কলকাতা

সাংসদের ছায়াসঙ্গী মণীশ ছিলেন ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলের “বেতাজ বাদশা”।

নিউজ বেঙ্গল ৩৬৫ ডেস্ক : তিনি ছিলেন ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলের “বেতাজ বাদশা”। কেউ কেউ আবার বাহুবলী নামেও ডাকতেন। লোকবল আর জনপ্রিয়তা রীতিমত ঈর্ষা করার মতো। জীবনে রাজনীতি করবেন, না এমনটা কোনও দিন ভাবেন নি চিকিৎসক চন্দ্রমনি শুক্লার ছেলে মণীশ শুক্লা। মিষ্টি ব্যবহার আর বিপদে ঝাপিযে পড়া, রাতারাতি জনপ্রিয় করে তোলে তাকে। আদপে এলাহবাদের ব্রাক্ষন। সেখান থেকে খড়দহের আদর্শপল্লীতে চলে আসা গোটা শুক্লা পরিবারের।   বাম আমল। ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চল এলাকায় তখন বাঘে-গরুতে এক ঘাটে জল খায় কেমিস্ট্রির শিক্ষক সিপিআই এমের দোরদণ্ডপ্রতাপ সাংসদ তড়িতবরণ তোপদারের নামে। সেই তড়িত তোপদারেরই চোখে পড়ে যান মণীশ। আইন নিয়ে পড়তে সুরেন্দ্রনাথ কলেজে ভর্তি হন মণীশ। ২০০৭ সালে  মূলত: তড়িত তোপদারের পরামর্শে সেজ কলেজেরই এসএফআই ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক হলেন ।  সেই সময় থেকেই এই বাম সাংসদের প্রায় ডানহাতে পরিণত হলেন মণীশ। মারাত্মক সাংগাঠনিক ক্ষমতা আর বুদ্ধিমত্তায় ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলের  বামেদের ভোট মেশিনারীর প্রায় অনেকটাই কব্জা করে নেন তিনি। নাম ছড়াতে থাকে মনীশের। একদিকে সমাজসেবা অপরদিকে বাম রাজনীতি, ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলের অন্যতম পরিচিত মুখ হয়ে উঠলেন মণীশ শুক্লা। মাঝে এম বি এ পড়তে বেঙ্গালোর চলে যাওযায় রাজনীতিতে ছেদ পড়ে ডিওয়াইএফআই নেতা মনীশের। এর মাঝেই ২০০৯ সালে নক্ষত্রপতন। লোকসভায় তৃণমূল প্রার্থী দিনেশ ত্রিবেদীর কাছে পরাজিত হন তড়িত তোপদার। আর মনীশেরও দুরত্ব বাড়তে থাকে সিপিআইএমের সঙ্গে। নিজের দক্ষতায় এবার চোখে পড়ে যান ভাটপাড়ার আরও এক বাহুবলী বিধায়ক অর্জুন সিংযের। ২০০৯ সালেই অর্জুনের হাত ধরে তৃণমূলে যোগ দেন মণীশ। দীনেশ ত্রিবেদীর হয়ে ভোটে পরিশ্রম করে মণীশ। আরও আরও দায়িত্ব বাড়ে তার। কার্যত অর্জুন সিংযের ডানহাতে পরিণত হন মণীশ।  তখন থেকেই ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলে এই মনীশের ইচ্ছা ছাড়া একটা পাতা গলার ও উপায় ছিল না।  তবে তৃণমূলে এলেও বরাবরই মুকুল রায়ের অপছন্দের তালিকায় ছিলেন মণীশ। তাই টিটাগড় পৌরসভার নির্বাচনে মণীশ শুক্লাকে টিকিট দিতে রাজি হননি মুকুল। একপ্রকার চ্যালেঞ্জ নিয়েই ২০১৫ সালে টিটাগড় পৌরসভার ২টি ওয়ার্ডে প্রার্থী হন তিনি। ৭ ও ১২ নম্বর ওয়ার্ডে নির্দল হিসাবে জিতে কাউন্সিলর নির্বচিত হন। পরে অর্জুন সিংযের হাত ধরে তৃণমূলে যোগ দেন মণীশ। দলের রাশ সম্পূর্ণভাবে চলে আসে তার হাতে। এরপর ফের দলবাদল, ২০১৯ এ বিজেপির টিকিটে সাংসদ নির্বাচিত হন অর্জুন। দলে টেনে নেন দুই কন্যা সন্তানের পিতা মণীশকে। সেই থেকে সাংসদের ছায়াসঙ্গী। তবে তার উপর আক্রমণ এই প্রথম নয়, ২০১০ সালে মনিরামপুরে তকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া, অল্পের জন্য বেচে যান তিনি। এরপর ২০১২ সালে ব্রক্ষস্থানে আর ২০১৩ সালে টিটাগড় পুরসভার বিপরীতে গুলি করা হয়। সেবারও প্রাণে বাচেন তিনি। তবে এবার আর শেষরক্ষা হল না খুন সহ ১৬ টি মামলার “আসামী” মনীশের। আসলে এই শিল্পাঞ্চলের রাজনীতি অনেকটাই গো-বলয় রাজনীতি ধাচের। সেই ধারাই ধরে রাখেন মণীশ। টিটাগড়,থেকে সোদপুর-ব্যারাকপুর পর্যন্ত ছিল তার সাম্রাজ্য। আর তাই তড়িত থেকে অর্জুন, শিল্পাঞ্চলের ক্ষমতা হাতে রাখতে কাছে টেনেছে মণীশকে।  আর এই মনীশের মৃত্যুকে হাতিয়ার করে মাথা তুলে দাড়াতে চাইছে এই ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলে নড়বড়ে হয়ে যাওয়া বিজেপি। অনেকটা সেই রিজওয়ানূরের মতো। সোমবার গোটা রাজপথ থেকে শুরু করে মিডিয়া জুড়ে শুধু মণীশ আর মণীশ। একদিকে বিজেপির ছোট বড়  নেতা, এমনকী খোদ রাজ্যপালকে পর্যন্ত হস্তক্ষেপ করতে হয় এই হত্যা নিয়ে। এমনকী বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব পর্যন্ত দিল্লী থেকে এই খুন নিয়ে রাজ্যের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। গতকাল রাজপথ দখল ছিল বিজেপির। সেখানে দাড়িয়ে অনেকটাই “চুপ” ছিল তৃনূমুল। এমনকী সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম থেকে আম-জনতা সোমবার পুরোটাই ছিল মণীশ শুক্লার দখলে। তাতে এটুকু বলাই যায়, আগামীদিন কি হবে তার থেকে বড় কথা অন্তত সোমবার তৃণমূলকে কার্যত ১০-0 হারিয়ে দিল বিজেপি।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button