারও করেননি। তবে গত অক্টোবর মাসে হটাৎ করে সবাইকে চমকে দিয়ে খোদ বাংলার রাজধানী কলকাতায় বসে সাংবাদিক বৈঠক করলেন বিমল গুরুঙ্গে। জানালেন, পুনরায় মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেই দেখতে চান। এরপর থেকেই সমস্ত রাজনৌতিক সমীকরণ বদল হতে থাকে। গুরুঙের প্রতি রাজ্যের শাসকদলের মনোভাব নরম হয়। পাহাড়ে ফিরে যান বিমল গুরুং। শুরু করেন রাজনৈতিক কার্যকলাপ।লোকসভা ভোটে উত্তরবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের ব্যাপক বিপর্যয়ের পর সামনেই বিধানসভা নির্বাচন। ভোটব্যাংকের ধস আটকাতে ময়দানে নেমেছে তৃণমূল।  উত্তরবঙ্গের তিনটি জেলায় গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার প্রভাব বিস্তর। তাই এবারের নির্বাচনে বিপর্যয় মোকাবিলা করতে বিমল গুরুঙ্গের সঙ্গে হাত মেলাতে সম্পর্কের পুরোনো বিবাদকে মেরামতের চেষ্টা শুরু করেছে শাসকদল। তারই প্রস্তুতি হিসাবে গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা নেতা বিমল গুরুঙ্গের বিরুদ্ধে দার্জিলিং, কার্শিয়ং, কালিম্পঙে থাকা ৭০টিরও বেশি মামলা প্রত্যাহার করতে চলেছে রাজ্য সরকার বলে সূত্রের খবর। রাজ্য সরকারের আইন দফতর গুরুঙ্গের বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহারের আবেদন করার জন্য জেলা পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছে। ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে নিম্ন আদালতগুলিতে থাকা ৭০ টি মামলা। সূত্রে জানা গেছে, তিন জেলার জেলাশাসকদের মাধ্যমে আদালতগুলিতে চিঠি পাঠিয়ে জানিয়ে  দিয়েছে রাজ্য সরকার। যদিও খুন ও ইউএপিএ ধারায় যে মামলাগুলি করা হয়েছিল তা প্রত্যাহার করা হয়নি বলে জানা গেছে। তবে কোন কোন মামলাগুলি প্রত্যাহার করা হল তা রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে এখনও স্পষ্ট করে কিছু বলা হয়নি।বিমল গুরুঙ্গের নিখোঁজ হওয়ার পর শাসকদল বিনয় তামাং ঘনিষ্ঠ হয়ে উঠলেও তাঁকে দিয়ে ভোটব্যাক্স ভরানো যায়নি। তাই পুনরায় বিমল গুরুংকে ময়দানে নামিয়ে তৃণমূল হারানো জমি পুনরুদ্ধারের চেষ্টায় নামতে চলেছে বলে রাজনৈতিক মহলের ধারণা। তবে উত্তরবঙ্গে ভোট বিপর্যয় মোকাবিলায় বিমল গুরুঙ্গের হাত তৃণমূলের পক্ষে কতটা মজবুত হবে নাকি বিজেপির হাত শক্ত করবে তা জানতে বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করতে হবে। 

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

3 × 3 =

Back to top button