কলকাতা

যদি মনে হয় এই মতে মানুষের কাজ করতে অসুবিধা, অন্য পথ খোলা আছে: রাজীব বন্দোপাধ্যায়।

নিউজ বেঙ্গল ৩৬৫ ডেস্ক : রামকৃষ্ণের বানীকে হাতিয়ার করেই মত বদলের ইঙ্গিত রাজীব বন্দোপাধ্যায়ের। শুধু তাই নয় রীতিমত গেরুয়া জহর কোটে মুখে আনলেন সনাতন ধর্মের কথাও। যা নিয়ে ইতিমধ্যে তোলপাড় বঙ্গ রাজনীতি। শুক্রবার সনাতন ব্রাক্ষণ ট্রষ্ট এর সভা থেকে রাজ্যের বনমন্ত্রী রীতিমত চাপ বাড়ালেন শাসক দলের। দু:স্থ ব্রাক্ষণ পুরোহিতদের ভাতার দাবীতে অনেকদিন ধরেই লড়াই করছেন রাজীব বন্দোপাধ্যায়। চলতি বছরের ১৫ সেপ্টেম্বর চালুও হয় মাসে ১ হাজার টাকা  করে এই ভাতা। প্রাথমিকভাবে ৮ হাজার পুরোহিতকে এই ভাতা দেওয়ার কথা ঘোষনা করেন মুখ্যমন্ত্রী। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ভাতা দিয়েই তাদের বিরুদ্ধে ওঠা  ‘সংখ্যালঘু তোষন’ এর মোক্ষম জবাব দেয় তৃণমূল। যদিও পরিসংখ্যান অনুযায়ী, রাজ্যে পুরোহিত ভাতার যোগ্য প্রাপকের সংখ্যা কমবেশী ৩ লক্ষের কাছাকাছি। যা বর্তমানে প্রাপকের তুলনায় কার্যত কিছুই না। আর  শুক্রবার এই ভাতা নিয়েও, নাম না করেই সরকারের বিরুদ্ধেই লড়াইয়ে নামার বার্তা দিলেন রাজীব। তবে এদিন নিজের বক্তব্যে ফের আরও একবার তৃণমূলের রক্তচাপ বাড়ালেন তিনি। ‘কথামৃত’ র বানী তুলে রাজীবের বক্তব্য, ” ঠাকুর বলেছেন,যত মত তত পথ। যদি মনে হয় এই মতে মানুষের কাজ করতে অসুবিধা হচ্ছে। তাহলে অনেক পথ খোলা আছে, সেই পথে যেতে চাইলে, কেউ তাকে সরাতে পারবে বলে মনে করি না।” তবে এখানেই শেষ নয়, ইতিমধ্যেই এই ভাতা নিয়ে রাজ্যজুড়ে জোড়কদমে প্রচারে নেমেছে তৃণমূল। এমনকী একাধিক সভায় খোদ মুখ্যমন্ত্রীই এর ঢালাও প্রচার করছেন। এমনকী  প্রচারের ঢক্কা নিনাদে এই ‘ভাতা’তেই রাজ্যের ব্রাক্ষণ পুরোহিতদের আর্থিক-সামাজিক ব্যপক উন্নয়নের ফিরিস্তিও শোনা যায় তৃণমূলের নেতাদের গলায়। কিন্তু শুক্রবার এই প্রচারের  বেলুন অনেকটাই  চুপসে দিলেন তিনি। বরং যদি প্রযোজন হয়, সরাসরি সরকারের বিরুদ্ধেই পথে নামার প্রচ্ছন্ন বার্তাও  দিয়ে রাখলেন রাজীব। বলেন,” সংখ্যার ভিত্তিতে নয়, আমি মনে করি জেলায় জেলায় ব্লকে ব্লকে শুধুমাত্র ১-২ জন দুস্থ নয়, প্রত্যেকেই দু:স্থ, শুধু ৮-৯ হাজার নয়, যত দু:স্থ ব্রাক্ষণ পুরোহিত তাদেরকে ভাতা দিতেই হবে দিতেই হবে দিতেই হবে।” এখানেই শেষ নয়, পুরোহিতদের দাবী আদায়ে যে তিনি প্রযোজনে সরকারের চোখে চোখ রেখে লড়াইএ আছেন, তাও এদিন জোড় গলায় জানিযে দিয়ে বলেন,” চুপ থাকলে সবাই দাবিয়ে দেবে, জোড়ে আওয়াজ তুলুন। আমি যদি আপনাদের সমান সুযোগ সুবিধা, সমান মর্যাদা, সমান সম্মান না এনে দিতে পারি, তবে আমি শেষ দেখে ছাড়বো।” পাশাপাশি এদিন নিজের বক্তৃতার প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত একাধিকবার সনাতন ধর্মের কথা তুলে ধরেন তিনি। বলেন, “আমি চাই সবাই সুখে থাকুক। সনাতন হিন্দু ধর্মের সব মানুষ যেন ভালো থাকে, সুখে থাকে।” রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের প্রশ্ন , শুক্রবার নিজের বক্তব্যে কী তবে মত বদলে নতুন পথে যাওয়ার বার্তা দিলেন তিনি?

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

five × one =

Back to top button