দেশ

রাজ্যে রাজনৈতিক হিংসা, অনাচার চলছে, অথচ ঘুমিয়ে রয়েছে সর্বোচ্চ প্রশাসন: জগদীপ ধনকড়।

নিউজ বেঙ্গল ৩৬৫ ডেস্ক :  দিল্লিতে আজই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ’র সঙ্গে রাজ্যের পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠক করেন রাজ্যপাল জগ্দীপ ধনকর। সেখানেই কার্যত রাজ্যের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন তিনি। বৈঠকের পর সাংবাদিক সম্মেলন করে একদিকে  রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী–সহ রাজ্য প্রশাসনকেও কড়া আক্রমণ করতে দেখা গেল রাজ্যপালকে। আগামী রবিবার অর্থাৎ ১ নভেম্বর থেকে গোটা নভেম্বর মাস  দার্জিলিংয়ে থাকবেন পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়। তার আগে বৃহস্পতিবার দিল্লিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। তবে এদিন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে কী ব্যাপারে তাঁর আলোচনা হল তা নিয়ে কিছু বলতে না চাইলেও, পরে সংবাদমাধ্যমের কাছে যে ভাবে রাজ্য প্রশাসনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করলেন, তাতে স্পষ্ট এবার সরাসরি রাজ্যের সঙ্গেই সম্মুখ সমরে নেমে পড়লেন  রাজ্যপাল। সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার পাশাপাশি এদিন পাল্টা  সংবাদমাধ্যমের কাছে তাঁর প্রশ্ন, ‘‌পশ্চিমবঙ্গের মতো দেশে আর কোনও রাজ্য আছে কিনা যেখানে আইপিএস, আইএএস–রা রাজনৈতিক ভৃত্য হিসেবে কাজ করেন?” তবে এখানেই শেষ না। রাজ্য প্রশাসন যে রাজনৈতিককরণ হয়েছে, তা বোঝাতে রাজ্যপাল বলেন, ‘‌মুখ্যসচিব, নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের দিয়ে রাজনৈতিক কাজ করানো হচ্ছে। আমলারা এখানে রাজনৈতিক দলের অনুগত।’‌ বিশেষ সূত্রে খবর, এদিন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে রিপোর্ট দিয়েছেন রাজ্যপাল। বৈঠকের পর সাংবাদিকদের  বৈঠকে তিনি বলেন, ‘‌রাজ্যে রাজনৈতিক হিংসা, অনাচার চলছে। অথচ ঘুমিয়ে রয়েছে সর্বোচ্চ প্রশাসন।’‌ তাঁর কথায়, ‘‌পশ্চিমবঙ্গে যা হচ্ছে তা সংবিধানে উল্লেখ করা গণতন্ত্রের বিপরীত। রাজ্যে সংবিধান ভেঙে পড়ছে বলে জানিয়ে আমি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চিঠি দিয়েছিলাম। জানিয়েছিলাম যে এই পরিস্থিতি আমাদের একত্রিত হয়ে সামলানো উচিত। কিন্তু উত্তর পাইনি। পশ্চিমবঙ্গে যেভাবে সংবিধান অমান্য করে প্রশাসন চলছে তা দেখে আমি অবাক। ” ডিজিপি–র কাছে ২৬ সেপ্টেম্বরের মধ্যে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলার অবনতি নিয়ে জবাবদিহি চেয়েও পাননি বলে অভিযোগ রাজ্যপালের। রাজ্যে পুলিশ–প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে এদিন সাংবাদিক সম্মেলনে রাজ্যপাল অভিযোগ করে জানান, ‘‌আল কায়দা পশ্চিমবঙ্গে নিজেদের ঘাঁটি গাড়ছে। ইতিমধ্যে কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। একের পর এক বেআইনি বোমা তৈরির কারখানায় পরিণত হচ্ছে পশ্চিমবঙ্গ।” দার্জিলিংয়ে একমাস গিয়ে থাকার ব্যাপারে এদিন এক সাংবাদিক জিজ্ঞেস করলে খানিক বিরক্ত হন রাজ্যপাল। তবে রাজ্যের বিরোধীতা করলেও সব শেষে এদিন তিনি বলেন, ‘‌আমি সমালোচনায় বিশ্বাস করি না। আমি পুনর্গঠনে বিশ্বাস করি।”

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button