কলকাতা

বিজয়ার মিষ্টিমুখে তিক্ততা মিটল দিলীপ-সৌমিত্রর।

নিউজ বেঙ্গল ৩৬৫ ডেস্ক:  শেষপর্যন্ত  সফল হলেন বিজেপি’‌র কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। বিবদমান দু’‌পক্ষকে এক জায়গায় নিয়ে আসতে পারলেন তাঁরা। আর সেই সন্ধিক্ষণ হল   বিজয়া দশমী। আর তারা হলেন বিজেপি’ রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ ও যুব মোর্চার রাজ্য সভাপতি সৌমিত্র খান। শারদ মরসুমেই সৌমিত্রের তৈরি করা সমস্ত জেলা কমিটি ভেঙে দেন দিলীপ ঘোষ। যদিও এই প্রথম নয়, এর আগেও একবার সৌমিত্রের তৈরী করা কমিটি ভেঙে দিয়েছিলেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি। দ্বিতীয়বার একই ঘটনা ঘটায় ক্ষোভ প্রকাশ করে যুব মোর্চার সমস্ত হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ থেকে বেড়িয়ে আসেন সৌমিত্র খান। এমনকী যুব মোর্চা থেকে ইস্তফা দেবেন বলেও ভিডিও বার্তায় তোপ দেগেছিলেন। পরে অবশ্য তিনি সিদ্ধান্ত বদল করেছিলেন। এবার দশমীর শুভেচ্ছা জানাতে একধাপ এগিয়ে দিলীপ ঘোষের বাড়ি চলে গেলেন সৌমিত্র খান। এমনকী  দিলীপ ঘোষের পায়ে হাত দিয়ে প্রণামও সেরে নেন  সৌমিত্র। আপ্লুত দিলীপও গায়ে হাত বুলিয়ে শুভেচ্ছা জানালেন। উপহার দেন পাঞ্জাবীও। পরে  ফেসবুকে সেই ছবি আপলোড করে সৌমিত্র খান লেখেন, ‘‌দাদার বাড়িতে গিয়ে বিজয়ার প্রণাম করে এলাম।’‌ সেখানে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সুব্রত চট্টোপাধ্যায় এবং সায়ন্তন বসু। আসলে তাঁরা সেখানে সাক্ষী হিসাবে উপস্থিত ছিলেন। যেমন নির্দেশ এসেছিল কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছ থেকে। বিজেপি’‌র কেন্দ্রীয় নেতারা দেখাতে চাইলেন যে, বিভাজনের যে কাঁটা পদ্মে লেগেছে তা উপড়ে ফেলা হল। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, এর স্থায়ীত্ব কতদিনের?‌ এখানে দু’‌জনেই সাংসদ। দু’‌জনেই চরম পথ ধরেছিলেন। সেখান থেকে নরমে নামিয়ে আনা হল। বছর ঘুরলেই বিধানসভা নির্বাচন। তাই এই ফাটল মেরামত করে বার্তা দেওয়া হল। রাজনৈতিক মহলের মতে, আসলে রাজ্যে বিজেপি এখন গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে জর্জরিত। আর তাই দিলীপ-সৌমিত্র’র এই ছবি দেখিয়ে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব দলীয় কর্মী-সমর্থকদের বার্তা দিতে চাইছে যে বঙ্গ বিজেপিতে কোনও বিভাজন নেই। তবে সত্যিই কী সমস্যা মিটল?‌ উত্তর সময় দেবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button