সম্পাদকীয়

মৃত্যুনির্ভর রাজনীতিতে ক্রমশ অভ্যস্থ হয়ে উঠছে বঙ্গসমাজ।

নিউস বেঙ্গল 365, কলকাতা: বাম শাসনের শেষের দিকে মৃতদেহ নিয়ে মিছিল বা রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড শুরু হয়েছিল বাংলায়। ভিখারি পাসোয়ান থেকে শুরু করে কখনো রিজবানুর বা তাপসী মালিক, নয়তো হেমতাবাদের বিধায়ক। সবই অস্বাভাবিক মৃত্যু নিয়ে রাজনৈতিক দলাদলি লেগেই ছিল যা আজও চলছে রাজনৈতিক ফায়দা আদায়ের লক্ষ্যে। হাথরস কান্ড নিয়ে করোনা আবহে বিশাল মিছিলের সাক্ষী থেকেছে কলকাতা শহর। কিন্তু একজন কিংবদন্তির স্বাভাবিক মৃত্যু নিয়ে পশ্চিমবঙ্গবাসী টিভির পর্দায় বা সোশ্যাল মিডিয়ায় যা দেখলো তা কখনোই সমীচীন নয়। সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের মৃত্যুর পর তাঁর প্রতি যা যা দায়িত্ব বা কর্তব্য করার ছিল সরকারের, তা যথাযতভাবে পালন করেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। কিন্তু তারপরেও প্রশ্ন উঠে গেলো সৌমিত্রবাবুর অন্তিম শোভাযাত্রা নিয়ে! কোথাও বা কখনো মনে হয়েছে ‘ফেলুদা’র শেষ যাত্রায় ভোটের রাজনীতি হয়েছে!কিংবদন্তি অভিনেতা সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়কে শেষবারের মতো দেখার জন্য রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা জনগণকে তৃণমূল নেত্রী তথা পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী গাড়িতে বসে যেভাবে হাত নাড়াতে নাড়াতে গেলেন তা খুবই দৃষ্টিকটু লেগেছে। সরকারের সব সাধু প্রচেষ্টাকে জলাঞ্জলি দিয়ে ‘হাত নাড়ানো’কে মনে হয়েছে আগামী নির্বাচনের সুকৌশলী প্রচার যা ছিল সম্পূর্ণ অনভিপ্রেত। 2011 সালে নতুন সরকার ক্ষমতায় এসে আজীবন বামপন্থায় বিশ্বাসী সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়কে পাশে পেতে চেয়েছিলো। কিন্তু তিনি তা সবিনয়ে প্রত্যাখ্যান করায় কলকাতা ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল স্ক্রুটিনি কমিটি থেকে বাদ পড়েছিলেন। বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল নাট্যকার সুমন মুখার্জী পরিচালিত ও সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় অভিনীত নাটক ‘কিং লিওর’। কিন্তু ‘মাস্টারমশাই সত্যিই কিছু দেখেননি’। তিনি ছিলেন নিজের মতোই। কোনো অবস্থাতেই তিনি তাঁর নিজের অবস্থান থেকে সরে আসেননি। তাই তাঁর মৃত্যুর পর সোশ্যাল মিডিয়ায় উঠেছে ঝড়, শুরু হয়েছে গুঞ্জন। সোশ্যাল মিডিয়ায় বিভিন্ন মানুষের বিভিন্ন পোস্টে দেখা যাচ্ছে ফেলুদার মৃত্যু হয়েছে আগেরদিন অর্থাৎ 14 তারিখ রাত 12.20 মিনিটে। সৌমিত্রবাবুর মেয়ে পৌলোমী বোসকে নাকি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ফোন করে তেমনটাই জানিয়েছিল বলে কেও কেও লিখছেন। এরপরই নাকি পৌলোমী মুখ্যমন্ত্রীকে খবরটা জানান এবং পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে ফোন করে মৃত্যুর খবর প্রকাশ করতে বারণ করেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় গুঞ্জন তৃণমূল নেত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির কালীপুজো থাকায় পরদিন অর্থাৎ 15 নভেম্বর দুপুরে পৌলোমী বোস মুখ্যমন্ত্রীকে পাশে নিয়ে সৌমিত্রবাবুর মৃত্যুর খবর প্রকাশ করেন। যদিও এই খবরের সত্যতা যাচাই করে দেখেনি নিউস বেঙ্গল 365। সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকেই লিখতে শুরু করেছেন যে, আগামী বিধানসভা নির্বাচনে সৌমিত্রবাবুর মেয়ে যদি তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী হন তাহলে সেটা অস্বাভাবিক হবে না। যদিও এর আগেও মৃত্যুর পরে পরিবার থেকে নির্বাচনে প্রার্থী হতে দেখেছে এই বাংলা। তাই ফেলুদার মৃত্যুর পর তাঁকে নিয়ে রাজনীতি হচ্ছে বা হবে সেকথা সহজেই অনুমেয়।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

seventeen − twelve =

Back to top button