কলকাতা

যুব মোর্চার মাঝারী মানের সমাবেশ হিট করিয়ে দিলেন মমতা বন্দোপাধ্যায়।

নিউজ বেঙ্গল ৩৬৫ ডেস্ক : এর থেকে বেশী ভীড় কলকাতা দেখেছে বামেদের নবান্ন অভিযানে । এর থেকে  বেশী  ছাত্র-যুবদের  সমাবেশ দেখেছে। সেই হিসাবে বৃহস্পতিবারের যুব মোর্চার নবান্ন অভিযান ছিল মাঝারী মাপের। হয়ত অতিমারি কারন, এই কর্মসূচীতে মারকাটারি লোক, না সেটাও হয়নি। কিন্তু সেই মাঝারী মাপের  “শো” কেই হিট করিয়ে দিলেন মমতা বন্দোপাধ্যায়। এর আগেও এই ধরনের যুব সমাবেশ কলকাতার বুকে হয়েছে।  কিন্তু যেটা হয়নি তা হল এই সমাবেশ ব্যর্থ করতে এই ধরনের “সেম সাইড’ কোন দিন হয় নি। আর এই “সেম সাইড”ই কার্যত ১০ গোল দিয়ে দিল রাজ্য প্রশাসন কে। সমাবেশের দিক থেকে যুব মোর্চার বৃহস্পতিবারের জমায়েতে মেরে কেটে ৩-৪ হাজার কর্মী-সমর্থক ছিল। নবান্ন অভিযানে বিশৃঙখলা, ইট বৃষ্টি, টায়ার জ্বালানো, ব্যারিকেড ভাঙা সব কিছুই হয়েছে । অর্থাৎ প্রশাসনিক স্তরে সব কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার সব বন্দবস্ত ছিল। এমনকি মিছিল থেকে অস্ত্র সহ  রবিন্দর সিং নামক এক যুবকও ধরা পরে, তারপর!!! অথচ ঠিক কি উদ্দেশ্যে নবান্ন অভিযান তাও যেমন স্পষ্ট নয়। আবার এই অভিযানকে ঘিরে এই প্রথম খবরের কাগজ থেকে শুরু করে বৈদ্যুতিন মাধ্যমে ঢালাও প্রচার করা হয়। যদিও রাজনতিক মহলের মতে যে পরিমান প্রচার করা হলেও জমায়েতের সংখ্যায় বামেদের নবান্ন অভিযান থেকে অনেকটাই পিছিয়ে গতকালের যুব মোর্চার নবান্ন অভিযান। অথচ গতকাল রাজ্য নয় গোটা দেশের মিডিয়ার নজর ছিল নবান্ন অভিযানের দিকে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, যুব মোর্চার এই জমায়েত কে হিট করিয়ে দিলেন মমতা বন্দোপাধ্যায়। তার বেশকিছু সিদ্ধান্তই “হিট” করিয়ে দিয়েছে যুব  মোর্চার কর্মসুচীকে। যার শুরু স্যানিটাইজিং এর জন্য নবান্ন বন্ধ রাখা। সাধারণত সপ্তাহে শনি ও রবিবার ছুটির দিন থাকায় স্যানেটাইজ করা হলেও এই সপ্তাহে আচমকাই বৃহস্পতি ও শুক্রবার এই কারণে লিখিতভাবে  ছুটি ঘোষনা করে নবান্ন। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই সিধান্তই কার্যত প্রথম গোল দিয়ে দেয় যুব মোর্চাকে, গোটা রাজ্যজুড়ে প্রচারে বাড়তি অক্সিজেন পেয়ে যায যুব মোর্চা। বিশিষ্ট সাংবদিক ও রাজনৈতিক বিস্লেষক দেবাশীষ দাশগুপ্তের মতে,” এই সমাবেশকে মাইলেজ দিয়ে দিল মমতা ব্ন্দপাধ্যাযের বেশ কয়েকটি ভুল সিদ্ধান্ত। যার ফলে এই মাঝারী মাপের কর্মসূচীও হিট হয়ে গেল। যুব মোর্চার উচিত মুখ্যমন্ত্রীর কাছে কৃতজ্ঞ থাকা।” বৃহস্পতিবারের নবান্ন অভিযানের পিছনে আসলে বিজেপি-তৃনূমুল আতাত দেখ্ছে বাম-কংগ্রেস। রাজ্যের বিরোধী দলনেতা আব্দুল মান্নানের বক্তব্য,” এটা তো গটআপ শো। তাই একে সফল করতেই হবে। আসলে মমতা বন্দ্পাধ্যায় বিজেপির পুরনো বন্ধু। তাই রাজ্যে বাম ও কংগ্রেস দুর্বল সেটা প্রমান করতেই হবে। সেই কারণে পুরো পরিকল্পনা করে নবান্ন বন্ধ রাখা থেকে চিন্তার ভাজ নিয়ে খোদ মুখ্যমন্ত্রীর ভবানী ভবন চলে যাওয়া সবটাই স্ক্রিপ্ট করে রাখা। আসলে কি করে এই অভিযান সফল করা যায় তা নিযে যেন বেশী চিন্তা মুখ্যমন্ত্রীর ছিল। নয়ত এত কম লোক নিয়ে হওয়া একটা কর্মসূচীকে অক্সিজেন দিয়ে হিট করিয়ে দিল তৃণমূল। বিজেপিকে শক্তিশালী বোঝাতে আসলে সবটাই ভয়ে আর বাচার তাগিদে।” অন্যদিকে বাম পরিষদীয় দলনেতা সুজন চক্রবর্তী বলেন, ” বন্দুক-বোমা আর ইট হাতে কয়েকটা বিক্ষিপ্ত জায়গায় কিছু সমর্থক নিয়ে লাফা লাফি দেখলাম। এর থেকে বেশী জমায়েত বামেদের ছাত্র-যুবদের নবান্ন অভিযানে হয়েছিল। কিন্তু সেই ব্যর্থ সমাবেশকে হিট করিয়েদিলেন বিজেপির পুরনো বন্ধু মমতা বন্দ্পাধ্যায়। ” তবে তৃণমূলপন্থী রাজনৈতিক বিস্লেষক বাদল দেব্নাথ তা মানতে নারাজ।  তার মতে,” না এই অভিযান পুরোটাই ফ্লপ। মমতা বন্দোপাধ্যাযের নবান্ন বন্ধ রাখার মাস্টার স্ট্রোক বিজেপির মুখ পুড়িয়ে দিল।”

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button