কলকাতা

ঘাসফুলের জননেতা শুভেন্দু নভেম্বরেই পদ্মফুলে?

নিউজ বেঙ্গল ৩৬৫ ডেস্ক: তবে কী জল্পনার শেষ? অন্তত সূত্রের খবর তাই। সব কিছু ঠিক থাকলে মুকুল রায়ের পর তৃনমূল দলের জনপ্রিয় মুখ শুভেন্দু অধিকারী নভেম্বরেই গেরুয়া শিবিরে যোগ দিচ্ছেন। একের পর এক পরিপ্রেক্ষিত সামনে রেখেই শেষ পর্যন্ত পদ্ম শিবিরে নাম লেখাতে চলেছেন এই হেভিওয়েট তৃণমূল নেতা ও রাজ্যের অন্যতম প্রভাবশালী মন্ত্রী। বিজেপি সূত্রে খবর, ইতিমধ্যে সব প্রস্তুতি শেষ। এমনকী জেলায় জেলায় তার “টিম” ও তৈরী। এবার শুধু যোগ দেওয়ার পালা। বিজেপি সূত্রে আরও খবর, এর মধ্যে একাধিকবার অমিত শাহ’র সঙ্গে বৈঠক হয়েছে শুভেন্দুর। যার মধ্যে ২ টি বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জেপি নাড্ডা ও মুকুল রায়। এমনকী লকডাউন চলাকলীনই সড়কপথে দিল্লী গিয়েও অমিত শাহের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। যে খবর চলে যায় খোদ তৃনমূল সুপ্রিমোর কাছে। আর তারপর থেকেই কথাবার্তা বন্ধ মমতা-শুভেন্দুর। এমনকি করোনা আক্রান্ত হওয়ার পরও শুভেন্দু অধিকারীর কোন খোজই নেননি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুভেন্দুর মতো জনপ্রিয় নেতাকে দূরে সরিয়ে রেখেছেন মমতা। জেলার অনেক শুভেন্দু বিরোধী নেতা এমনকী রাজ্যের অনেক নেতাও শুভেন্দুকে হয় প্রতিপন্ন করার খেলায় নেমেছে। তৃণমূল সূত্রে খবর, শুভেন্দু যে আর দলে নেই, তা ধরে নিয়েই এগোচ্ছে টিম পিকে ও খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এমনকী পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুরে শুভেন্দু বিরোধীদের একজোট করার কাজও শুরু করেছে তৃণমূল। পূর্ব মেদিনীপুরে এই কাজের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে রামনগরের বিধায়ক অখিল গিরিকে। আর পশ্চিমে রাজ্যের মন্ত্রী সৌমেন মহাপাত্রকে। অন্যদিকে বসে নেই শুভেন্দুও। প্রথমদিকে আলাদা দল করার পরিকল্পনা থাকলেও শুভেন্দু ঘনিষ্ঠদের মতে, সেই পরিকল্পনা আপাতত বাতিল করেছেন। তার বদলে সরাসরি গেরুয়া শিবিরের হাত ধরার সিধান্ত নিয়েছেন তিনি। কারণ, আর হাতে গোনা কয়েকমাস বাকী নির্বাচনের। আর মধ্যে দলের প্রতীক পরিচয করানো কার্যত অসম্ভব। এছাড়াও নির্বাচন লড়তে দরকার এই মুহুর্তে কয়েক কোটি টাকা, যা জোগাড় করা একটু কঠিন। পাশাপাশি রাজ্যজুড়ে নতুন দলের সাংগাঠনিক পরিকাঠামো তৈরি করার সময় ও হাতে নেই। এর বাইরে অনুগামীদের নিরাপত্তার বিষযও আছে। আর বিজেপিও রাজ্যে কোন শরিককে নিয়ে নির্বাচনে লড়ার পক্ষে নয়। সূত্রের খবর, তাই শেষ পর্যন্ত সরাসরি বিজেপিতেই যোগ দেবেন শুভেন্দু।
প্রাথমিকভাবে ঠিক হয়েছে পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া,মুর্শিদাবাদ জেলার মোট ৪৫ টি আসনে প্রার্থী চুড়ান্ত করবেন শুভেন্দু। যার মধ্যে পূর্বে ১৬, পশ্চিম মেদিনীপুরে ১৫, ঝাড়গ্রামে ৪ টি ছাড়াও বাকী জেলা থেকে ১০ আসনে প্রার্থী তালিকা ফাইনাল করবেন শুভেন্দু। তবে আপাতত মুখ্যমন্ত্রীত্বের আশ্বাস না দিলেও ক্ষমতায় আসার পর তিনি যে মুখ্যমন্ত্রীত্বের লড়াই-এ থাকবেন তা অমিত শাহ কথা দিয়েছেন বলে সুত্রের খবর। তবে চাইলে তিনি যে উপ-মুখ্যমন্ত্রী হবেন, তাও জানিয়ে দিয়েছেন অমিত শাহ। এমনকী শুভেন্দু অনুগামীদের বিজেপিতে যথাযোগ্য মর্যাদা দেওয়া হবে বলেই অমিত শাহ জানিয়েছেন। ইতিমধ্যে গোটা বিষয় নিয়ে আলাদা করে মুকুল রায়ের সঙ্গেও কথা বলেছেন শাহ-নাড্ডা। শুভেন্দু কে নেওয়া বা তার শর্ত, কোনটা নিয়েই আপত্তি নেই মুকুলের। রাজনৈতিক মহলের মতে, শুভেন্দুকে মাইনাস ধরেই এগোচ্ছে তৃনমুল, তাই কখনও ফিরহাদ আবার কখনও অখিল গিরিকে দিয়ে শুভেন্দুকে আক্রমণের রাস্তা খোলা রাখছে তৃণমূল। বিজেপি সূত্রে খবর, নভেম্বর মাসেই গেরুয়া শিবিরে যোগ দেবেন তিনি। আর  কালী পুজোর পরই সেচ,পরিবহন ও জলসম্পদ উন্নয়ন দফতরের মন্ত্রী হিসাবে ও দল থেকেও পদত্যাগ  করবেন তিনি। শুরু করবেন নতুন অধ্যায়।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

two × one =

Back to top button