কলকাতা

“বুথ কমিটি না করলে জেতার আশা নেই”- দিল্লিকে রিপোর্ট মুকুল রায়ের।

নিউজ বেঙ্গল ৩৬৫ ডেস্ক : ২০২১- এর নির্বাচন আর মাত্র আট মাস দুরে। রীতিমত কোমড় বেধে ময়দানে নেমেছে গেরুয়া শিবির। আম্ফান- কাটমানি সহ একাধিক ইস্যুতে চাপ বাড়িয়েছে বিজেপি। তবে এরই মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে আদৌ কি ২১ -এ লক্ষ্যে পৌছতে পারবে বিজেপি! সূত্রের খবর, তা নিয়ে যথেষ্ট দ্বন্দ্বে বঙ্গ বিজেপি। একেই দলে চুড়ান্ত গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব। যা নিয়ে কার্যত ছন্নছাড়া গেরুয়া শিবির। এরই মধ্যে বেশ কিছু প্রশ্ন তুলেছেন মুকুল রায়। রাজ্য বিজেপির প্রস্তুতিতে কোথায় কি খামতি তা নিয়ে  ইতিমধ্যে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে “রিপোর্ট” দিয়েছেন তিনি। বিশেষ করে ভোটের সংগঠন নিয়ে তিনি যে আদৌ সন্তুষ্ট নন, তাও জানিযেছেন কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে। ভোটের সংগঠন থেকে ভোট পরিচালনা এমনকী পরিসংখ্যানেও এই মুহুর্তে ” চাণক্য” মুকুল রায়। ২০১১ সালের বিধানসভা থেকে একাধিক লোকসভা, পৌরসভা-পঞ্চায়েত থেকে রাজ্যসভা, সবেতেই তৃণমূলের তড়ি পার করিয়েছেন এক সময়ে মমতার “সেকেন্ড-ইন-কমান্ড” মুকুল রায়। এমনকী এই রাজ্য থেকে বিজেপির ১৮ আসন জয়ের পিছনেও ” মাস্টার মাইন্ড” কাঁচরাপাড়া ঘটক রোডের এই মানুষটি। সূত্রের খবর, ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে তিনি জানিয়েছেন, আপাতত যে ভাবে দল চলছে, তাতে সবাই যা ভাবছে তার সঙ্গে বাস্তবের কোন মিল নেই। এমনকী লক্ষ্যপূরণ আপাতত অলীক কল্পনা। ২০২১-এর আগে কার্যত বর্তমান ক্ষমতাশীন দিলীপ গোষ্ঠীকেই নিশানা করছেন মুকুল। সূত্রের রিপোর্ট, দিল্লীকে তিনি সাফ জানিয়েছেন-“বুথে বুথে না জিততে পারলে বাংলার মসনদ দখলের আশা ত্যাগ করতে হবে।” তৃনমূলে থাকাকালীন কার্যত নিজের হাতেই বুথস্তর থেকে জেলা পর্যন্ত সংগঠন সাজিয়েছিলেন মুকুল রায়। তাই ভোটযুদ্ধে জিততে গেলে বুথ কমিটির গুরুত্ব কতটা, তা ভাল করেই জানেন মুকুল রায়। তাই “বুথ যার, ভোট তার” এই সাড় তত্ত্ব কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে বুঝিয়েছেন মুকুল রায়। তার মতে, বুথ কমিটি না থাকলে ভোট কে করাবে? তাই বুথ কমিটি করতে হবে। তবে এখনও পর্যন্ত রাজ্যের প্রতি বুথে সেই বুথ কমিটিই করে উঠতে পারেনি বঙ্গ বিজেপি। রাজ্যে প্রায় ৭৭ হাজার বুথ আছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী বিজেপর বুথ কমিটি আছে মাত্র ৫৫ হাজার। অর্থাৎ প্রায় ২২ হাজার বুথে কোনোও বুথ কমিটি নেই। আর এই ২২ হাজারেই “সেঞ্চুরি” করে দেবে তৃণমূল। মুকুল রায়ের বক্তব্য, ” বুথ কমিটি না থাকলে সব শেষ। সব লড়াই জলে যাবে। আমি তৃণমূল তৈরির আগে থেকেই ভোট করিয়ে আসছি। তাই জানি বুথ কমিটি থাকা কতটা জরুরী।” যদিও অমিত শাহ এর আগেই একাধিকবার এই বার্তা দিয়েছেন।  তারপরও এতে গুরুত্ব দেয়নি দিলীপ ঘোষেরা। বহু জায়গায় বুথ কমিটি তৈরি করতে পারেনি। তবে ৫৫ হাজার বুথের যে তথ্য কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে দেওয়া হয়েছে, তাও খতিয়ে দেখা প্রযোজন বলে মত মুকুল রায়ের। ইতিমধ্যে এই বিষয়ে কেন্দ্রীয় নেতা শিব্প্রকাশ ও অরবিন্দ মেনন সতর্ক করেছেন দিলীপ ঘোষদের।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button