কলকাতা

টাকা নিচ্ছে “টিম পিকে”, দলের কো-অর্ডিনেটরের হোয়াটস আপ ঘিরে তোলপাড়।

নিউজ বেঙ্গল ৩৬৫ ডেস্ক: এতদিন তৃণমূলের বিরুদ্ধে  অভিযোগ ছিল “কাটমানি”র। এবার সেই একই অভিযোগ উঠল  টিম পিকের বিরুদ্ধে। এমনকি নাম জড়িয়েছে ফিরহাদ হাকিম ও সৌমিক হোসেনেরও। আর  অভিযোগ যিনি তুললেন, তিনি আর কেউ নন, তৃণমূলের একটি বিধানসভার কো-অর্ডিনেটর। আর এর দায় এড়াতে ব্যাস্ত মুর্শিদাবাদ জেলা তৃণমূল নেতৃত্ব। ভরতপুর বিধানসভার পাশাপাশি ভরতপুর-2 ব্লকের তৃণমূল সভাপতি মহ: আজাহাররুদ্দিন সিজার। একটু খোলসা করে বলা  যাক। ৯৭৩২৩৯৫৪৫৮ এই মোবাইল থেকে একটি কথপোকথন সামনে আসতে শুরু হয়েছে চাঞ্চল্য।   এই নম্বর থেকে আজাহারউদ্দিন সিজার ও তার  বান্ধবীর মধ্যের একটি হোয়াটস আপ চ্যাট।  সেখানেই এই আর্থিক লেনদেনের বিষয়টি সামনে এসেছে( যদিও এর সত্যতা যাচাই করেনি নিউজ বেঙ্গল ৩৬৫)। সেখানে দেখা যাচ্ছে ভরতপুর  বিধানসভার এই কো-অর্ডিনেটর স্পষ্ট করে তার বান্ধবীকে লিখছেন, বিধায়ক হিসাবে টিকিট পাওয়ার পাশাপাশি  ব্লক সভাপতির পদ টিকিয়ে রাখতে লক্ষাধিক টাকা খরচ করেছেন তিনি। রাজ্যের পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমকে এই কারণে টাকা দিতে হবে। মোট ৯০ লক্ষ টাকার মধ্যে ৪০ লক্ষ টাকা আগে দেওয়া হয়েছে। পদ পাওয়ার পর দিতে হবে বাকী ৫০ লক্ষ টাকা। এমনকি “টিম পিকে” কে বিধায়ক হিসাবে তৃণমূলের টিকিট পাওয়ার জন্য দিতে হবে ২০ লক্ষ টাকা। আর আর্থিক সুবিধা দিতে হবে মুর্শিদাবাদ জেলার অন্যতম সংগঠক সৌমিক হোসেনকেও। আর এরপরই তোলপাড় সোশ্যাল মিডিয়া। তবে এই গোটা ঘটনায় রীতিমত টালমাটাল মুর্শিদাবাদ জেলা তৃণমূল। এমনকি এই আজাহারউদ্দিন সিজার সাংগঠনিক স্তরে নিজের যে পদাধিকার দাবী করছেন, তা আদৌ সঠিক নয় বলে দাবী জেলা চেয়ারম্যানের। এমনকি যার বিরূদ্ধে অভিযোগ সেই আজাহরুদ্দিন সিজারের দাবী এই গোটা এসএমএস ” ফেক”।  যার বিরুদ্ধে অভিযোগ, সেই আজহারুদ্দিন সিজারের বক্তব্য, ” পুরোটাই বানানো। আমাকে ও দলকে কালিমালিপ্ত করতে এটা করা হয়েছে। আমি ভরতপুর বিধানসভার কো-অর্ডিনেটর। তাই এই এভাবে চক্রান্ত করা হচ্ছে। এর পিছনে অধীরবাবুর হাত আছে। আমাদের দলের একাংশের সঙ্গে মিলে এটা করেছেন।” তবে তার উল্টো মত জেলা তৃণমূল চেয়ারম্যান সুব্রত সাহা। মুর্শিদাবাদ জেলার তৃণমূল চেয়ারম্যান সুব্রত সাহার মতে,” আমিও শুনেছি। তাতে মনে হয়েছে বিষয়টি ফেক না। তদন্ত করা হবে। সত্যি প্রমান হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” তবে এই আজারুদ্দিন সিজারকে ভরতপুর বিধানসভার কো-অর্ডিনেটর মানতে চাননি তিনি। অন্যদিকে সৌমিক হোসেনের বক্তব্য, ” সম্পূর্ণ মিথ্যে কথা বলছেন ওই ব্যাক্তিটি। ” অপরদিকে বিধানসভায়  কংগ্রেসের মূখ্য সচেতক মনোজ চক্রবর্তীর বক্তব্য, ” কে এক আজহারুদ্দিন না কে, তাকে বদনাম করতে যাবে অধীর চৌধুরী! উনাকে বুলুন পাগলা গারদে যেতে। আসলে চুরির কথা ফাস করে ফেলে এখন অন্যের ঘাড়ে দোষ চাপাচ্ছে।”

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button