দেশ

ষড়যন্ত্রের হয়নি। ‘প্রমাণের অভাবে’ বেকসুর খালাস বাবরি মামলার ৩২।

নিউজ বেঙ্গল ৩৬৫ ডেস্ক: বেকসুর খালাস ৩২ জন। বাবরি মসজিদ ধ্বংস মামলার রায় আডবাণী, জোশী সহ ৩২ জন অভিযুক্তই বেকসুর খালাস করে দিল সিবিআই আদালত। আদালতের পর্যবেক্ষণ-” বাবরি মসজিদের ঘটনা পূর্বপরিকল্পিত ছিল না।” আজ বাবরি মসজিদ ধ্বংস মামলার রায় ঘোষণা করে লখনউয়ের বিশেষ সিবিআই আদালত। সূত্রের খবর, এই রায় ঘোষনা করে ব বিচারকের বক্তব্য,” আচমকা ঘটেছে এই ঘটনা,” এই মামলায় অভিযুক্ত লালকৃষ্ণ আডবাণী, মুরলী মনোহর জোশী, উমা ভারতী-সহ মোট ৩২ জন। ২৮ বছর ধরে চলা মামলায় তাঁদের ভাগ্য নির্ধারণ হল। ১৯৯২ থেকে ২০২০। আঠাশ বছর ধরে চলা বাবরি মসজিদ ধ্বংস মামলার রায় ঘোষণা করে আদালত।এদিন রায় দানের সময় সিবিআই কোর্টের বিচারক আরও স্পষ্ট করে দিয়ে বলেন,” বাবরি ধ্বংস হয়েছিল বটে। কিন্তু কেউ ষড়যন্ত্র করে তা ভেঙে দেয়নি। জনতার রোষে ওই বিতর্কিত নির্মাণ ভেঙে পড়েছে, এর নেপথ্যে কোনও রাজনৈতিক নেতার উসকানি কাজ করেনি।” আর এই পর্যবেক্ষনেই লখনউয়ের বিশেষ সিবিআই আদালত বুধবার বাবরি ধ্বংস মামলার ৩২ জন জীবিত অভিযুক্তকেই বেকসুর খালাস করে দিল। পাশাপাশি আদালতের আরও বক্তব্য দীর্ঘ ২৮ বছরের তদন্ত শেষ হলেও এই ৩২ জনের বিরুদ্ধে সিবিআই এমন কোনও প্রমাণ বা নথি পেশ করতে পারেনি, যাতে প্রমাণ হয় বাবরি ধ্বংসের নেপথ্যে কোনও রাজনৈতিক নেতার উসকানি ছিল। এর ফলে এই দীর্ঘ ২৮ বছর পর এল কে আডবানী , মুরলীমনোহর যোশী, কল্যাণ সিং, উমা ভারতী, সাক্ষী মহারাজের মতো তাবড় বিজেপি নেতারা বেকসুর মুক্তি পেয়ে গেলেন। বাবরি ধ্বংস মামলায় আডবানীদের মুক্তির কারন ব্যাখ্যা করতে গিয়ে আদালতের বক্তব্য, সিবিআই এই মামলার অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে নাকি কোনও প্রামাণ্য নথি জোগাড় করতে পারেনি। আর সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য আদালতে গ্রহণযোগ্য নয়। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই মামলায় প্রত্যক্ষদর্শীর সংখ্যা যেখানে প্রায় ৩০-৪০ হাজার। সেখানে সিবিআই মাত্র ১০২৬ জনকে সাক্ষী হিসেবে পেশ করার অনুমতি চেয়েছিল। এদের মধ্যেও মাত্র ৩৫১ জন আদালতে গিয়ে সাক্ষী দিয়েছেন। সেই সঙ্গে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বেশ কিছু নথি এবং ভিডিও ফুটেজ পেশ করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। আদালতে পেশ করা হয়েছিল সেখানে উপস্থিত সাংবাদিক এবং পুলিশকর্মীদের বক্তব্যও। কিন্তু এর কোনও কিছুতেই প্রমাণ হয়নি যে অভিযুক্তরা কোনওরকম অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রে যুক্ত ছিলেন। লখনউয়ের সিবিআই আদালতের এই রায়ের পর এবার হাই কোর্টে আবেদন করার সুযোগ থাকছে সিবিআইয়ের কাছে। তবে, সিবিআই সেটা করবে কিনা স্পষ্ট নয়।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button