কলকাতা

পাহাড়ে যেন ” ব্রাত্য” থাকেন বিমলরা, মুখ্যমন্ত্রীকে আবেদন বিনয়-অনীতদের।

নিউজ বেঙ্গল ৩৬৫ ডেস্ক ; নবান্নের বৈঠকেও  বিমল গুরুং সম্পর্কে কড়া অবস্থান বজায় রাখল বিনয় তামাং -অনীত থাপারা। বরং মুখ্যমন্ত্রীর সামনেই বুঝিয়ে দিলেন কোনভাবে বিমল গুরুংদের সঙ্গে কোনও সমঝোতায় যাবে না তারা। এদিন গোর্খা ভবনে সাংবাদিক সমেলন করে বিমল গুরুংকে নিয়ে নিজেদের অবস্থান সাফ করে দেন বিনয়। এবং কোনও অবস্থাতেই যে পাহাড়ে বিমল গুরুংদের একইঞ্চি জমিও যে ছাড়া হবে না, বাগডোগরা বিমানবন্দর থেকে গোর্খা ভবন, তা স্পষ্ট করে দেন বিনয়-অনীতরা। এমনকী বিমল গুরুং-রোশন গিরিরা পাহাড়ে এলে যে পাহাড় আবার অশান্ত হতে পারে, তাও একাধিকবার বুঝিয়ে দিয়েছেন বিনয়রা। তবে বন্ধু হিসাবে যে তারা শাসক দলের “বিশ্বস্ত” তাও বুঝিয়ে দিয়ে বিনয় তামাং বলেন,”  ‘তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে আমাদের একটা জোট রয়েছে। আমরা একসঙ্গে কাজ করছি। পাহাড়ের উন্নয়ন এবং শান্তিই আমাদের একমাত্র লক্ষ্য। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একজন দক্ষ রাজনীতিবিদ। তাঁর উপর আমাদের আস্থা, ভরসা আছে। এটুকু বলতে পারি।’ আসলে ৩ বছর আগে যখন পাহাড় অশান্ত ছিল, তখন থেকেই সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে পরিস্থিতি অনেকটাই অনুকূলে আনেন তারা। সেই সময় বিমল গুরুং -রোশন গিরিদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন বিনয় তামাং-অনীত থাপারা। এখন সেই বিমলদের সঙ্গে হাতে হাত মিলিয়ে কাজ করা কার্যত অসম্ভব বিনয় তামাং-অনীত থাপাদের। বিমলদের অনুপস্থিতি তে গত ৩ বছর ধরে পাহাড়ে কিছুটা হলেও জনসমর্থন বা পায়ের তলায় জমি ফিরে পেয়েছে বিনয়-অনীতরা। তাই আর কোনওভাবে সেই সমর্থন হারাতে চাইছেন না বিনয় তামাং-অনীত থাপারা। তাই ফের বিমল গুরুংরা পাহাড়ে আসুক তা চাইছেন না বিনয়রা। মঙ্গলবারও পাহাড় জুড়ে বিমল বিরোধী বিশাল মিছিল হয়েছে। মঙ্গলবার বিনয় নিজেও বলেন, ‘দার্জিলিং পাহাড়ের জন্য বিমল গুরুং এখন অপ্রসাঙ্গিক। উনি এখন ১৫০ টিরও বেশি মামলায় অভিযুক্ত পলাতক এক ব্যক্তি। পাহাড়ের রাজনীতিতে বিমলের আর জায়গা নেই।’ সূত্রের খবর, এদিন বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী নিজে পাহাড়ে শান্তি বজায় রাখার দায়িত্ব দিয়েছেন বিনয় তামাং-অনীত থাপাদের। তবে সেক্ষেত্রে বিমলদের পাহাড়ে ঢোকার ক্ষেত্রে নিজেদের সমস্যার কথা মুখ্যমন্ত্রীকে জানিয়ে দেন বিনয়রা। অপরদিকে রবিবার তৃণমূলের এক প্রথমসারির নেতার সঙ্গে বৈঠক করেন বিমল। প্রশান্ত কিশোরের দলের সঙ্গেও তাঁর যোগাযোগ রয়েছে। তবে বিমল বিজেপির সঙ্গ ছেড়ে আপাতত পৃথক রাজ্যের দাবি শিকেয় তুলে তৃণমূলের সঙ্গে হাত মেলানোয় তাঁর বহু অনুগামী হতাশ। তাঁদের কেউ কেউ জিএনএলএফ বা বিনয় তামাংদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

18 + 5 =

Back to top button