বাংলাদেশ

উন্নত চিকিৎসার জন্যে বিদেশ যাওয়া নিয়ে খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রীর দ্বারস্থ হবেন।

নিউস বেঙ্গল 365, ঢাকা:  বাংলাদেশের আইন মন্ত্রণালয় বেগম খালেদা জিয়ার জামিনের মেয়াদ আরও ছয় মাস বৃদ্ধি করার সুপারিশ করেছে। চলতি বছরের ২৫ মার্চ সরকারের বিশেষ বিবেচনায় ৬ মাসের জামিন পাওয়া বেগম খালেদা জিয়ার জামিনের মেয়াদ শেষ হবে আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর। বেগম খালেদা জিয়ার ছোটভাই শামীম এস্কান্দার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে জামিনের মেয়াদ বৃদ্ধি এবং তাকে  উন্নত চিকিৎসার জন্যে বিদেশে যাবার অনুমতি জন্য জামিনের আবেদন জমা দিয়েছিলেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আবেদনটি পাঠিয়েছিল আইন মন্ত্রণালয়ে এবং আইন মন্ত্রণালয় আইনগত মতামতে তাঁর জামিন একই শর্তে আরও ছয় মাস বৃদ্ধি করা যায় বলে সুপারিশ করেছে।
এই আবেদনটি এখন প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের জন্যে পাঠানো হবে এবং প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন সাপেক্ষে সরকারি আদেশ হিসেবে জারি করা হবে। প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন পেলে বেগম খালেদা জিয়ার জামিনের মেয়াদ আরও ৬ মাস, অর্থাৎ আগামী ২৪ মার্চ পর্যন্ত বৃদ্ধি হবে। বেগম জিয়ার পরিবার সূত্রে জানা গেছে যে, আইন বিভাগ যে সুপারিশ করেছে সেই সুপারিশে তারা সন্তুষ্ট নয়। উল্লেখ্য বেগম খালেদা জিয়া দুটি দুর্নীতির মামলায় দণ্ডিত হয়ে  ১৭ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হয়েছেন। ২০১৮ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি জিয়া এতিমখানা দুর্নীতি মামলায় দণ্ডিত হওয়ার পর তাকে কারাগারে প্রেরণ করা হয় এবং ২৫ মাস কারাভোগের পর বিশেষ বিবেচনায় তিনি বর্তমানে জামিনে আছেন। ২৫ মার্চ ২০২০ তে যখন বেগম খালেদা জিয়াকে জামিন দেওয়া হয়েছিল সেই জামিনের আগে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেছিলেন বেগম খালেদা জিয়ার পরিবারের একাধিক সদস্য। তারা প্রধানমন্ত্রীর কাছে অনুকম্পা ভিক্ষা করেছিলেন। আদালতের নির্দেশ মত বেগম খালেদা জিয়া জামিনের শর্ত ভালোভাবেই মেনে চলেছেন বলে সরকারের নীতিনির্ধারকরা মনে করেন। বিশেষ করে তিনি তার বাসা থেকে বের হননি, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করেননি, কোন বক্তব্য -বিবৃতি দেননি। যেহেতু তিনি জামিনের শর্ত মেনেছেন। সেজন্যই আইন মন্ত্রণালয় মনে করছেন যে, শর্ত ভঙ্গ না করার প্রেক্ষিতে তাকে আরও ৬ মাসের জামিন দেওয়া যেতে পারে। বেগম খালেদা জিয়ার পরিবারের সদস্যরা বলছেন যে  তাঁর অসুস্থতার চিকিৎসা করান মূলত লন্ডন আর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে। কিন্তু জামিন পাওয়ার পর করোনা মহামারীর প্রকোপের কারণে বেগম খালেদা জিয়ার বিদেশ যাওয়ার সুযোগ হয়নি, দেশেই চিকিৎসা নেওয়া হয়েছে এবং মানসিক চিকিৎসার উন্নতি ছাড়া তাঁর শারীরিক অবস্থার কোন উন্নতি হয়নি বলেও বেগম জিয়ার পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে। এইজন্যেই তারা বেগম খালেদা জিয়াকে বিদেশে নিয়ে যেতে চাইছেন। আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক বলেছেন যে, বেগম খালেদা জিয়ার পক্ষ থেকে যে আবেদন করা হয়েছে সেই আবেদনে কোথাও তাকে বিদেশে নেওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়নি। এদিকে বেগম খালেদা জিয়ার পরিবারের সদস্যরা বলছেন তারা এই বিষয়টি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলাপ করবেন এবং প্রধানমন্ত্রীর অনুকম্পা ভিক্ষা করবেন। এই ব্যাপারে খালেদা জিয়াও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলতে পারেন বলে বেগম খালেদা জিয়ার পরিবারের একজন সদস্য আভাস দিয়েছেন। কিন্তু, বেগম খালেদা জিয়া কথা বলুক বা না বলুক, তাঁর বিদেশ যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে বেগম খালেদা জিয়ার পরিবারের সদস্যরা যে প্রধানমন্ত্রীর দ্বারস্থ হবেন এবং প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করবেন তা মোটামুটি নিশ্চিত।শেষ পর্যন্ত বর্তমান প্রধানমন্ত্রী প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে বিদেশ যেতে দেবেন কিনা সেটা যেমন দেখার বিষয়, পাশাপাশি এই ধরণের দণ্ডিত অপরাধীর জামিন স্থগিত করে তাকে বিদেশ যাওয়ার অনুমতি দেওয়ার আইনগত বৈধতা আছে কিনা সেটাও একটি বিবেচনার বিষয় বলে মনে করছেন সরকার সংশ্লিষ্টরা।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button