কলকাতা

করোনা নিযে রাজ্যকে দেওয়া সার্টিফিকেট কি আদৌ রাষ্ট্রসংঘের? উঠছে একাধিক প্রশ্ন।

নিউজ বেঙ্গল ৩৬৫ ডেস্ক: খুব বেশীদিন নয়। সম্প্রতি তৃণমূলের তরফে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি খবর ছড়িয়ে পরে। সেই তথ্য অনুযায়ী, করোনা মোকাবিলার জন্য রাষ্ট্রসংঘের তরফে রাজ্যের ভূয়সী প্রশংসা করা হয়েছে। এমনকি প্রশাসনিক কাজেরও তারিফ করেছে রাষ্ট্রসংঘ। ইউএনও র তরফে মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূলের চিকিৎসক বিধায়ক ডা: নির্মল মাজিকে মানপত্রও দেওয়া হয়। ওই সংস্থাটি গোটা বিষয়টি নির্মল মাজিকে ই-মেইল মারফত জানিয়েছে ইউনাইটেড নেশন ওয়ার্ল্ড পিস অ্যাসোসিয়েশন। এমনকি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ইউনাইটেড নেশন ওয়ার্ল্ড পিস অ্যাসোসিয়েশন জাপানে তাদের শীর্ষ কার্যালয়ে ভাষণের জন্য আমন্ত্রণও জানিয়েছে। গোটা বিষয়টি নিয়েই ইতিমধ্যে তৃণমূলের তরফে ঢালাও করে প্রচারও শুরু করা হয়েছে। তবে এই স্বীকৃতি নিয়েই এবার প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। গোটা বিষয়টি নিয়েই ইতিমধ্যে তোলপার নেট দুনিয়া।

বিরোধীদের মতে, ইউনাইটেড নেশন ওয়ার্ল্ড পিস অ্যাসোসিয়েশন নামক এই সংস্থাটির সঙ্গে ইউনাইটেড নেশন বা ইউএনও-র আদৌ কোন যোগাযোগ নেই। এটি জাপানের একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা মাত্র। শুধুমাত্র নামের আগে ইউনাইটেড নেশন কথাটিই আছে। অভিজ্ঞ মহলের মতে, রাষ্ট্রসংঘের স্বাস্থ্য সংক্রান্ত বিষয় সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা( WHO) রয়েছে। তারাই এই নিয়ে যাবতীয় সিদ্ধান্ত নেয় । আর আলাদা করে “ইউনাইটেড নেশন ওয়ার্ল্ড পিস অ্যাসোসিয়েশন”(UNWPA) -এর নামক রাষ্ট্রসংঘের কোন শাখা সংগঠনে র নাম এর আগে কখন ও শোনা যায়নি। একটু খবর নিতে গিয়ে যে জানা গেল, এটি জাপানের একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা। তবে এই সংস্টাটির সঙ্গে রাষ্ট্রসংঘের অনুমোদন রয়েছে বলে দাবি করা হলেও, সংস্থার অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে এমন কোনও তথ্য পাওয়া গেল না।

শুধু তাই নয়। টুইটারে এই সংস্থার মাত্র ১৩ জন ফলোয়ার আছে। ফেসবুকে ফলোয়ার ৬৯৪ জন। ইনস্টাগ্রামে ৭১ জন। অথছ, সংস্থার দাবি, সারা পৃথিবীজুড়ে এদের কার্যালয় রয়েছে। এই সংস্থাটির কর্ণধার ফুসাও কিতাগাওয়া পেশায় একজন আইনজীবী। তিনি এই স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাটি শুরু করেন। বিভিন্ন দেশে তাদের প্রতিনিধি আছে। ভারতের হয়ে সংস্থার কাজ যিনি তদারকি করেন, তিনি পিংকি দত্ত। যিনি নিজে একজন তৃণমূল কর্মী। অথচ গুগল সার্চ করে জানা যাচ্চে ইউ এন ও র ইন্ডিয়া রিপ্রেসেনটেটিভ হলেন টি, এস থিরুমুর্তি( আই এ এস)। যাকে নিয়োগ করেছেন মহামহিম রাষ্ট্রপতি।

গোটা বিষয় টি নিয়ে ইতিমধ্যে একযোগে তৃণমূলকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছে বাম-কংগ্রেস-বিজেপি। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বাবুল-সুপ্রিয়র বক্তব্য, ” তৃণমূলের যা কালচার ওরা ঠিক সেটাই করেছে। আসলে ওরা সবাই মিথ্যে আর সস্তার রাজনীতিতে ব্যাস্ত। আসলে ওদের কাছে এর থেকে বেশী সততা আশা করা যায় কি? দেখুন ইউএনও বলতে কি বোঝে। ওরা তো ডুপ্লিকেশিতে বিশ্বাসী।” তৃণমূলকে তীব্র কটাক্ষ করেন বিধানসভায় কংগ্রেসের মূখ্য সচেতক মনোজ চক্রবর্তী। তার বক্তব্য, ” এত মিথ্যে শুনে মাথায় বাজ পড়ার মত অবস্থা। আসলে ওই দলের নেত্রীর তো সকালটাই শুরু হয় মিথ্যে দিয়ে। শুনেছি যমরাজও নাকি এখন খুব চিন্তায় পড়ে গিয়েছেন , কবে না যমরাজ মরে গিয়েছে বলে প্রচার করেও না পুরস্কার নিয়ে আসে।” গোটা বিষয় নিয়ে বাম পরিষদীয় দলনেতা সুজন চক্রবর্তীর বক্তব্য, ” আসলে দলটাই এখন চোর-চিটিংবাজে ভরে গিয়েছে। তাই এই ধরনের মিথ্যে প্রচার করাটাই স্বাভাবিক। দেখবেন এরপর দোকান থেকে সার্টিফিকেট কিনে এনে বলবে আমরা প্রাইজ পেয়েছি। একটা চিটিংবাজ দল।” তবে গোটা বিষয়টি নিযে তৃণমূলের তরফে কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button