কলকাতা
Trending

হাতের পুতুল হবেন না বলেই প্রধানমন্ত্রীর পদ পাননি প্রণব মুখার্জি।

নিউস বেঙ্গল 365, নিউজডেস্ক : বাংলার একটি ছোট গ্রাম থেকে লুটিয়েন দিল্লির ক্ষমতার অলিন্দের শিখরে বিরাজ করে চলে গেলেন ভারতীয় রাজনীতির চানক্য, কিন্তু রেখে গেলেন অনেক প্রশ্ন !কীর্ণাহারের অখ্যাত গ্রাম থেকে উঠে এসে বাংলায় এটি আঞ্চলিক দলে রাজনৈতিক জীবন শুরু করে ধাপে ধাপে পৌঁছে গিয়েছিলেন রাইসিনা হিলে ।প্রণববাবু কখনোই জননেতা ছিলেন না, কিন্তু তার অসাধারণ পান্ডিত্য ও বাগ্মিতায় চার দশকের উপর কংগ্রেস দলের নীতি নির্ধারণের চাবিকাঠি  ছিল তার হাতে। যদিও ইন্দিরা পরবর্তী জমানায় গান্ধী পরিবারের কাছ থেকে তিনি কখনোই যোগ্য সন্মান পাননি।মুখ বুঝে সহ্য করতে হয়েছে অনেক অপমান । 1984 সালে ইন্দিরা গান্ধীর মৃত্যুর পর রাজীব গান্ধী বিপুল ভোটে জয়লাভ করে মন্ত্রিসভা গঠন করেন প্রণব মুখার্জীর নাম তালিকায় না রেখে। রাজীব গান্ধীর মৃত্যুর পর কংগ্রেস যোগ্যতা থাকা সত্বেও এই বাঙালির নাম প্রধানমন্ত্রী হওয়ার বিবেচনায় আনেনি কেননা সোনিয়া গান্ধী বুঝে গিয়েছিলেন প্রণব মুখার্জি কখনোই তার হাতের পুতুল হবেন না, যেটা মনমোহন সিং হবেন। তাই 2004 সালে দিল্লির মসনদে মনমোহনকে বসিয়ে ক্ষমতার চাবি কাঠি নিজের হাতে রেখেছিলেন সোনিয়া। দলমত নির্বিশেষে আপামর বাঙালির হৃদয় সেদিন ভেঙে গেলেও তিনি কিন্তু নিজের কর্তব্যে অবিচল ছিলেন। দলের প্রতি আনুগত্য দেখিয়ে সেদিন তিনি বিদ্রোহের রাস্তায় হাঁটেননি, শুধুমাত্র কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় যোগদান করতে অস্বীকার করেছিলেন।নিজের আত্মজীবনীমূলক বই ‘দা কোয়ালিশন ইয়ার্স 1996-2012’ এ প্রণব মুখার্জি জানিয়েছেন, জহরলাল নেহেরুর সমসাময়িক কংগ্রেসের নীতি নির্ধারক কুমারস্বামী কামরাজ বলেছিলেন ‘নো হিন্দি, নো পিএম’ অর্থাৎ হিন্দি না জানলে কাওকে প্রধানমন্ত্রী করা যাবে না। প্রণববাবু ভালো হিন্দি জানতেন না তাই তিনি দুঃখপাননি। যদিও ইন্দিরা ও রাজীব গান্ধীর মৃত্যুর পর তৎকালীন কংগ্রেস দল বা ভারতে যোগ্যতার নিরিখে তার সমসাময়িক কেও ছিলেন না প্রধানমন্ত্রীর দৌড়ে ।কংগ্রেস দলের কর্মীদের অনেকেই বলেন, যোগ্যতা বলতে বোঝায় গান্ধী পরিবারের প্রতি আনুগত্য, সেটাই একমাত্র যোগ্যতা। 13তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সোনিয়া গান্ধী কখনোই চাননি প্রণব মুখার্জি রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হন। তার কাছে অনেক বেশি যোগ্য মনে হয়েছিল তৎকালীন উপরাষ্ট্রপতি হামিদ আনসারীকে। প্রণববাবুর ঘনিষ্ঠ বৃত্তে থাকা বেশ কিছু ব্যাক্তির কথায় জানা যায়, কিছুটা জেদ ও রাগের বসেই তিনি রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে কংগ্রেস দলের হয়ে দাঁড়ান এবং জয়লাভ করে প্রথম বাঙালি হিসাবে পাঁচ বছরের জন্য রাইসিনা হিলের বাসিন্দা হন। কিছুটা কাকতালীয় হলেও প্রণববাবু সক্রিয় রাজনীতি থেকে সরে আসার পর থেকেই কংগ্রেস দলের অবস্থা সঙ্গিন হতে শুরু করে এবং আজ এই মুহুর্ত্বে গান্ধী পরিবারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ শুরু হয়েছে।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button